রাজনীতি

করোনা দুর্যোগে অমানবিক আচরণ করছে নির্বাচন কমিশন: ফখরুল

এখনই সময় :

দেশে করোনাভাইরাস দুর্যোগের সময়ে নির্বাচন স্থগিত না করে কমিশন জনগণের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার বিকালে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

ফখরুল বলেন, করোনাভাইরাসের আতংকের কারণে জনগণের কাছ থেকে, বিভিন্ন জায়গা থেকে ইতিমধ্যে নির্বাচন বন্ধ করার কথা এসেছে। কিন্ত নির্বাচন কমিশন বলছে, ২১ তারিখে যে নির্বাচনগুলো আছে তা হবেই এবং ২৯ তারিখের নির্বাচনের ব্যাপারে ২১ তারিখ সিদ্ধান্ত নেবে।

‘আমরা এটাকে একেবারেই একটা একপেশে সিদ্ধান্ত মনে করি এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বিবর্জিত, জনগণের যে আশা-প্রত্যাশা যে, এই দুর্যোগের সময়ে কমিশন মানবিক আচরণ করবে তারা সেটা করছেন না বরং অমানবিক আচরণ করছেন।’

তিনি বলেন, আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আহবান জানাচ্ছি, কমিশন তাদের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাহার করে জনগণের স্বার্থে, মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থে এই নির্বাচনগুলোকে আপাতত স্থগিত রাখবেন। পরবর্তীতে নির্বাচনে তারিখ ঘোষণা করা যেতে পারে।

ফখরুল বলেন, ‘এমনিতে ভোটারের পারসেন্টেজ যেটা গত নির্বাচনে দেখেছি ৮-৯% এর বেশি আসবে না। সেই ক্ষেত্রে এই করোনাভাইরাসের কারণে ভোটাররা কত পারসেন্ট আসবে, ভোটের টার্ন আউট কী হবে, সেটা আমরা সবাই অনুমান করতে পারি’।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের আদালতগুলোতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের ভিড় হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলায় যারা আসামি তাদের আসতে হয়, হাজিরা দিতে হয়। প্রায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। ৩০ জন বিচারক ইতিমধ্যে কোয়ারেন্টাইনে চলে গেছেন। ৩০ জন বিচারক যদি কোয়ারেন্টাইনে যান, সেক্ষেত্রে এটা পরিষ্কার আদালতগুলো এই ভাইরাসের সংক্রমনটা বেশি হচ্ছে। ’

‘আমরা সেই কারণে আহ্বান জানাচ্ছি, এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে, তাদের জীবনের কথা চিন্তা করে আদালতগুলো আপাতত কিছু দিন বন্ধ রাখা প্রয়োজন। আমাদের আহ্বান থাকবে, আদালতের কার্যক্রম স্থগিত রাখা। আমরা আশা করব, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা দেশের কথা চিন্তা করে, জনগণের কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেবেন।’

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close