সারাদেশ

চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪৯ জন হোম কোয়ারেন্টিনে, না মানলে ব্যবস্থা

এখনই সময় :

নভেলা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিদেশ থেকে আসা সব যাত্রীকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। যারা এই সিদ্ধান্ত মানবেন না তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড বা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড দিতে পারেন সংশ্লিষ্ট রোগীকে।

আজ সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মন্ত্রীসভার গৃহীত সিদ্ধান্ত সমূহের বিষয়ে অবহিত করার পর আলোচনা হয়। এতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, বিদেশফেরত অনেকেই হোম কোয়ারেন্টিন মানছেন না। তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশছেন। এই কারণে করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে বিদেশফেরত যাত্রীদের অবশ্যই হোম কোয়ারেন্টিন মানতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেল জরিমানাসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অফিসার ইনচার্জ স্বাস্থ্য বিভাগকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবেন। সেখানে সমন্বিত অভিযান হবে।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নুরুল আমিন নিজামী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. জাকির হোসেন খান, চট্টগ্রাম মহানগরীর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আমেনা বেগম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) গাজী গোলাম মাওলা, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস প্রমুখ।

সভায় জানানো হয়, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম বন্দর ও কুমিল্লা স্থল বন্দর দিয়ে রবিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ১৯৭ বিদেশফেরত যাত্রী দেশে প্রবেশ করেছেন। তাদের সবার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে।

সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ) হাসান শাহরিয়ার জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর ফ্ল্যাট বাড়ি এবং হাউজিং গুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে কে কোথা থেকে আসছে থাকছেন, সেটা কারো নজরে থাকছে না। এই বিষয়ে তিনি পৃথকভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এরপর নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, মঙ্গলবার থেকেই নগরীর প্রতিটি থানা পুলিশের উদ্যোগে মাইকিং করে সতর্ক করা হবে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন এবং জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে প্রচারণামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে।

সভায় কালের কণ্ঠ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন জানান, চট্টগ্রামে এই মূহুর্তে কেউ আইসোলেশনে নেই। তবে হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও রেলওয়ে হাসপাতাল নির্ধারণ করা হয়েছে কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close