সারাদেশ

অন্যের সঙ্গে সহবাসে নারাজি স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করলেন স্বামী

এখনই সময়:

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে অন্যের সঙ্গে সহবাসে রাজি না হওয়ায় স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে দিয়েছেন স্বামী আমিরুল ইসলাম (৪৭)। শনিবার বিকেলে উপজেলার মিস্ত্রিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন নির্যাতিতা নারী। দুপুরে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্ত আমিরুল ইসলাম মৃত ফতে আলীর ছেলে। তার বাবার বাড়ি কুষ্টিয়া জেলায়। আমিরুলের স্ত্রী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার কাঞ্চনপুর গ্রামের সোরাপ আলী মন্ডলের মেয়ে। তাদের সংসারে সম্পা (১১), চম্পা (৮) দুই মেয়ে ও রাব্বী হাসান নামে ১৩ মাস বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, আমিরুল তার স্ত্রীকে প্রায় শারীরিক নির্যাতন করেন। বেশির ভাগ সময় বাড়ির গেট বন্ধ করে শরীরে কাপড়বিহীন অবস্থায় লাঠি দিয়ে পেটায়। সে জন্য তার বাড়িতে কোনো মানুষ যায় না। তার নির্যাতনের সময় কেউ বাধা দিলে তার নামে আমিরুল স্ত্রীকে জড়িয়ে মিথ্যা বদনাম দিতেন।

ভুক্তভোগী নারী জানায়, তার স্বামী আমিরুল বেশ কয়েকদিন থেকে তাকে শারীরিক নির্যাতন করত এবং অন্য পুরুষের সাথে সহবাসের কুপ্রস্তাব দিত। এমন প্রস্তাবে রাজি না হলে নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দিত এবং খাওয়া-দাওয়ার খরচ বন্ধ করে দিত। এমন যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গত ৭ মার্চ শনিবার বালিয়াডাঙ্গীতে ননদের বাড়িতে বিচার দিতে গেলে সেখানে স্বামী আমিরুল উপস্থিত হয়। সেখান থেকে জোর করে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং হাত-পা বারান্দায় পিলারের সাথে বেঁধে ব্লেড দিয়ে তার মাথা ন্যাড়া করে দেয়। তার কান্নার শব্দ শুনতে পেরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আমিরুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, নির্যাতনের বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিচার দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। তার স্বামী আমিরুলের বিচার এলাকায় কেউ করতে চায় না। বর্তমানে আমি তিন সন্তানকে নিয়ে ননদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। আমার সাথে যা ঘটেছে তার বিচার চাই।

প্রতিবেশী হালিমা বেগম বলেন, আমিরুল তার স্ত্রীকে প্রায়ই নির্যাতন করত। কারো নিষেধ সে মানত না। গত শনিবার বিকেলে আমিরুল তার স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে দিয়ে মোবাইলে রেকর্ড করছে। এ সময় তাকে দিয়ে জোরপূর্বক রেকর্ড করে নিয়েছে যে, তার মাথা সে নিজেই ন্যাড়া করেছে। ঘরের দরজা লাগানো ছিল তাই ভেতরে যেতে পারিনি, ছিদ্র দিয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য দেখতে হয়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি হাবিবুল হক প্রধান জানান, এ বিষয়ে স্বামী আমিরুল ইসলামকে আসামি করে নির্যাতিতা নারী রোজিনা মঙ্গলবার সকালে বালিয়াডাঙ্গী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযুক্ত আমিরুল ইসলামকে দুপুরে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার সত্যতা উদ্‌ঘটনে পুলিশ তদন্ত করছে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close