স্বাস্থ্য

করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাস থেকে কীভাবে বাঁচবেন

এখনই সময় :

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ। প্রতিদিন এর সংখ্যা ক্রমেই বেড়েই চলেছে। মৃত্যুর হারও তারসঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। করোনা ভাইরাস এখন আতঙ্কের সমার্থক৷ চুলের থেকেও প্রায় ৯০০ গুণ সূক্ষ্ম এবং অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে মানবদেহে৷

নতুন এই ভাইরাস নিয়ে মানুষের মধ্যে এখন প্রবল ভীতি, উৎকন্ঠা৷ বিশেষজ্ঞরাও প্রতিনিয়ত বোঝার চেষ্টা করছেন যে, কীভাবে এই ভাইরাস সংক্রমিত হচ্ছে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে৷ সাধারণের মনে জন্ম নিয়েছে হাজারো প্রশ্ন৷ করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাস থেকে কীভাবে বাঁচবেন।

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কোন ব্যক্তির সংস্পর্শে আসলে অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে চারটি ফ্যাক্টর কাজ করছে এথানে৷ প্রথমত, আক্রান্তের কত’টা কাছে কেউ আসছে?, দ্বিতীয়ত, কত’টা সময় সে থাকছে, তৃতীয়ত, নিজের মুখে সে কতবার হাত দিচ্ছে, চতুর্থ এবং অত্যন্ত গুরুত্বর্পূণ বিষয় এখানে বয়স এবং স্বাস্থ্য৷

করোনা ভাইরাস আক্রান্তের থেকে বেশ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ারের মতে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখলে ভাল৷ অন্যদিকে আবার দ্য সেন্টার্স ফর ডিসিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বলছে ৬ ফুটের দূরত্ব বজায় রাখলেও ঝুঁকি থেকে যায়৷

করোনা ভাইরাস ভাইরাল ড্রপলেট। এটি একটি ভাইরাল কণা সমৃদ্ধ ড্রপলেট৷ একটি ভাইরাস অত্যন্ত ক্ষুদ্র “কোডিপেনডেন্ট মাইক্রোব” যেটি একটি কোষকে আকৃষ্ট করে৷ সেখান থেকে কোষান্তর হয়৷ এটাই ভাইরাসের জীবনধারা৷ এমনটাই বলছেন কর্নেল ইউনির্ভাসিটি কলেজ অফ ভেটেনারি মেডিসিনের ভাইরোলজি অধ্যাপক গ্যারি হুইটাকার৷ “নেকেড” ভাইরাস মিউকাস বা স্যালাইভার ড্রপলেট ছাড়া কোথাও যেতে পারে না৷

সাধারণত ভাইরাল ড্রপলেট আসে কীভাবে? এটি মিউকাস ও স্যালাইভা ড্রপলেট মুখ এবং নাক থেকে নিঃসৃত হয়৷ সেটার মাধ্যম কাশি, হাঁচি এবং হাসি হতে পারে৷ এমনকী গান গাওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া ও কথা বলার মাধ্যমেও তা হতে পারে৷

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লক্ষ্য করা গেছে, করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের কাশি এবং জ্বর হয়েছে৷ আবার এমনও উদাহরণ আছে যে, আক্রান্তরা আদৌ অসুস্থ হননি৷ শ্বাসজনিত সংক্রামক ভাইরাসটির পোশাকি নাম COVID-19৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে যারা করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে তারা অবধারিতভাবেই অসুস্থ হয়েছে৷

আশেপাশের কাউকে কাশতে দেখলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। ভাইরাল কণা দেওয়াল কিম্বা গ্লাসের মধ্যে দিয়ে যেতে পারে এরকম কোনও প্রমাণ নেই৷ কিন্তু আক্রান্ত পড়শির হাঁচি যদি কোনও রেলিং বা দ্রব্যের ওপর এসে পড়ে এবং সেই জায়গা র্স্পশ করলে সম্ভাবনা থেকেই যায়৷ যে ঘরের মধ্যে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল রয়েছে, সেই ঘরের থেকে সাধারণ খোলা জায়গা অনেক বেশি ভয়ের করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার৷ এমনটাই মত হার্ভাড গ্লোবাল হেল্থ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্ট ডাক্তার আশিস কুমার ঝা-র৷

যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। করোনা ভাইরাস যেহেতু এখনও পর্যন্ত সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড নয়, ফলে যৌন সঙ্গমের ক্ষেত্রে ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ে সেভাবে ভয় থাকছে না৷ যদিও এ ব্যাপারে কিছু দিনের মধ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাবে৷ কিন্তু চুম্বনের মাধ্যমে অবশ্যই সংক্রমণ হতে পারে৷

করোন ভাইরাস আক্রান্তদের সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া নিরাপদ নয়। যদি কোনও করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তি খাবার র্স্পশ করে, বা অনেকে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে সেক্ষেত্রে ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না৷ কিন্তু খাবার বারবার গরম করে খেলে ভাইরাস মরে যায়৷ আর এখনও পর্যন্ত খাবারের মাধ্যমে ভাইরাস সংক্রমণের দৃষ্টান্ত নেই৷

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মোবাইল ফোনের স্ক্রিনের মতো কঠিন পদার্থ এ ভাইরাস সংক্রমণের একটি সম্ভাব্য মাধ্যম। কোনোভাবে এই ভাইরাসের জীবাণু এসব পদার্থের সংস্পর্শে এলে টানা এক সপ্তাহ পর্যন্ত থেকে যেতে পারে সেখানে।

করোনাভাইরাস শুধু মানব শরীরে নয়, সুপ্ত অবস্থায় থেকে যেতে পারে মোবাইলের স্ক্রিনের মতো কঠিন পদার্থের সঙ্গেও।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন- কাশি, সর্দির মাধ্যমে হ্যান্ডেল, হ্যান্ডসেটের মতো পদার্থে ছড়িয়ে পড়তে পারে করোনার জীবাণু। তা এক সপ্তাহ পর্যন্ত সেখানে থেকে যেতে পারে।

যেকোনো দেশের নগদ অর্থের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। তবে পলিমার নোট এক্ষেত্রে কার্ড ও হাতলের মতই কাজ করে। সেক্ষেত্রে অনেক দেশ আলট্রাভায়োলেট লাইট বা উচ্চ তাপমাত্রা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাংক নোটগুলো জীবাণুমুক্ত করছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তারের জন্য ফোন পেট্রি ডিশ (ল্যাবরেটরিতে ব্যবহৃত এক ধরনের ছোট গোল স্বচ্ছ পাত্র) হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

এ জন্য দিনে দুবার অ্যালকোহল মিশ্রিত টিস্যু দিয়ে ফোনের স্ক্রিন পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সাউথহ্যাম্পটনের অধ্যাপক উইলিয়াম কেভিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আপনি হাত ধুয়ে নিলেন ঠিকই, কিন্তু যখন স্মার্টফোন নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করলেন এবং মুখে হাত নিলেন, তখনই আপনার শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এই ভাইরাস।’

দিনে দুবার ফোন জীবাণুমুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর অধ্যাপক পেটার হল। তার মতে, অন্তত দুপুরে খাওয়ার সময় ও চা পান করার সময় ফোন পরিষ্কার করা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ভাইরাস ধ্বংসের জন্য অ্যালকোহল মিশ্রিত টিস্যু (অ্যালকোহল ওয়াইপস) খুবই কার্যকর।

তবে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল বলছে, ফোনের স্ক্রিন জীবাণুমুক্ত করার জন্য মাইক্রোফাইবার ক্লথ (এক ধরনের তোয়ালে) ও সোপি ওয়াটার (সাবান পানি) ব্যবহার করা উচিত।

 

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close