সারাদেশ

মামলার রায়ে সাজা গাছ লাগানো, মুক্তিযুদ্ধের বই পড়া!

এখনই সময় :

পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সৃষ্ট সহিংসতার একটি মামলার রায়ে ইব্রাহিম হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে বই পড়, গাছ লাগানোসহ সদাচরণের জন্য সহায়ক ব্যতিক্রমী রায় দিয়েছেন মাগুরার মুখ্য বিচারিক আদালতের বিজ্ঞ হাকিম। গতকাল সোমবার বিকেলে এ আদালতের বিজ্ঞ হাকিম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান এ রায় দেন।

ব্যতিক্রমী ওই রায় প্রাপ্ত ইব্রাহিমের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার হরেকৃষ্ণপুর গ্রামে। সে এ গ্রামের মৃত হান্নান মোল্যার ছেলে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ আমীর আলী জানান, ২০১৭ সালে ১৫ সেপ্টেম্বর পারিবারিক একটি বিরোধের জের ধরে হরেকৃষ্ণপুর গ্রামে মোছাম্মাৎ সায়লা আক্তার নামে এক নারী আহত হন। এ ঘটনায় সায়লার ছেলে মোহাম্মদ রকি তার চাচাতো ভাই ইব্রাহিমসহ কামাল, চায়না বেগম নামে অরো দু’জনকে আসামি করে মহম্মদপুর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার সাক্ষ্য প্রমাণাদিতে চায়না বেগম নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে খালাস দেন। মামলার তদন্তকালে অপর আসামি কামাল হোসেন একই কারণে চার্জশিট থেকে অব্যহতি পান।

অন্যদিকে ৩২৪ ধারায় ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগের দণ্ডের পরিবর্তে ইব্রাহিমকে সংশোধনের জন্য ১৯৬০ সালের প্রবেশন আইনের ৪/৫ ধারায় একজন প্রবেশন কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ১ বছর সময়কালের জন্য ৭টি শর্তে সোমবার প্রবেশন মঞ্জুর করেন মাগুরার মুখ্য বিচারিক আদালতের বিজ্ঞ মহাকিম জিয়াউর রহমান।

এই প্রবেশনকালীন সময়ে বিজ্ঞ বিচারক ইব্রাহিমকে যে ৭টি শর্ত পূরণের শর্ত দিয়েছেন সেগুলো হলো, প্রবেশনকালীন সময় দোষী সাব্যস্ত আসামি কোনোরূপ অপরাধের সাথে জড়িত হবেন না বা একই ধরণের অপরাধ আর করবেন না। বাদীসহ অন্যদের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখবেন এবং ভালো ব্যবহার করবেন। আদালত এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তলব করলে যথাসময়ে উপস্থিত হবেন। কোনোরূপ মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করবেন না। কোনো খারাপ সঙ্গীর সাথে আর মিশবেন না। প্রবেশনকালীন সময়ে আসামি মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলো ও রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধাদের লেখা একাত্তরের চিঠি এ ২টি বইসহ ইসলাম ও নৈতিকতার ওপর আরো ২টি বই পড়বেন পাশাপাশি আগুনের পরশমনি সিনেমাটি দেখবেন। সেইসাথে আসামি পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হিসাবে ২টি বনজ ও ৩টি ফলজ ৫টি গাছ লাগাবেন।

প্রবেশনার আসামি ইব্রাহিম প্রবেশনের কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে বা তার আচরণ সন্তোষজনক না হলে তার প্রবেশন আদেশ বাতিল করা হবে এবং অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডাদেশ ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করবেন। প্রবেশনার কর্মকর্তা প্রতি তিনমাস অন্তর পরপর শর্ত প্রতিপালন ও অগ্রগতি সম্পর্কে রিপোর্ট দাখিল করবেন।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close