লাইফষ্টাইল

পেটের চর্বি গলানোর প্রাকৃতিক উপায়

এখনই সময় :

পেটের অতিরিক্ত মেদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় নারী-পুরুষ সবাই। চর্বি বা ফ্যাটের কারণে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যায় পড়েন। সাধারণত চর্বি ফ্যাট হলো এক ধরনের এডিপোজ টিস্যু। এই টিস্যুগুলো তৈরি হয় এডিপোজ কোষ দিয়ে যা আমাদের দেহ দৈনন্দিন কাজে কিছুটা ব্যবহার করে। এই কোষগুলোর শক্তি মূলত জমা থাকে এমন সময়ের জন্য, যখন হয়তো আমরা প্রতিদিন তিন বেলা খেতে পারবনা। সে সময় দেহ এই টিস্যুগুলোকে কাজে লাগায়।

এডিপোজ কোষ আবার দুই ধরনের হয়, সাদা আর বাদামী। সাদা কোষের কাজ প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য শক্তি সঞ্চয় করা আর বাদামীগুলোর কাজ হলো আমাদের দেহকে উষ্ণ রাখা।

দৈহিক গঠন অনেকখানিই নির্ভর করে আমাদের জিনের উপরে। তাই কারো অতিরিক্ত চর্বি জমা হয় পেটে আর কারো হয় পশ্চাতদেশে। আর এই অতিরিক্ত চর্বি হলো সাদা আর বাদামী এডিপোজ কোষের সমন্বয়।

পেটে অতিরিক্ত চর্বি জমলে আমাদের হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেয়। এটা এড়ানোর উপায় একটাই, ব্যায়াম আর পরিমিত খাবারের সাহায্যে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা।

আর এজন্যে সবচেয়ে ভালো পরামর্শ হলো প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল, চর্বিবিহীন মাংস, দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম আর হোলগ্রেইন শর্করা খাওয়া। সেই সঙ্গে চালিয়ে যেতে হবে ব্যায়াম। আর দেহকে রাখতে হবে কর্মক্ষম। তবে কিছু কিছু খাবার গ্রহণে আপনার শরীর থেকে অতিরিক্ত চর্বি খুবই দ্রুততার সঙ্গে বের করবে। শরীর থাকবে সুস্থ এবং ওজনও কমবে। খাবারগুলো পরিমিতভাবে দৈনিক খেতে পারেন।

আদা-লেবু-মধুর মিশ্রণ

শরীরের ক্ষতিকর টক্সিন উপাদান বের করতে বিশেষ এই পানীয়টি সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এটি খেলে পেটে মেদ জমবে না। উরু, পেট ও কোমরের চর্বি দ্রুত গলাতে পারে এই পানীয়। এছাড়াও এই পানীয়টির বিশেষত্ত্ব হলো এটি ঠাণ্ডা-কাশি, হজমের সমস্যায় কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। মাত্র দুই থেকে তিনটি উপাদান দিয়েই এই পানীয়টি তৈরি করতে পারবেন। আদা কুচি, আধা কাপ পানি, লেবুর রস, মধুর মিশ্রণের মাধ্যমে। একটি প্যানে আধা কাপ পানি নিয়ে তার মধ্যে আদা কুচি মিশিয়ে পাঁচ থেকে দশ মিনিট ফুটিয়ে নিন। এবার চুলা বন্ধ করে মিশ্রণটি কাপে ঢেলে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে চায়ের মতো ধীরে ধীরে পান করুন। দিনে অন্তত একবার হলেও এই পানীয়টি পান করুন। অবশ্যই খাওয়ার আধা ঘণ্টা পূর্বে এটি পান করুন।

উচ্চ প্রোটিন নিম্নকার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার

ওজন কমানো নিয়ে পুরো বিশ্বতে উচ্চ প্রোটিন খাবার এবং নিম্ন কার্বোহাইড্রেট থাকা খাবারের চাহিদা বেড়ে গেছে। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং অতিরিক্ত মেদ কম করতে সাহায্য করে। এছাড়া প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার আপনার রক্তে শর্করা মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রোটিনে সমৃদ্ধ এবং নিম্ন কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবারগুলো খেতে পারেন। প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারগুলো পেটের চর্বি গলানোর প্রাকৃতিক উপায়।

ডিম

আপনার ব্রেকফাস্টের প্রিয় খাবার এ আছে প্রোটিন। একটি সিদ্ধ করা ডিমে কোনো কার্ব থাকে না এবং ১৩গ্রাম প্রোটিনের লাভ নিতে পারবেন। ডিমে কোনো কার্ব থাকে না।

আখরোট

১০০ গ্রাম আখরোটে থাকে ১৫ গ্রাম প্রোটিন। ভাল প্রোটিনের জন্য এই খাবারটি খেতে পারেন।

টফু

টফু ও পনির দেখতে অনেকটা একই রকম হলেও এ দুটি আসলে ভিন্ন বস্তু। টফু দিয়ে নানা রকমের খাবার তৈরি করা যায়। আধা কাপ টফুতে থাকে ২০ গ্রাম প্রোটিন যা সারাদিনে দেহের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের প্রায় অর্ধেক।

ওটস

স্বাস্থ্যকর ব্রেকফাস্টের জন্য ওটস যার মধ্যে আছে উচ্চ গুণের ফাইবার এবং ১০০ গ্রাম ওটসে পাবেন ১৭ গ্রাম প্রোটিনI

দই

কম ফ্যাট থাকা সবচেয়ে শ্রেষ্ট দুগ্ধ পণ্য। ফিটনেসপ্রেমীদের মধ্যে অনেক জনপ্রিয়। এর মধ্যে কোনো কার্বোহাইড্রেট নেই এবং ১০০ গ্রাম দইয়ে পাবেন ১০ গ্রাম প্রোটিন। এটা স্বাস্থ্যকর এবং আপনার পাচন প্রণালীর জন্য উপকারী।

সবুজ মটর

ছোলা, ডাল, কিডনি-বিন মটরশুঁটি ইত্যাদি প্রোটিনের ভালো উৎস। এদের মধ্যে সবুজ মটর অন্যতম। এক কাপ মটরে যে পরিমাণ প্রোটিন থাকে তা প্রায় এক কাপ দুধের প্রোটিনের সমপরিমাণ।

বীজজাতীয় খাবার

বীজজাতীয় খাবার নাস্তায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে প্রকৃতি থেকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও আঁশ গ্রহণ করা যায়। চিয়া, কুমড়া, তিল এবং সূর্যমুখীর বীজ প্রোটিনের ভালো উৎস। এক টেবিল-চামচ বীজে দৈনিক প্রোটিন চাহিদার ১০ থেকে ২০ ভাগ পাওয়া যায়।

পালংশাক, ব্রোকলি, মূলজাতীয় খাদ্য

সবুজ শাকসবজি কেবল লৌহ, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিনে সমৃদ্ধ নয়, এটি প্রোটিনেরও ভালো উৎস। প্রতি এক কাপ এইসকল সবজিতে চার থেকে পাঁচ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এসকল সবজি সিদ্ধ করে সুপে মিশিয়ে অথবা সবজি হিসেবে রান্না করে খেতে পারেন।

বাদাম এবং বাদামের তৈরি দুধের খাবার

বাসায় তৈরি কাজু বাদাম এবং কাঠবাদামের মাখন চীনাবাদামের মতোই প্রোটিনের ভালো উৎস। কাঠবাদামের দুধ সহজ প্রাপ্য এবং এটি খুব সহজেই তৈরি করা যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close