সারাদেশ

যমুনা চরের পেঁয়াজচাষিদের মুখে হাসি

এখনই সময় :

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বুকচিরে বহমান যমুনা নদীর চর ছেয়ে গেছে সবুজ পেঁয়াজ গাছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই এলাকার শতাধিক ভূমিহীন ও প্রান্তিক কৃষক পেঁয়াজ চাষ করে আর্থিকভাবে সাফল্যের আশা করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নভেম্বর মাস থেকে যমুনা নদীতে পানি কমে যায়। তখন বালুচরের জায়গা নিজেদের দখলে নিয়ে কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষের উপযোগী করে তোলার জন্য কাজে নেমে পড়েন। এ চরে পেঁয়াজ চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা। এক বিঘা জমিতে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ মণ পেঁয়াজ হয়। খরচবাদে প্রতিবিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা লাভের হিসাব গুনছেন কৃষকেরা। পেঁয়াজ বিক্রির টাকায় ভূমিহীন কৃষকেরা কমপক্ষে ছয় মাসের চাল-ডাল কিনতে পারবেন।

চরের কয়েকজন কৃষক বলেন, আগে সারা বছর যমুনা নদীতে পানিপ্রবাহ থাকত। কিন্তু উজানে ভারত বাঁধ নির্মাণ করায় এখন শীত মৌসুমে নদীতে পানি থাকে না। বিশাল এলাকায় ধু ধু চর পড়েছে। তীরবর্তী ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষিরা এ চরে চাষাবাদ করেন। সেখানে পেঁয়াজসহ নানা জাতের ফসল চাষ করেন তাঁরা।

পেঁয়াজচাষি মোজাম্মেল হক জানান, তাঁর নিজের জমি নেই। পরিবারে স্ত্রী ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে চারজনের সংসার। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। বর্তমানে যমুনার চরে ৫০ শতক জমিতে পেঁয়াজ, রসুন, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়াসহ বিভিন্ন সবজির চাষ করেন। পরিবারের সদস্যরা এ কাজে তাঁকে সহযোগিতা করেন।

পেঁয়াজচাষি আব্দুর রাজ্জাক জানান, ভরা বর্ষায় এ চরে অনেক পলি জমে। সেই পলি পেঁয়াজ ক্ষেতে সার হিসেবে কাজ দেয়। পেঁয়াজ চাষে সার বেশি লাগে না। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশাও করছেন তিনি।

উপজেলার ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল বলেন, আগে যমুনা নদীতে সারা বছর পানির স্রোত থাকত। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে পানি নেই। ধু ধু বালুচরে এলাকার প্রান্তিক ও ভূমিহীন চাষিরা পেঁয়াজ ছাড়াও নানা জাতের আবাদ করে সচ্ছলতার মুখ দেখছেন।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস ছোবাহান বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা বেড়েছে। এবার যমুনার চরে প্রায় ২ হাজার বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। প্রত্যাশিত উৎপাদন পেলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে, দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এই পেঁয়াজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close