রাজনীতি

বিচার বিভাগ তার স্বাধীনতা রক্ষা করবেন- আশা ফখরুলের

এখনই সময় :

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি প্রসঙ্গে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আশা করব- বিচার বিভাগ তার স্বাধীনতা রক্ষা করবেন। সত্যিকার অর্থেই এই মামলায় যে রায় হওয়া উচিত, সেই রায় হবে।

তিনি বলেন, আমরা সর্বোচ্চ আদালতে বিশ্বাস করি। বিশ্বাস করি বলেই বারবার যাই। আশা করি, ন্যায়বিচার পাব। কিন্তু দুর্ভাগ্য, এই ফ্যাসিস্ট সরকার আদালতকেও নিয়ন্ত্রণ করছে। খালেদা জিয়া সর্বোচ্চ আদালতেই ন্যায়বিচার পাননি।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে শ্রমিক দল আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ সব কথা বলেন।

সংবিধান অনুযায়ী জামিন খালেদা জিয়ার প্রাপ্য হক ও অধিকার উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, হক ও অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এই ধরনের মামলায় সবাই জামিনে আছেন। নাজমুল হুদা, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, মহীউদ্দিন খান আলমগীর, আবদুল মান্নানসহ অনেক মন্ত্রী-এমপি জামিনে আছেন। কিন্তু দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার বেলায় এই জামিন দেয়া হচ্ছে না।

মানববন্ধনে শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সহ-শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান, শ্রমিক দলের কার্যকরী সভাপতি সালাউদ্দিন সরকার, আবুল খায়ের খাজা, মোস্তাফিজুল করীম মজুমদার, ফজলুল হক মোল্লা, জাকির হোসেন, মফিজুল ইসলাম মোহন, কাজী আমির খসরু, খন্দকার জুলফিকার মতিন, লুৎফুন নাহার লতা, সুমন ভূঁইয়া প্রমুখ।

সরকারের মুজিববর্ষ পালন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া যখন আটক, তখন উৎসব করে মুজিববর্ষ পালন করা হচ্ছে। আপনারা অনেক উৎসব করে, অনেক ব্যয় করে মুজিববর্ষ পালন করছেন। কখন করছেন? গণতন্ত্রের যিনি মাতা, তাকে কারাগারে আটক করে রেখে।

মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়ার নানা ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরে গণতন্ত্র ও গণতন্ত্রের মায়ের জন্য আমাদের এখানে দাঁড়াতে হয়। এ লজ্জা রাখার জায়গা নেই আমাদের। দেশনেত্রী শুধু একজন নেতা নন; তিনি এই বাংলাদেশের সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্রের মাতা।

খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে আটক করে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা এমন একটা জাতি যে, আমাদের যারা শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাদের আমরা মূল্যায়ন করতে পারি না। তাদের পাশে দাঁড়াতে পারি না।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছে, শ্রমিকদের প্রকৃত আয় বাড়ছে না। ব্যবসায় বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সরকার সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হচ্ছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুম হয়ে যারা ফিরে এসেছেন, তারা কথা বলছেন না। একজন সেনাবাহিনী অফিসার তিনি র্যা।বে কাজ করতেন। পরবর্তীকালে অন্যায়ভাবে তাকে একটা সাজাও দেয়া হয়েছিল। তিনি বেরিয়ে আসার পরে গুম করে নিয়ে যাওয়া হয়। দেড় বছর পরে তিনি ফিরে এসেছেন, কথা বলছেন না। কিছুদিন আগে আমরা দেখেছি আরেকজনকে, সাত মাস সেও ফিরে এসে কথা বলেন না। তারও আগে একজন সাবেক রাষ্ট্রদূত নয় মাস অজ্ঞাত স্থানে নিখোঁজ ছিলেন, ফিরে এসে কথা বলছেন না। এখনও নিখোঁজ আছে আর্মির একজন জেনারেল, এখনও নিখোঁজ আছেন একজন ব্যারিস্টার, এরকম অনেক মানুষ নিখোঁজ আছে। গুম, হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে চায়।

বর্তমান অবস্থাকে ‘মুখবদ্ধ পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য, এই যে মুখবদ্ধ বাংলাদেশ, এই যে পরাধীন বাংলাদেশ-এখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হই। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অবৈধ দখলদারী সরকারকে বাধ্য করি দেশের মানুষের কথা শুনবার জন্য, দেশের মানুষের চোখের ভাষা বুঝবার জন্য এবং খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু করার জন্য। এই সরকারের এই মুহূর্তে পদত্যাগ করে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নতুন নির্বাচনই এই রাজনৈতিক সংকট উত্তরণের একমাত্র সমাধান। অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করুন, নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন।

মানববন্ধনে শনিবার মিছিলে পুলিশের হামলায় রিজভী আহমেদসহ ৭-৮ জন আহত হওয়ার তীব্র নিন্দা জানান বিএনপি মহাসচিব।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close