আন্তর্জাতিক

করোনাভাইরাস মহামারিতে ভালোবাসা দিবস যেভাবে!

এখনই সময় :

করোনাইভাইরাসের আতংক যখন গ্রাস করেছে পুরো বিশ্বকে, চীনে রীতিমত যুদ্ধকালীন জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখন সেখানে কীভাবে পালিত হচ্ছে ভ্যালেন্টাইন্স ডে?

চীনের গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত একটি ভিডিও এখন ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় যেখানে দেখানো হয়েছে করোনাভাইরাসের আতংক উপেক্ষা করে চীনের মানুষ কীভাবে তাদের প্রেম-ভালোবাসা প্রকাশ করছেন, এমনকী বিয়ে করছেন।

‘লাভ ইন দ্য টাইম অব কলেরা’ হচ্ছে নোবেল পুরস্কার জয়ী কলম্বিয়ান লেখক গ্যাব্রিয়েলা গার্সিয়া মার্কেজের একটি বিখ্যাত প্রেমের উপন্যাস। চীনের গ্লোবাল টাইমসের এই ভিডিওটির শিরোনাম তারই অনুকরণে ‘লাভ ইন দ্য টাইম অব করোনাভাইরাস আউটব্রেক’।

ভিডিওর একটি দৃশ্যে দেখা যায় এক স্বাস্থ্য কর্মী তার নারী সহকর্মীকে বিয়ের প্রস্তাব দিচ্ছেন পেপার ক্লিপ দিয়ে তৈরি একটি আংটি দিয়ে।

প্রেমিকার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে তিনি বলছেন, ‘আজ কোনো ফুল নেই, কোন আশীর্বাদ নেই, হীরের আংটিও নেই। কিন্তু আজ আমি আছি তোমার সামনে।’

করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে চীন জুড়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কিন্তু তার মধ্যেও নানা বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে ভিডিও সংযোগের মাধ্যমেই বিয়ে করেছেন এক তরুণ যুগল। বিয়ের কনে তার কর্মস্থলে সহকর্মীদের সঙ্গে। আর বর বহুদূর থেকে যোগ দিয়েছেন ভিডিও কলের মাধ্যমে।

এই ভাইরাল ভিডিওর আরেকটি দৃশ্যে আছে একটি চুম্বনের দৃশ্য। কাঁচের দেয়ালের এক পাশে দাঁড়িয়ে এক প্রেমিকা। আরেক দিকে প্রেমিক। দুজনের কেউ কাউকে ধরতে পারছেন না, ছুঁতে পারছেন না। প্রেমিক বলছেন, আমি তোমাকে মিস করছি। প্রেমিকা বলছেন আমিও। আমি তোমাকে ধরে রাখতে চাই। প্রেমিকের উত্তর, এখন তো সেটি সম্ভব নয়। এরপর তারা কাচের দেয়ালে মুখ ঠেকিয়ে পরস্পরকে চুম্বন করছেন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত হয়েছে এক চীনা তরুণী এবং ভারতীয় তরুণের প্রেম এবং বিয়ের কাহিনি।

চীনের হিহাও ওয়াং এবং ভারতের সত্যার্থ মিশ্রের দেখা হয়েছিল পাঁচ বছর আগে কানাডায় পড়াশোনা করার সময়। তারপর প্রেম। তারা ভারতে গিয়ে হিন্দু রীতিমত বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ালো করোনাভাইরাস।

কনে হিহাও ওয়াং এর পরিবারের সদস্যরা ভারতে ঢুকে যেতে পেরেছিলেন চীনাদের বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ার আগেই। কিন্তু তারপরও করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে সতর্কতার অংশ হিসেবে তাদের নানা রকম স্বাস্থ্য পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। ছয় সদস্যের এক মেডিক্যাল টিম সব কিছু ঠিক আছে বলে ঘোষণার পর তারা শেষ পর্যন্ত বিয়ে করতে পেরেছেন।

সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইট টাইমস জানাচ্ছে, ভ্যালেন্টাইন্স ডে চীনে যেরকম ব্যাপকভাবে উদযাপিত হয়, এবার তা দেখা যাচ্ছে না। বহু অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। সংক্রমণের আশংকায় অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা ঘরে বসেই দিনটি উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close