আন্তর্জাতিক

চীনে আরও ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ গৃহবন্দি

এখনই সময়:

মঙ্গলবার চীনের অন্যতম ব্যস্ত শহর ঝেজিয়াং প্রদেশের রাজধানী শহর হাংঝুকে অবরুদ্ধ ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ফলে দেশটির আরও ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ এখন নিজ গৃহে বন্দি হয়ে গেলেন। তাদেরকে ‘কোয়ারেন্টাইন’ অবস্থার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করতে হচ্ছে। হাংঝু চীনের সবচেয়ে সুন্দর শহরগুলোর একটি।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে চীরে। ফলে দেশটিতে অবরুদ্ধ শহর আর মানুষের সংখ্যা বাড়ছেই। চীনের তাইঝু, হাংঝু এবং নিংবো শহরের লোকজন জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা এখন অবরুদ্ধ। প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কেনার জন্য প্রতি দুদিন অন্তর প্রত্যেক পরিবার থেকে মাত্র একজনকে বাইরে বের হতে দেয়া হচ্ছে।

তাইঝু শহরের কোনো মানুষ তার বাড়ি কিংবা এলাকা থেকে অন্যত্র যেতে চাইলে সঙ্গে পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) রাখতে হচ্ছে তাদের। এছাড়া শহরটির ট্রেন চলাচল বাতিল করা হয়েছে। হাংঝু শহরের বাসিন্দাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তাদের ফেস মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। তাদের প্রত্যেকের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করা হচ্ছে।

সাংহাই থেকে হাংঝু শহরের দূরত্ব ১১০ মাইল। শহরটিতে এখন পর্যন্ত প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে অন্তত দুইশ মানুষ আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও একজন মারা গেছেন। হাংঝু শহরটি চীনের ঝেঝিয়াং প্রদেশের রাজধানী। ঝেঝিয়াং প্রদেশে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৮২৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যা হুবেই প্রদেশের পর সর্বোচ্চ।

এর আগে গত রবিবার ঝেঝিয়াং প্রদেশের বন্দর ও শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত ওয়েনঝুতেও একই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। শহরটির মোট জনসংখ্যা ৯ কোটির মতো। ওই শহরের বাসিন্দাদের চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা ছাড়াও সব সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

চীনেও হুবেই প্রদেশের রাজধানী শহর উহান থেকে করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, উহানের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে এর উৎপত্তি। গোটা চীনে ২০ হাজারের বেশি মানুষ এখন নভেল করোনাভাইরাস নামের নতুন এই ভাইরাসে আক্রান্ত। এতে আক্রান্ত হয়ে ৪২৫ জন মারা গেছেন।

বেশিরভাগ মানুষ মারা গেছেন উহান শহরে। তবে হুবেই প্রদেশের চারপাশেও অনেকের মৃত্যু হয়েছে।গত দুই সপ্তাহ ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে প্রদেশটির মানুষ। বিশ্বের ২৬টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসের বিস্তার ও সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) বৈশ্বিক জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে।

আজ মঙ্গলবার তাইওয়ান সরকার চীনা পর্যটকদের দেশে প্রবেশে ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং বেশিরভাগ বিমান সংস্থা চীনের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আজ হংকংয়ে ৩৯ বয়সী একজন মারা গেছেন। এ নিয়ে চীনের মূল ভূখণ্ডের বাইরে দুজন মারা গেল।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close