টেক

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের জবাব

এখনই সময়:

দৈনিক যুগান্তরের অনলাইন বিভাগে ২১ জানুয়ারি ‘৫ কোটি টাকার ‘স্পেলিং চেকার’ নিয়ে বুয়েট ও রিভ সিস্টেমসের হরিলুট’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রকল্প পরিচালকের কার্যালয়।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. মাহবুব করিম স্বাক্ষরিত একটি প্রতিবাদপত্র যুগান্তর বরাবর পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবাদে বলা হয়েছে-
গত ২১ জানুয়ারি, ২০২০ তারিখে ‘দৈনিক যুগান্তর’ সংবাদপত্রের অনলাইন ভার্সনে ‘৫ কোটি টাকার ‘স্পেলিং চেকার’ নিয়ে বুয়েট ও রিভ সিস্টেমসের হরিলুট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদনটি অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রণীত। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে এই বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই বিভ্রান্তিকর প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলা ভাষা সমৃদ্ধকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো- আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃস্থানীয় ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষ করে, কম্পিউটিং ও আইসিটিতে বাংলা ভাষাকে অভিযোজিত করা বা খাপ খাইয়ে নেয়া। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলা ভাষার জন্য ১৬টি কম্পোনেন্ট/সফটওয়্যার/টুলস/রিসোর্স উন্নয়ন করা হচ্ছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রকৃত তথ্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। যেমন প্রতিবেদনটিতে আলোচ্য কম্পোনেন্টটিকে শুধু ‘স্পেলিং চেকার’ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কম্পোনেন্টটির প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অংশ গ্রামার চেকার। উল্লেখ্য কম্পোনেন্টটির শিরোনাম হলো- ‘ডেভেলপমেন্ট অব বাংলা স্পেল অ্যান্ড গ্রামার চেকার’।

উক্ত প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিভ সিস্টেমসকে তিনটি কাজ দেয়া হয়েছে। এ তথ্যটিতেও মিথ্যা ও বিভ্রান্তি রয়েছে। উন্মুক্ত দরপত্র প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এবং সরকারি ক্রয় আইন ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা অনুযায়ী মূল্যায়ন কার্যক্রমান্তে উক্ত প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে দুটি কম্পোনেন্টের কাজ পেয়েছে।

উক্ত সংবাদে প্রকাশিত তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে যে, বাজারে লভ্য বিনামূল্যের সফটওয়্যারগুলোতে স্পেলিং চেকার সুবিধা রয়েছে কিন্তু সেসবে গ্রামার চেকার সুবিধা এবং কন্টেক্সচুয়াল এরর চেক করার সুবিধা নেই। গ্রামার চেকার এবং কন্টেক্সচুয়াল এরর চেকার তৈরি অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া এবং এতে মেশিন লার্নিং তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার অত্যাবশ্যক হিসাবে কম্পোনেন্টটিতে যুক্ত রয়েছে। ফলে এর প্রাক্কলিত ব্যয় অত্যন্ত যৌক্তিক ও প্রতিযোগিতামূলক।

প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) হাতে রয়েছে পুরো প্রকল্পটি’, যা অসত্য ও অগ্রহণযোগ্য।

উল্লেখ্য, প্রকল্পের কম্পোনেন্টসমূহের কার্যক্রম দরপত্র/প্রস্তাব আহবানের মাধ্যমে চারটি ধাপে সম্পন্ন হচ্ছে, যথা ১) কম্পোনেন্টের টার্মস অব রেফারেন্সেস (টিওআর) প্রণয়ন করা ২) কম্পোনেন্টের ডেভেলপমেন্ট করা ৩) ডেভেলপকৃত কম্পোনেন্টের টেস্টিং করা এবং ৪) ডেভেলপকৃত কম্পোনেন্টের মেইনটেইনেন্স করা।

সরকারি যথাযথ আইন ও বিধি অনুসারে বিন্যস্ত (Distributed) বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম সুচারুরূপে চলমান রয়েছে। বুয়েটের সিএসই বিভাগ কেবল টিওআর প্রণয়নে পরামর্শক হিসেবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্স নির্ভর কয়েকটি কম্পোনেন্টের টেস্টিং এর জন্য ‘নমিনেটেড সাব-কনসালটেন্ট’ হিসেবে বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্স, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) প্রতিষ্ঠান, এ প্রকল্পের সাথে কাজ করছে। উল্লেখ্য যে, কম্পোনেন্টের ডেভেলপমেন্ট অংশে বুয়েটের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘ইতিমধ্যেই সাড়ে ১৪ কোটি টাকার কাজ সফলভাবে রিভ সিস্টেমসকে দিতে সক্ষম হয়েছে বুয়েট’। উল্লেখ্য, সরকারি ক্রয় আইন, ২০০৬ ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা, ২০০৮ অনুযায়ী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগ/সংস্থার সদস্যগণের সমন্বয়ে গঠিত ‘প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি’ মূল্যায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করে।

উক্ত ‘প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি’ কর্তৃক মূল্যায়নের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে রিভ সিস্টেমস লিমিটেড এককভাবে দুটি কম্পোনেন্টের কাজ পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়মের কোন ব্যত্যয় ঘটেনি।

এছাড়া, প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে কোনো বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ করা হয়নি, এমনকি প্রকল্প পরিচালকের কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি। বিশেষজ্ঞ বা প্রকল্প পরিচালকের মতামত গ্রহণ করা হলে প্রতিবেদক এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পেতেন।

যথাযথ তথ্য প্রমাণাদি ব্যতিরেকে এ ধরণের প্রতিবেদন প্রকাশ করা দৈনিক যুগান্তরের মত একটি জাতীয় দৈনিকের কাছে কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়। বিধায়, অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত উক্ত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

প্রতিবেদকের বক্তব্য
দীর্ঘ প্রতিবাদলিপিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে চারটি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ এবং তার উত্তরগুলো দেয়া হলো।

১. আলোচ্য কম্পোনেন্টটিকে শুধু ‘স্পেলিং চেকার’ হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও কম্পোনেন্টটির প্রধান গুরুত্বপূর্ণ অংশ গ্রামার চেকার।

আলোচ্য কম্পোনেন্টটির নাম অনেক বড়। সংবাদের শিরোনাম অনেক বড় করার সুযোগ নেই। তাই শিরোনামে মূল অংশটির নাম বলা হলেও পুরো নামটি সংবাদের ভেতরে দেয়া হয়েছে।

২. উক্ত প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিভ সিস্টেমসকে তিনটি কাজ দেয়া হয়েছে। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে দুটি কম্পোনেন্টের কাজ পেয়েছে।

রিভ এই প্রকল্পের তিনটি কাজই পেয়েছে। দুটি এককভাবে এবং একটি যৌথভাবে। বিষয়টি রিভ সিস্টেমসের সিইও এবং প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরাও যুগান্তরের কাছে স্বীকার করেছেন।

৩. বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) হাতে রয়েছে পুরো প্রকল্পটি’, যা অসত্য ও অগ্রহণযোগ্য।

কারিগরি বা টেকনিক্যাল কনসাল্টেন্ট এবং মূল্যায়ন কমিটিতে রয়েছে বুয়েট। যৌক্তিকভাবেই বুয়েটের মতামত ছাড়া এ প্রকল্পের কাজ পাওয়ার সুযোগ নেই।

৪. প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহে কোনো বিশেষজ্ঞের মতামত গ্রহণ করা হয়নি, এমনকি প্রকল্প পরিচালকের কোনো বক্তব্য গ্রহণ করা হয়নি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিয়ম মেনে পাঁচজনের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। আর প্রকল্প পরিচালকের বক্তব্য নেয়ার জন্য তাঁর কার্যালয়ে গিয়েও পাওয়া যায়নি। কারণ তিনি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন। প্রকল্পের সংশ্লিষ্টরাও পিডি ছাড়া বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এসব তথ্যও প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close