আন্তর্জাতিক

চীনে যেভাবে মাত্র ১০ দিনে তৈরি হলো হাসপাতাল

এখনই সময়:

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্যে চীনের উহান শহরে খুব দ্রুত একটি হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, মাত্র ১০ দিনে তৈরি এই হাসপাতালটি হয়তো সোমবারই খুলে দেয়া হবে।

চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২রা ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিন শতাধিকের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীনে দুটো হাসপাতাল নির্মাণ করা হচ্ছে। তার একটি হুশেনশান হাসপাতাল – যার আয়তন ২৫,০০০ বর্গমিটার।

তারা আশা করছেন, এই সোমবারেই হাসপাতালটি চালু করে দেওয়া সম্ভব হবে।

উহান শহরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর গত ২৪শে জানুয়ারি এই হাসপাতালটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

চীনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখনও পর্যন্ত ৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। চীন ও চীনের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪,০০০-এর বেশি।

চীনের বাইরে আরো ২২টি দেশে প্রায় ১০০ জনের মতো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সার্স মহামারীকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৩ সালে ২৪টিরও বেশি দেশে সার্স ভাইরাসের সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছিল।

সার্স ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ৮,১০০।

করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হয় উহান শহরে। সেখানে এক কোটি দশ লাখ মানুষের বাস।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, হুশেনশান হাসপাতালে ১,০০০ শয্যার ব্যবস্থা থাকবে।

এই হাসপাতালটি কতো দ্রুত তৈরি করা হচ্ছে সেটা যাতে লোকেরা দেখতে পায়- সেজন্য এর নির্মাণকাজ চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

টেলিভিশনে হাসপাতাল নির্মাণের এই দৃশ্য দেখছে বহু মানুষ। গ্লোবাল টাইমস নামের পত্রিকা বলছে, চীনে প্রায় চার কোটি মানুষ হাসপাতাল নির্মাণের লাইভ স্ট্রিমিং দেখছে।

এই সম্প্রচার এতোই জনপ্রিয় হয়েছে যে সখানে ক্রেইন, বুলডোজার ও ডিগারের মতো যেসব যন্ত্র দিয়ে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হচ্ছে সেগুলোও মানুষের কাছে খ্যাতি পেয়ে গেছে।

চীনের লোকজনেরা সিমেন্ট মেশানোর একেকটি মেশিনের নাম দিয়েছে – দ্য সিমেন্ট কিং, বিগ হোয়াইট র‍্যাবিট এবং দ্যা হোয়াইট রোলার।

২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস মোকাবেলায় রাজধানী বেইজিং-এ যে শিয়াওতাংশান হাসপাতাল নির্মাণ করা হয়েছিল – তার অনুকরণেই হুশেনশান হাসপাতালটি তৈরি করা হচ্ছে উহানে।

শিয়াওতাংশান হাসপাতালটি তৈরি করা হয়েছিল মাত্র সাতদিনে। বলা হয় যে দ্রুত গতিতে হাসপাতাল তৈরির বেলায় এটা ছিল বিশ্ব রেকর্ড।

একজন কর্মকর্তা ইয়াংঝং হুয়াং বলছেন, চীনে এই হাসপাতালটির মতো প্রকল্প খুব দ্রুত বাস্তবায়নের ইতিহাস আছে।

বেইজিং-এর হাসপাতালাটির মতো উহানের এই হুশেনশান হাসপাতালটিও আগে থেকে তৈরি ছোট ছোট ভবন একসাথে জোড়া দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে।

হুয়াং বলেছেন, নির্মাণ কাজ খুব দ্রুত শেষ করার জন্য সারা দেশ থেকে প্রকোশলীদের উহানে নিয়ে আসা হয়েছে।

‘প্রকৌশল কাজে চীন খুবই দক্ষ। পশ্চিমা দেশগুলোর পক্ষে এটা কল্পনা করাও কঠিন। কিন্তু এটা করা সম্ভব,’- বলেন তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close