সারাদেশ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে শিক্ষার্থীদের রাতভর নির্যাতন

এখনই সময়:

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) ইংরেজি দ্বিতীয়বর্ষের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে রাতভর নির্যাতনের অভিযোগ মিলেছে। একই বিভাগের সিনিয়র পাঁচ শিক্ষার্থী মাদকাসক্ত অবস্থায় তাদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করেন। বুধবার ইংরেজি বিভাগের প্রধান বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়টি তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের কমিটি।

জানা যায়, ইংরেজী দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা কয়েকদিন যাবৎ খেলার মাঠে ও অন্যান্য জায়গায় তথাকথিত মিটিংয়ের নামে মানসিক হেনস্তার শিকার হচ্ছিলেন। সিনিয়ররা একাজ করছিলেন। যার ক্ষোভ থেকে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান রাজাকে মোবাইলে আপত্তিকর দুটি মেসেজ পাঠান দ্বিতীয় বর্ষের কয়েকজন। যার বিচার করতে মঙ্গলবার রাত ১২ টার দিকে মশিউর রহমান রাজা বঙ্গবন্ধু হলের ২০৭ নম্বর কক্ষে ডেকে নেন দ্বিতীয় বর্ষের আখতারুল ইসলামকে। কক্ষটিতে উপস্থিত ছিলেন চতুর্থ বর্ষের রাজ বর্মন বিধান, মিনহাজুর রহমান, ফাহাদ রহমান অঝোর ও মার্স্টাসের শিক্ষার্থী সাবেরুল বাশার নিরব।
লিখিত অভিযোগে শিক্ষার্থীরা জানান, ২০৭ নম্বর কক্ষে সিনিয়র শিক্ষার্থীরা মাদক সেবনরত অবস্থায় তাস খেলছিলেন। এক পর্যায়ে তারা ডেকে নেয়া শিক্ষার্থী আখতারুল ইসলামকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এরপর শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন। প্রথমে চুল ধরে গালে চড় মারা হয়। আখতার ভুল স্বীকার করে রাজার পা ধরে ক্ষমা চান। এরপরেও চলে অমানবিক নির্যাতন। নির্যাতনের এক পর্যায়ে আখতারের মাধ্যমে ফোনে ডেকে নেয়া হয় সহপাঠী আশিকুর রহমানকে। তার কাছেও জানতে চাওয়া হয় মোবাইল ম্যাসেজ কারণ। আশিক ক্ষমা চাইলে তাকেও গালিগালাজ করা হয়। এরপর লাঠি দিয়ে পেটানো হয়।
আনুমানিক ভোর চারটায় ডেকে নেওয়া হয় দ্বিতীয় বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী মো. মহিদুজ্জামানকে। সে সময় তার সামনেই আশিক ও আখতারকে ফের শারীরিক নির্যাতন করা হয়। এরপর ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে মেহেদী হাসান নামের আরেক শিক্ষার্থীকে একই কক্ষে ডেকে নেয়া হয়। তাকে রাজা থাপ্পড় মারেন। রাজ বর্মন বিধান তাকে কানে আঘাত করেন।
পরবর্তীতে ভোর ৬ টার দিকে মহিদুজ্জামান ও আশিকের মাধ্যমে দ্বিতীয় বর্ষের তানজিম হাসান অপু, হাবিবুর রহমান ও রাকিব হাসানকে ডেকে নেয়া হয়। নির্যাতনের শেষপর্যায়ে ৫ জনের কাছে থেকে লিখিত বিবৃতি ও স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হয়। এসময় ভিডিও ধারণ করে রাখা হয়।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইংরেজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক এ আর এম মুস্তাফিজার রহমান জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রফেসর মো. ইমদাদুল হককে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ পেলে প্রশাসনকে জানানো হবে। অভিযুক্তদের নামে আগেও কিছু বিষয়ে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী মশিউর রহমান রাজা এ বিষয়ে বলেন, ‘ সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। তবে অভিযোগ করার মত কিছু ঘটেনি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান বলেন, ‘ইংরেজি ডিসিপ্লিনে যে অভিযোগ উঠেছে সেটা একপ্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close