জাতীয়

‘রাজাকারদের তালিকা করা হবে অংশীজনদের মতামত নেয়ার পর’

এখনই সময়:

এবার অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সতর্কতার সঙ্গে রাজাকারের তালিকা তৈরি করা হবে বলে জানালেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তবে এ তালিকা ২৬ মার্চ প্রকাশ হচ্ছে না। তা আরো পরে প্রকাশ করা হবে।

মঙ্গলবার বিকালে ‘কালের কণ্ঠ মন্ত্রীর মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে তিনি এমন পরিকল্পনার কথা জানান। এছাড়া মুজিববর্ষে তার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মসুচি, বীরাঙ্গনা, যুদ্ধশিশু প্রসঙ্গ ছাড়াও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচিহ্ন ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি ধারণ করে আর্কাইভে সংরক্ষণ করে রাখার পরিকল্পনার কথাও জানান। কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক পার্থ সারথি দাসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় কালের কণ্ঠ ফেসবুক পেইজ থেকে সম্প্রচারিত হয়।

মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আগেই ভিডিও ধারণ করে সম্প্রচার করা অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বলেন, মুজিব বর্ষে অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হবে ‘বীর নিবাস’। এই নামের একই রকম নকশায় তৈরি করা হবে বাড়ি। প্রতিটি বাড়ি তৈরিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা। একই নকশায় যাতে বীর নিবাস তৈরি করা হয় তার জন্য মন্ত্রণালয়ের তদারকিও থাকবে।

তিনি বলেন, মুজিববর্ষে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কেজি স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধারা যাবেন। তারা শিক্ষার্থীদের সমাবেশে মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিচারণ করবেন। কমপক্ষে ১০ মিনিট তারা কথা বলবেন। সর্বোচ্চ তারা ২০ মিনিট স্মৃতিচারণ করতে পারবেন। তাদের এই স্মৃতিচারণ শোনে শিক্ষার্থীরা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কথা জানতে পারবে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, মুক্তিযুদ্ধকালীন স্মৃতিঘিরে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করে গ্রামে গ্রামে প্রদর্শন করা হবে। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ গ্রামে গ্রামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাজানো হবে।

তিনি জানান, ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা লাভের জন্য পাকিস্তান আমল থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন আন্দোলনের ধাপগুলো পর্যটকসহ সকলের কাছে তুলে ধরতে প্রদর্শনীর মতো একটা ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, পাঠ্যসুচিতে মুক্তিযুদ্ধের শত্রুপক্ষ পাকিস্তানীদের দোসরদের ইতিহাসও আমরা তুলে ধরতে চাই। যাতে তরুনরা মুক্তিযুদ্ধের পুরো ইতিহাস জানতে পারে।

তিনি আরো জানান, মুজিববর্ষে প্রতিটি গ্রামে একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাজানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা মুজিব মেলা করব। সেখানে কবিতা পাঠ, রচনা পাঠসহ বিভিন্ন ধরনের কর্মসুচি থাকবে। এটা আমরা মাসব্যাপি করতে চাই। এছাড়া কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সমবেশ করার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের সকল মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনার স্মৃতিচারণ রেকর্ড করে আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হবে। তা হবে লেখকদের গবেষণা ও লেখার বড় খোরাক।

তার নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সকল বধ্যভুমি সংরক্ষণ করা হবে। এগুলো একই নকশায় সংরক্ষণ করা হবে। যাতে ১০০ বছর পরও কেউ তা দেখলে তার ইতিহাস জানতে পারে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যে সকল জায়গায় পরিকল্পনা করা হয়েছে, সভা-সমাবেশ হয়েছে, প্রশিক্ষণ হয়েছে-সেসব জায়গা চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করা হবে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কবর একই ডিজাইনে সংরক্ষণ করা হবে। প্রতিটি জেলা , উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক যাদুঘর গড়ে তোলা হবে। এই কাজটি শুরুর পথে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close