আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের বিচারে ‘সাহস’ দেখানোর আহ্বান জানালো ডেমোক্র্যাটরা

এখনই সময় :মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন প্রশ্নে বুধবার দেশটির কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হয়েছে। এতে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা বলেন, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজের বিজয় সুনিশ্চিত করতে ট্রাম্প ইউক্রেন কেলেংকারির ঘটান। এ কারণে তাঁকে অভিশংসনে রিপাবলিকানদের ‘সাহস’ দেখানো উচিৎ।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এই বিচারে সভাপতিত্ব করছেন। জুরির দায়িত্ব পালন করছেন সিনেটের ১০০ সদস্য। মামলার বাদীর ভূমিকায় আছেন প্রতিনিধি পরিষদের গোয়েন্দা বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডাম স্কিফের নেতৃত্বে সাত ডেমোক্র্যাট ম্যানেজার। পুননির্বাচিত হতে ট্রাম্প কীভাবে বিদেশে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন তার বর্ণনা দেন অ্যাডাম স্কিফ।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতেই ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিদেশে চাপ প্রয়োগ করেন। এরপর বিষয়টি প্রকাশ হয়ে গেলে তদন্ত প্রক্রিয়ায় তিনি বাধা দেন।

রিপাবলিকানদেরকে যুক্তি দেখিয়ে স্কিফ বলেন, হোয়াইট হাউজে ট্রাম্পের আর জায়গা হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত সিনেটরদের নয়, আমেরিকান ভোটারদের নেওয়া উচিত্।

সিনেটরদের উপযুক্ত বিচারক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে স্কিফ বলেন, বেশিরভাগ আমেরিকান বিশ্বাস করে সিনেট হবে নিরপেক্ষ। জাতীয় নিরাপত্তার নামে ভয়ানকভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ আড়াল করতে চান ট্রাম্প। তবে সত্য উন্মোচিত হবেই।

গত ১৮ ডিসেম্বর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে অভিশংসিত করা হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এ সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিনিধি পরিষদ। সিনেটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটদের ব্যবধান ৫৩-৪৭ হওয়ায় বিচারে ট্রাম্প দায়মুক্তি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিচার চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশা ডেমোক্রেটদের।

গত ২৫ জুলাই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ট্রাম্পের ওই ফোনালাপ হয়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বনন্দ্বী জো বাইডেনকে কোণঠাসা করতে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরুর জন্য ট্রাম্প চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়। অবশ্য ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

বিচারের প্রথম দিন মঙ্গলবার সিনেটে গৃহীত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের পক্ষে সাতজন ডেমোক্রেটিক ব্যবস্থাপক এবং ট্রাম্পের পক্ষে আটজন কৌঁসুলি বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাবেন। উভয়পক্ষকে ২৪ ঘণ্টা করে সময় দেওয়া হবে। আট ঘণ্টা করে তিন দিনে তাঁরা প্রত্যেকে নিজেদের বক্তব্য দেবেন।

ডেমোক্র্যাটরা প্রথম দিন থেকেই নতুন সাক্ষী ও অতিরিক্ত নথিপত্র উপস্থাপনের দাবি তুলেছেন। ট্রাম্পের নির্দেশে অভিশংসন তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনেক কর্মকর্তাকে সাক্ষী দিতে দেওয়া হয়নি। কংগ্রেস হোয়াইট হাউসের কাছে নথিপত্র চাইলে নির্বাহী অধিকারের যুক্তি দেখিয়ে তার অধিকাংশই অবমুক্ত করতে অস্বীকার করেছেন ট্রাম্প।

ডেমোক্রেটিক ব্যবস্থাপকরা যুক্তি দেখান, ট্রাম্প যে কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছেন, এটি তার বড় প্রমাণ।
অতিরিক্ত সাক্ষী ও নথিপত্রের যে দাবি ডেমোক্র্যাটরা উত্থাপন করেন, বিচারের প্রথম দিনই রিপাবলিকান সিনেটরদের সম্মিলিত আপত্তির মুখে তা বাতিল হয়ে যায়।

এরপরও বুধবার অভিযোগনামা পেশের সময় ডেমোক্রেটিক ব্যবস্থাপকরা পুনরায় নতুন সাক্ষী ও নথিপত্রের দাবি তুলে ধরেন। তাঁদের যুক্তি, গত মাসে প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্প অভিশংসিত হওয়ার পর আরো নতুন নতুন তথ্য উন্মোচিত হয়েছে।

সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেছেন, সিনেটের সমন পেলে তিনি সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত।

ডেমোক্র্যাটরা আশা করছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য পেশের পর অন্তত চারজন রিপাবলিকান সিনেটরের সমর্থনে তাঁরা নতুন সাক্ষী ডাকার সুযোগ পাবেন। এই দাবি গৃহীত হলে তাঁরা বোল্টনসহ ট্রাম্প প্রশাসনের আরো তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে সাক্ষ্য দেওয়াতে আগ্রহী। ডেমেক্র্যাটদের এই দাবি গৃহীত হলে রিপাবলিকানরাও তাঁদের পছন্দমতো সাক্ষীর জন্য সমন পাঠাতে পারে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close