সারাদেশ

চবিতে ছাত্রলীগের চার পক্ষের মারামারিতে আহত ৬

এখনই সময় :আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন সিএফসি ও বিজয় গ্রুপ এবং অন্যদিকে স্টেশন সংলগ্ন একটি খাবারের দোকানে সিক্সটি নাইন ও রেড সিগন্যাল গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে পৃথক এ দুই ঘটনায় ছাত্রলীগের ৬ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চারপক্ষের এ মারামারির ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজন গুরুতর জখম হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকীদের বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে নিজেদের কর্মীদের মারধরকারী আটক ও চবি ছাত্রলীগ সভাপতি ও সিএফসি গ্রুপের নেতা রেজাউল হক রুবেলকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করার দাবিতে অনিদিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে বিজয় গ্রুপ। পরিস্থিতি শান্ত রাখতে প্রক্টররিয়াল বডি রাত ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সোহরাওয়ার্দী ও আমানত হলে তল্লাঅশি চালায়। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান।

জানা যায়, বুধবার বিকেলে অধিপাত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন সংলগ্ন একটি খাবারের দোকানে বগি ভিত্তিক সংগঠন সিক্সটি নাইন পক্ষের দুই কর্মীকে মারধর করে রেড সিগন্যাল পক্ষ। এতে সিক্সটি নাইন পক্ষের নাট্যকলা বিভাগের মার্স্টাসের মাহফুজুল হুদা লোটাস ও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মার্স্টাসের ইব্রাহীম খলিল মুকুল আহত হন। দুই পক্ষই চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এরপর দোষীদের আটকের দাবিতে ক্যাম্পাসের মূল ফটক ও শহরগামী শাটল ট্রেন প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখেন সিক্সটি নাইনের অনুসারীরা। শাটল ট্রেন বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েন শত শত শহরগামী শিক্ষার্থী। পরে প্রক্টর দোষীদের বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে আটকের আশ্বাস দিলে তারা শাটল ও মূল ফটক ছেড়ে দেয়।

এদিকে প্রায়ই একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় শাখা ছাত্রলীগের বগিভিত্তিক সংগঠন বিজয় এবং সিএফসি গ্রুপ। এ ঘটনায় খেলার মাঠেই সিএফসি কর্মী শামীম আজাদকে মারধর করে বিজয়ের কর্মীরা। পরে আমানত হল থেকে গিয়ে সিএফসি গ্রুপের কর্মীরা সোহরাওয়ার্দী হলে বিজয়ের তিন কর্মীকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করে। এ দুটি পক্ষই শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী।

এ ঘটনায় আহত হন বিজয় পক্ষের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের আবু বক্কর সিদ্দিক, আইন অনুষদের একই বর্ষের অপূর্ব, গণিত বিভাগের রাওফান এবং সিএফসি পক্ষের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শামীম আজাদ। এদের মধ্যে আবু বক্কর সিদ্দিকের হাতে ও পায়ে গুরতর জখম হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিজয় পক্ষের নেতা মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হকের রুবেলের নির্দেশে জামাতি স্টাইলে আমাদের এক ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা করেছে সিএফসির নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় জড়িতদের আটক না করা বিশ্ববিদ্যালয় লাগাতার অবরোধ চলবে। একই সঙ্গে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেলকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছি। ছাত্রলীগ থেকেও তাকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, এখানে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মারামারি হয়েছে। আমি কোনোভাবেই এর সঙ্গে জড়িত না। আর যারা আমার বহিষ্কার দাবি করছে তারা প্রতিক্রিশীল চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পরিকল্পিত ভাবে মারামারি করছে।’

সিক্সটি নাইন ও রেড সিগন্যাল পক্ষের মারামারির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন টিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুদিন আগে বগিভিত্তিক দুই সংগঠনের কয়েকজন কর্মী ঝামেলা করে। দোষী প্রমাণিত হওয়ায় সিক্সটি নাইন পক্ষের একজনকে ছাত্রলীগ থেকে একমাসের জন্য বহিষ্কার করা হয়। তার পরও রেড সিগন্যাল পক্ষের কর্মীরা সিক্সটি নাইনের দুইজনকে অতর্কিত হামলা করে। বিষয়টি আমরা দেখছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। দুটো হলো তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা হয়নি। কারণ যারা মারামারি করেছে তারা হলে নেই। হল প্রায় ফাঁকা বলা চলে। তবে সব পক্ষের সঙ্গে বসে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’

হাটহাজারি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পর্যাপ্ত ফোর্স রাখা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close