সারাদেশ

ভবনে লেখা আছে ‘সরকারি’ কিন্তু বাস্তবে নেই

এখনই সময় :বরিশালের গৌরনদী উপজেলার উত্তর বিল্বগ্রাম প্রাইমারী স্কুলের ভবনে লেখা নাম দেখে যে কেউ ভাববেন এটি সরকারি স্কুল। আসলে তা নয়। জানা গেছে, সরকারি অর্থে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যায়ে স্কুল ভবনটি তৈরি হয় দীর্ঘ একযুগ আগে। কিন্তু বিদ্যালয়টি আজও জাতীয়করণ করা হয়নি।

বিদ্যালয়টিতে কর্মরত ৪ জন নারী শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবত বেতন পাচ্ছেন না। কবে বেতন মিলবে তারও নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কেউ। এ কারণে এখানে কর্মরত শিক্ষকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির একাধিক সদস্যরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য উপজেলা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সচিবালয় ও মন্ত্রণালয়ে দৌড়ঝাপ করতে করতে তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। জাতীয়করণের সকল শর্ত পুরণ করা সত্যেও অজ্ঞাত কারণে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাই বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য এখানে কর্মরত শিক্ষকবৃন্দ ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরা খানম জানান, উত্তর বিল্বগ্রামে কোন প্রাইমারী স্কুল না থাকায় ২০০৮ সালে স্থানীয়দের সহায়তায় কোমলমতি শিশুদের শিক্ষাদানের জন্য বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয়। শুরু থেকে এখানে চারজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান করছেন। বর্তমানে স্কুলে দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ২০১১ সালে থেকে স্কুলের শিক্ষার্থীরা পিএসসির সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সাফল্যজনক ফলাফলসহ শতভাগ পাশ করে আসছে। এমনকি ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি তিনতলা ভবন নির্মানের মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে সাইক্লোন শেল্টার কাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রুপান্তর করা হয়। কিন্তু সরকারীভাবে বিদ্যালয় ভবন, শিক্ষার্থীদের জন্য বই সরবরাহ করা হলেও বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার একযুগ পরেও জাতীয়করণ করা হয়নি।

বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা কালিয়া দমন গুহ জানান, ২০০৮ সালে স্থানীয়রা স্কুল প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন। এ সময় স্থানীয় সমাজ সেবক হামেদ বেপারী, ওয়াজেদ আলী বেপারী, আব্দুর রশিদ, আব্দুল মজিদ বেপারীসহ তাদের ওয়ারিশগন বিদ্যালয়ের জন্য ৩৩ শতক জমি দান করেন। ওই বছরই সেখানে স্কুলঘর প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্কুলটি জাতীয়করণের জন্য ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে বরিশাল-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কীত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য তালুকদার মোঃ ইউনুসের ডিও লেটারসহ বিদ্যালয়টি অনুমোদনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পত্র প্রেরণ করা হয়।

এরপরেও বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ না হওয়ায় ২০১৬ সালের ১৮ জানুয়ারি বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সুপারিশ করে চিঠি পাঠান। তারপরেও বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়নি। আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে প্রাইভেট কারের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মোটরসাইকেল চালক নিহত

এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফয়সল জামিল বলেন, ‘কাগজপত্রে কোনও দূর্বলতার কারণে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণ হয়নি। তাছাড়া শিক্ষকরা আমার কাছে কাগজপত্র নিয়ে আসেনি। কাগজপত্র দেখলে হয়তো বুঝতাম কেন জাতীয়করন হচ্ছে না।’

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close