রাজনীতি

মামলার উদ্দেশ্য রাজনৈতিক হয়রানি: ইশরাক

এখনই সময় :দুর্নীতি দমন কমিশনের করা মামলায় বিন্দুমাত্র বিচলিত নন বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

তিনি বলেছেন, রাজনীতি করব আর মামলা হবে না, জেল হবে না- এটা কোনো কিছু হয় নাকি বাংলাদেশে। এই মামলাটিই করা হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানি করার জন্য।

ইশরাক বলেন, ২০০৮ সালে আমাকে একটা নোটিশ দেয়া হয়েছিল আমার সব উইল স্ট্যাটম্যান্ট দেয়ার জন্য। তখন আমি ছাত্র ছিলাম। আর পড়াশোনার জন্য আমি বাইরে ছিলাম। এই নোটিশ সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। সেটার জন্যই মামলা দেয়া হয়েছে। আমি যাতে এর জবাব না দেই। এখন আবার এসে তারা এই মামলা নাড়াচাড়া করছে। আমি বলব, এই মামলা করে লাভ নেই। আমি বিন্দুমাত্র বিচলিত না। এ সব বাধা আমি কোনো বাধা মনে করি না।

বুধবার রাতে বাংলামোটরে নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের সময়তো সব দলের নেতা এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নামে মামলা হয়েছে। এই সরকার আসার পর তাদের এবং তাদের পরিবারের মামলাগুলো গায়েব করে দিয়েছে। আর আমরা যারা বিএনপি করি তাদের মামলাগুলো সক্রিয় রেখেছে। গত জাতীয় নির্বাচনে আমি যখন নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন কিনেছিলাম তখন থেকে এটা নিয়ে নড়াচাড়া শুরু করে দেয়া হয়েছে। এ সব কোনো বিষয় না।

এই মামলার কারণে মাঠের প্রচারণায় কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে খোকাপুত্র ইশরাক বলেন, আজকে আমি এই মামলায় একটা হাজিরা দিয়েছি। এই মামলা দায়ের হয়েছে ২০১০ সালে। নোটিশ জারি হয়েছে ২০০৮ সালে। এ মামলাতো নতুন নয়। আমি আমার হলফনামায় তো উল্লেখ করেছি যে আমার এই মামলা আছে। আর দুদকের মামলা তো এখন সরকারদলীয় নেতা যারা আছেন তাদের অনেকের নামেই আছে। তারা এগুলো গায়েব করে ফেলেছে। আর আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার নামেও ভূয়া মামলা দেয়া হয়েছে। তাই আমি বলি, এতে নেতিবাচক হওয়ার কিছুই নেই।

আদালত সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ইশরাক হোসেন ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের সম্পদের বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেয় দুদক। ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের কনস্টেবল তালেব কমিশনের নোটিশটি জারি করতে ইশরাকের বাসভবনে যান। কিন্তু ইশরাক সেখানে না থাকায় উপস্থিত চারজন সাক্ষীর সামনে বাসভবনের নিচতলায় প্রবেশ পথের বাম পাশের দেয়ালে স্কচটেপ দিয়ে ঝুলিয়ে নোটিশটি জারি করেন। এরপর কমিশনের দেয়া সাত কার্যদিবসের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় ২০১০ সালের ২৯ আগস্ট রাজধানীর রমনা থানায় তার বিরুদ্ধে এ মামলাটি করা হয়। দুদকের তৎকালীন সহকারী পরিচালক সামছুল আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৬ ডিসেম্বর আদালতে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়। দুদকের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন।

গত বছরের ৫ মে চার্জশিট আমলে নিয়ে ইশরাকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ। একই সঙ্গে তিনি মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। এ মামলায় গত ৯ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন ইশরাক।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close