সারাদেশ

বাবার সঙ্গে শিক্ষকের দ্বন্দ্ব, ভর্তি ফরম পায়নি কামেলী

এখনই সময়  :নতুন বছরে নতুন বই হাতে পেয়ে বেশ উচ্ছ্বাসের সাথেই ক্লাস শুরু করেছে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের যোগীগছ এলাকার কামেলী আক্তার ঘরে বসে হতাশায় দিন পার করছে। নতুন বই তো দূরের কথা স্কুলে ভর্তির ফরমটিই তাকে দেওয়া হয়নি। তার বাবার সাথে মামলা থাকায় ভর্তি ফরম দেয়নি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর। এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবক তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হচ্ছে না। বাড়ির কাছের বিদ্যালয়ে পড়তে ইচ্ছুক ওই শিক্ষার্থীর ভর্তি এখন অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছে ওই শিক্ষার্থী ও তার পরিবার। এর আগের বছরও ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে চাইলে তাকে নানা অজুহাতে বাদ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবার।

কামেলী আক্তারের বাবা আব্দুল করিম বেন্টু পেশায় একজন ব্যবসায়ী। বেন্টু ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত শালবাহান দ্বিমুখী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। ২০১৮ সালের কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফরের সাথে বেন্টুর দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এমনকি বেন্টু ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলাও করেন। মামলাটি এখনো আদালতে চলমান রয়েছে। এরপর তাদের দ্বন্দ্ব আরো চরমে রূপ নেয়।

২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর শালবাহান দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন ভর্তিবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ১৫ নভেম্বর ভর্তি ফরম নিতে যান আব্দুল করিম বেন্টু। কিন্তু দ্বন্দ্ব থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর তাকে ভর্তি ফরম না দিয়ে ফিরিয়ে দেন। বিভিন্ন মাধ্যমে অনুরোধ জানালেও কোনো কাজ হয়নি। এমনকি গত ২৯ নভেম্বর বেন্টু তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হয়নি।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে আব্দুল করিম বেন্টুর মেয়ে কামেলী মুনিগছ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিইসি পাস করে। ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর শালবাহান দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি জন্য ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয় কামেলী। ভর্তি পরীক্ষায় কৌশলে তার নাম অকৃতকার্যদের তালিকায় প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগ করেন কামেলীর পরিবার। পরে কয়েক দফায় তাকে ভর্তি করার জন্য অনুরোধ করলেও ভর্তি নেয়নি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর।

ভর্তি আদেশের জন্য আদালতে একটি মামলাও করেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল করিম বেন্টু। কিন্তু আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রিতার জন্য তিনি ২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর মামলাটি তুলে নিতে বাধ্য হন তিনি। তবে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে তার দায়ের করা মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে।

কামেলী আক্তার বলে, আমি বাড়ির কাছের শালবাহান দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়তে চাই। আমার বড় দুই্ বোনও এই বিদ্যালয়ে পড়েছে। অন্য বিদ্যালয়গুলো অনেক দূরে। কিন্তু আমাকে পড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আমার বন্ধুরা সবাই নতুন বই হাতে পেয়ে পড়তে শুরু করেছে। আমি ভর্তি ফরমটিও পাইনি। আমাকে ওই বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া হোক। আমি শিক্ষার অধিকার চাই।

অভিযোগকারী আব্দুল করিম বেন্টু বলেন, আমার সাথে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফরের দ্বন্দ্ব থাকতেই পারে, তাই বলে আমার মেয়েকে ভর্তি করাবে না এটা কেমন কথা। এ ছাড়া জিপিএ ২ এর কমে ভর্তি করাবে না এটা কোনো আইনে আছে। আমার মেয়ে বাড়ির কাছের বিদ্যালয়ে পড়তে চায়। অন্য বালিকা বিদ্যালয়গুলো বাড়ি থেকে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এর জন্য এক বছর সময় তার নষ্ট হয়েছে। এর আগের বছর আমার মেয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিল। কিন্তু ওই শিক্ষক কৌশলে তাকে ফেল করিয়ে দেয়। দলীয় কোনো পদে না থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রভাব খাটিয়ে জাফর যা ইচ্ছে তাই করছে। এবার ভর্তি ফরমটিও দেয়নি। মেয়েটি আমার হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কান্নাকাটি করছে। সবাই বই পেয়ে স্কুলে যেতে শুরু করেছে। ও ভর্তি ফরমটিও পায়নি। এবার ভর্তি করাতে না পারলে আমার মেয়ের জীবনটাই নষ্ট হয়ে যাবে। ওই বিদ্যালয়ে কি আমাদের সন্তানদের শিক্ষা লাভের অধিকার নেই।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু জাফর বলেন, একটি মামলা চলমান থাকায় তাকে ভর্তি ফরম দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ৮০ জনের বেশি ছাত্রী ভর্তি করাব না এবং জিপিএ ২ এর নিচে যাদের আছে তাদের নেব না। তাই ওই শিক্ষার্থীকে ভর্তি ফরম দেওয়া হয়নি। তবে ওই শিক্ষার্থীর বাবার সাথে তার দ্বন্দ্বের কথাও স্বীকার করেন তিনি।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল আলম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আকতার বলেন, জিপিএ ২ এর নিচে পাওয়া শিক্ষার্থীকে ভর্তি ফরম দেওয়া যাবে না এমন কোনো বিধান নেই। বিষয়টি আমি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close