আন্তর্জাতিক

সোলাইমানিকে হত্যায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রস্তাব মার্কিন সংসদে

এখনই সময়  :সামরিক শক্তি প্রদর্শনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতার লাগাম টানতে একটি প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সংসদ কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।

চলতি সপ্তাহেই ট্রাম্পের ক্ষমতার লাগাম টেনে ধরতে মার্কিন কংগ্রেসে একটি প্রস্তাবের ওপর ভোট করার কথা জানিয়েছেন ন্যান্সি পেলোসি। প্রস্তাবটির আওতায়, দেশের বাইরে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা প্রদর্শনে ট্রাম্পের একক কর্তৃত্ব কমিয়ে আনার কথা উল্লেখ রয়েছে।

নিম্নকক্ষে ট্রাম্পের বিরোধীদল ডেমোক্র্যেটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এটি সহজে পাস হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরাক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের বিতাড়িত করার উদ্যোগ নেয়া হলে বাগদাদের ওপর জারি করা হবে নিষেধাজ্ঞা। তবে যেকোনো মূল্যে মার্কিন সেনাদের মধ্যপ্রাচ্য থেকে তাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

সামরিক উপায়ে জেনারেল কাসেম সোলেইমানি হত্যার প্রতিশোধ নেয়ারও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। ২০১৫ সালে সই করা ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে রুহানি প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলছে তীব্র বাকযুদ্ধ। বাগদাদে সোলেইমানিকে হত্যার প্রতিবাদে ইরাক থেকে বিদেশি বাহিনী প্রত্যাহারের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে পাস করেছে দেশটির পার্লামেন্ট।

তবে এটি বাস্তবায়ন করা হলে ইরাকের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে ইরাকে অত্যাধুনিক সব ঘাঁটি তৈরি করেছে ওয়াশিংটন।

এর পেছনে ব্যয় করা অর্থ ফিরিয়ে দিলেই কেবল ইরাক ছাড়ার কথা ভাববে যুক্তরাষ্ট্র। আর সোলেইমানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানের যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের যে কোনো আক্রমণের কঠোর জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত। এখনো তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। ঝুঁকি নিরসন কোরে মার্কিনদের রক্ষা করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনবছর আগেই মার্কিন নিরাপত্তা পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অস্থিতিশীলতা তৈরিকারী কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার বিষয়টিও তখন থেকেই সেখানে ছিল।

সোলেইমানিকে হত্যার পর হুমকি-ধামকি জারি রাখায় ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইরানের তথ্য ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ আজারি। আর প্রতিশোধের পরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে বলে জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। এছাড়া আয়াতুল্লাহ খামেনির সামরিক উপদেষ্টা জানান, সামরিক উপায়েই প্রতিশোধ নেবে ইরান।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল হোসাইন দেহঘান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরাও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপ নেব। আমরা যুদ্ধ চাই না। যুদ্ধ যেহেতু তারা শুরু করেছে। তাই তাদের কাজের সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

ইসলামী বিপ্লবী গার্ডসের র্শীষ কর্মকর্তা জেনারেল আমির আলি বলেন, রকেট হামলা করে বা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করে, জেনারেল কাশেম সোলেইমানির মৃত্যুর বদলা নেয়া যথাযথ হবে না। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনাদের তাড়িয়ে দিয়ে, তাদের পরাজয় নিশ্চিত করাই সোলাইমানি হত্যার প্রতিশোধ।

এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তাদের, কফিনে ভরে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লেবানের হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরুল্লাহও।

এরমধ্যেই ২০১৫ সালে সই করা ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে তেহরান। এ চুক্তির মাধ্যমে তাদের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, তা আর মানা হবে না। এছাড়া পরমাণু উপকরণ সমৃদ্ধকরণ ও গবেষণার কাজে আর কোনো সীমাবন্ধতা রাখা হবে না।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close