মুক্তমত

বঙ্গবন্ধু দেশে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন

এখনই সময়  :বাংলাদেশের যে অগ্রযাত্রা তার সূচনা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম শুধু দেননি। বরং দেশটির উন্নয়নের জন্য বিস্ময়কর সব প্রকল্পসমূহ গ্রহণ করেছিলেন। একদিকে ব্যাংকিং খাতকে জাতীয়করণ করার মাধ্যমে দেশের শিল্পোন্নয়নের প্রয়াস গ্রহণ করেছিলেন। আবার শিল্পোন্নয়নের জন্য দুটি বিশেষায়িত পৃথক ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অন্যদিকে কৃষি উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক গঠন করেছিলেন। বর্তমানে ব্যাংকিং খাতে যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তা হত না যদি আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক মডেল অনুসরণ করতাম।

সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক তার বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অকর্মন্যতার কারণে কৃষি ছেড়ে বৈদেশিক বাণিজ্য ব্যবসা করতে ব্যস্ত। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করলে কৃষি ব্যাংককে অবশ্যই ঢেলে সাজানা দরকার। এবং কৃষি পণ্যের দাম বাড়লে সেটা স্থিতিশীল করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককেই কাজ করতে হবে। এ মর্মে মাননীয় প্রধনমন্ত্রীর বিশেষ দিকনির্দেশনা দরকার।

এদিকে শিল্পোন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে কাজ করতে হবে। যেহেতু সরকার উদ্যোক্তা শ্রেণি গঠন করতে চাচ্ছেন। সেহেতু দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোক্তা শিক্ষার জন্য ব্যাংকসমূহকে যে সব প্রতিষ্ঠান উদ্যোক্তা তৈরিতে সত্যিকার অর্থে কাজ করছে তাদের সিএসআরের আওতায় অর্থনৈতিক ইনকিউবেটারের জন্য অর্থায়ন করতে হবে।

ব্যাংকিং খাতে ঋণখেলাপি দূর করার জন্য একটি যথাযথ পরিকল্পনা দরকার। যা অর্থমন্ত্রী স্বয়ং ঘোষণা করবেন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সেটি বাস্তবায়ন করবেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য বাংলাদেশ ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে তাদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারছেন না। এটি দেশ এবং জাতির জন্য কলঙ্কস্বরূপ। বাংলাদেশ ব্যাংকে এখন পর্যন্ত অজ্ঞাত কারণে বাণিজ্যিক ব্যাংকে অভিজ্ঞ কোন ব্যাংকারকে ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করা হয়নি। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকিংয়ের যে বিশৃঙ্খলা সেটিও দক্ষ মানব সম্পদের অভাবে ঝুলে আছে। অন্যদিকে বর্তমান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর উনার মেয়াদ শেষ হলে একজন ভালো অর্থনীতিবিদকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ করার জন্য আন্তরিক সুপারিশ জানাচ্ছি।

বঙ্গবন্ধু এদেশে সমুদ্র সম্পদ আহরণের জন্য পেট্রোবাংলা, বাপেক্স গঠন করেছিলেন। পরবর্তী সরকাররা তার এই শুভ উদ্যোগকে ব্যাহত করেছেন। এক সময় বিএডিসির মাধ্যমে কৃষিপণ্য বিপণনের ব্যবস্থা করেছিলেন। সেটিও বিএনপি জামাতীরা বন্ধ করে দিয়েছে। টিসিবির মাধ্যমে জনগণের দ্বারপ্রান্তে সস্তায় পণ্য দেয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি-জামাতীরা টিসিবিকে খন্ডবিখন্ড করে বিকলাঙ্গ করে ফেলেছে। বর্তমান সরকার যদিও টিসিবিকে পুনরায় জাগানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ৬৪টি জেলায় বিশাল ব্যাপ্তি নিয়ে টিসিবি চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

বঙ্গবন্ধু দেশে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাই তিনি কুমিল্লা বিমান বন্দরটি চালু রেখেছিলেন। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য কুমিল্লা বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে গেছে এবং সরকারি জায়গা-জমি ইচ্ছামত ভোগদখল করা হচ্ছে। দেশে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে চাইলে কুমিল্লা, ঠাকুরগাঁও এবং খুলনা বিমানবন্দর জরুরি চালু করতে হবে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। যাতে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কুমিল্লা বিমান বন্দরের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেয়া হয়। কুমিল্লা কোঅপারেটিভ ছিল সত্যিকার অর্থে সামাজিক উদ্যোক্তা। এটির বিভিন্ন মডেল চুরি করে বিভিন্ন জন বিভিন্ন স্থানে পুরস্কার পেয়েছে। অথচ বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চেয়েছেন। এই স্বনির্ভর বাংলাদেশ মানুষের আত্মিক উন্নয়নে একটি মহতি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।
স্বনির্ভর বাংলাদেশ মডেল অনুসরণ করলে বঙ্গবন্ধুর পরবর্তী শাসকরাই জাতির উন্নয়নকে কিছু দিতে পারত। বঙ্গবন্ধু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত রাষ্টকে পুনর্গঠন করতে সর্বদিক দিয়ে প্রয়াস নিয়েছিলেন। অথচ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তারপর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে জাতিকে পেছনের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। আজ বঙ্গবন্ধু কন্যা বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য কাজ অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু যে যেখানে আছে সে তার মত করে সুযোগ-সুবিধা নিতে ব্যস্ত থাকেন। এ প্রসঙ্গে ইটকল, বিএনএফ এগুলোর কথা বলা যায়। যারা প্রকৃত অর্থে দেশের উন্নয়নে তেমন কিছু করছেন না। বঙ্গবন্ধু প্রগতি ইন্ডস্ট্রিজ স্থাপন করেছিলেন গাড়ি উৎপাদনের জন্য। সেটি এখন খুব সীমিত গাড়ি তৈরি করছে। এমনকি জনগণের সাধ্যের মধ্যে গাড়ি উৎপাদনে সচেষ্ট নয়। বঙ্গবন্ধু কালোবাজারি মুনাফাখোরদের বিরুদ্ধে সব সময় সজাগ ছিলেন। তিনি সাধারণ মানুষের আয় ব্যবস্থার জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু এক বৈশ্বিক নেতা ছিলেন তিনি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী শক্তি তাকে নোবেল পুরস্কার দেননি। শুধু তাই না রাজাকার, উগ্র ডানপন্থি তার দলের ভিতর এক দল লোক পাশাপশি বামপন্থীরা সে সময় বিভিন্ন উছিলায় দুর্নীতি ও লুটপাট করে বিভিন্ন ধরনের অপবাধ দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার হলেও এই সুযোগ সন্ধানীদের কোন বিচার হয়নি।
বঙ্গবন্ধু তার অমিত তেজ, খাটি বাঙ্গালিত্ব এবং অসাধারণ নীতিজ্ঞানের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার যে প্রয়াস নিয়েছিলেন বর্তমান সরকার সেটি পূর্ণ করতে যাচ্ছে। এখন সত্যিকার অর্থে যারা দেশকে ভালোবাসেন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জিবিত তাদের মাধ্যমেই দেশমাতৃকার মঙ্গল সাধন সম্ভব। বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষে আমাদের প্রার্থনা থাকুক দেশের যে সুন্দরের জয়গান বঙ্গবন্ধু সূচনা করেছিলেন শোষিত-নিপীড়িত মানুষ যেন না থাকে। প্রতিটি মানুষের ঘরে অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা থাকে। ধর্মীয় উগ্রবাদ থেকে আমরা মুক্তি পাই। সে লক্ষ্যে একটি সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনাও চাই দেশের অগ্রযাত্রাকে বলিষ্টভাবে রূপায়ণ করা। শেখ মুজিবুর রহমান একদিনে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেনি। কঠোর সংগ্রাম, ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে বালাদেশকে ভালোবেসে তিনি বঙ্গবন্ধু হয়েছিলেন। এবং সেই ভালোবাসা তাকে বঙ্গবন্ধুর মত উচ্চতায় আসীন করেছে।
বাংলা ভাষার প্রতি তার ছিল অকৃতিম ভালোবাসা। সে ভাষাটি যেন কেউ বুল না লেখেন। সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। ভিশনের বাংলা হওয়া উচিত রূপরেখা। বাংলাদেশে যুবসমাজকে কর্মোদ্দোগী পরিবেশ দিতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
বঙ্গবন্ধু দেশকে এমন একটি উচ্চ স্থান দিয়ে গেছেন সেটি আমরা যেন ধারণ করতে পারি। আমাদের মূল জাতীয় উৎপাদন বৃদ্ধির হার ৮.১৮ পার্সেন্টের উপরে হলেও সমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির যে নীতি বঙ্গবন্ধু ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেটিকে কাজে লাগানো দরকার। বঙ্গবন্ধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমলা মুক্ত করতে চাইলেও এখনো যারা লজিস্টিক সাপোর্টে তারাই বরং আমলা হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বারোটা বাজাচ্ছেন। দেশের রপ্তানি বহুধা বিভক্ত করার কারণে এবং নতুন বাজারের সন্ধানে বঙ্গবন্ধু যেসব উদ্যোগ নিয়েছিলেন সেগুলোকে আবার খুঁজে বের করে জাগ্রত করতে হব্।ে বঙ্গবন্ধু চিকিৎসাক্ষেত্রে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন করেছিলেন তার পরবর্তী সরকারের আমলে স্তিমিত হয়ে যায়। যদিও জননেত্রী শেখ হাসিনা কম্যুনিটি ক্লিনিক চালু করে। কিন্তু বর্তমানে একটি সিন্ডিকেট চিকিৎসা খাতকে ব্যয়বহুল করে তুলেছেন। এই অব্যবস্থার জন্য এবং জনগনের স্বাধ্যের মধ্যে চিকিৎসা আনয়নের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতা বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা দরকার।
পাশাপাশি জীবন রক্ষাকারী ঔষদের দাম বলগাহীনভাবে বেড়ে চলেছে। এটিকে সহনীয় পর্যায়ে আনা দরকার। এ জন্য যারা দায়ী তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বঙ্গবন্ধু দেশে আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করতে এবং নারীর ক্ষমতায়নে সর্বনিষ্ঠার সাথে ব্যবস্থা গ্রহণে সব সময় সচেষ্ট ছিলেন। এটিকেও বর্তমান সরকার যেভাবে প্রসারিত করছেন সেটি প্রশংসনীয়। বঙ্গবন্ধুপ্রেমি হিসেবে আমি সব সময় বিশ্বাস করি বঙ্গবন্ধু চিরজীবন বাঙালির স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবেন। দেশ জাতির মানস গঠনে তার যে ভূমিকা। এবং মুক্তবুদ্ধির চর্চা অব্যাহত থাকবে। জয়তু বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলা।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close