স্পোর্টস

মুশফিকের দানবীয় ব্যাটিং বিফলে গেল!

এখনই সময়  :দুর্দান্ত ঢাকার সঙ্গে পেরে উঠল না খুলনা টাইগার্স। দলকে জেতানোর আপ্রাণ চেষ্টায় ব্যাট হাতে টর্নেডো বইয়ে দিলেন মুশফিকুর রহিম। অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে দলকে তো জয়ের বেশ কাছাকাছিই নিয়ে এসেছিলেন খুলনা অধিনায়ক। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। সিলেটে মুশফিকের লড়াকু ব্যাটিং পারফরম্যান্সের পরও ঢাকা প্লাটুনের কাছে ১২ রানে হেরে গেছে খুলনা টাইগার্স। এই জয়ে ১২ পয়েন্ট নিয়ে বিপিএলের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

১৭৩ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে খুলনা ওপেনিংয়ে পাঠায় আরেক লোয়ার অর্ডার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে। কিন্তু এই চমক দেখিয়ে আখেরে লাভ হয়নি। বিপ্লব মাত্র ৪ রান করে মাশরাফির শিকারে পরিণত হন। ১৫ বলে ১৫ রানের এক ইনিংস খেলে হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হন মিরাজ। এরপর শামসুর রহমানও ৩ রানে শাদাব খানের শিকার হন। ১৩ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ১৮ রান করা প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান রাইলি রুশেকে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন ঢাকার তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ।

এই পর্যায়ে খুলনার হার প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। সেখান থেকে নতুন করে লড়াই শুরু করেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা খুলনা এরপর ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে মুশফিকুর রহীম আর নাজিবুল্লাহ জাদরানের ব্যাটে। ২৯ বলে ৩১ রানে জারদান আউট হলে ভাঙে ৫৬ রানের জুটি। তখন জিততে হলে ১৮ বলে খুলনার দরকার ৪৮ রান। এমন সময় ঝড় তোলেন মুশফিক। ২৭ বলে ফিফটি পূরণ করা মুশফিক ৩৩ বলে ৬৪ রান করে হাসান মাহমুদের শিকার হলে ৮ উইকেটে ১৬০ রানে থামে খুলনার ইনিংস। মুশফিকের ইনিংসে ছিল ৬টি চার এবং ৪টি ছক্কা।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয় খুলনা। ব্যাট হাতে নেমে দলের পক্ষে দলকে ভালো সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুলক হক বিজয়। ২৩ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ২৫ রান করে আউট হন তামিম। ভাঙে ৩৩ বলে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি। বিজয়ও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ১৩ বলে ১টি করে চার ও ছক্কায় ১৫ রান করেন তিনি। চার নম্বরে নেমেছিলেন পিঞ্চ হিটার মেহেদি হাসান। এবার ১ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। ৬২ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে ঢাকা। এরপর সতর্কতার সাথে খেলে রানের চাকা সচল রাখেন তিন নম্বরে নামা মুমিনুুল হক ও আরিফুল হক।

দুজনের ব্যাটিং দৃঢ়তায় শতরানের কোটা পেরোয় ঢাকা। চতুর্থ উইকেটে ৪৭ বলে ৫৬ রানের জুটি গড়েন তারা। ৩টি চারে ৩৬ বলে ৩৮ রান করে ফিরেন মুমিনুল। মুমিনুল যখন আউট হন তখন ইনিংসের ২১ বল বাকী ছিল। দলের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১১৮ রান। এ অবস্থায় ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন পাকিস্তানের আসিফ আলি। ১৩ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৩৯ রান করেন এই ব্যাটসম্যান। আর আরিফুলের ব্যাট থেকে আসে ৩৭ রান। ৩০ বলের ইনিংসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা মারেন আরিফ। তাদের ব্যাটিং দৃঢ়তায় ৪ উইকেটে ১৭২ রানের বড় সংগ্রহ পায় ঢাকা। খুলনার পাকিস্তানী পেসার মোহাম্মদ আমির ২৭ রানে ২ উইকেট নেন।

 

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close