সারাদেশ

ডাক্তারদের ‘থার্টি ফার্স্ট’ উদযাপন, রোগীদের বিভীষিকাময় রাত

এখনই সময়  :হাসপাতাল ভবনের দ্বিতীয় তলায় অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে পা ভাঙ্গার চিকিৎসা নিতে ভর্তি থাকা রোগী তিনি। গানের শব্দকে মানিয়ে নিয়েই বিছানাতে শুয়ে ছিলেন। তবে আতশ বাজির শব্দ ওনাকে আর ঘুমাতে দেয়নি। বলেন, ‘প্রথম তো ভয়ই পেয়ে গিয়েছিলাম। পরে শুনি ডাক্তাররা থার্টি ফার্স্টের আনন্দ করছে।’ কাজটি মোটেও ঠিক হয় বলে মন্তব্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা ওই রোগীর।

উইস ফর বেটার ব্রাহ্মণবাড়িয়া নামে একটি ফেসবুক পেইজে চিকিৎসকদের থার্টি ফার্স্ট নাইট আয়োজনের সমালোচনা করে একাধিক পোস্ট হয়। এতে অনেকেই তাদের মন্তব্যে চিকিৎসকদের কঠোর সমালোচনা করেন। এমনকি চিকিৎসকদেরকেই রোগী বলে আখ্যায়িত করেন তারা।

মঙ্গলবার রাতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকরা এমন সমালোচনার মুখে পড়েন। অনুষ্ঠান বন্ধ করতে শেষ পর্যন্ত সদর থানা পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ও পিঠা উৎসব উদ্বোধন এবং থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনকে ঘিরে হাসপাতালের অভ্যন্তরেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার ফটকের সামনে গানের মঞ্চ করা হয়। এর উল্টোদিকেই পিঠা উৎসবের প্যান্ডেল করা হয়। দুই আয়োজনের মাঝখানের খালি জায়গায় থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে আতশবাজি ফুটানো হয়। হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস নামে এক ওষুধ কম্পানি পুরো অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন।

একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন, ডা. ফৌজিয়া আখতার, ডা. হুমায়ুন কবিরসহ আরো কয়েকজন চিকিৎসক আতশ বাজি ফুটাচ্ছেন। স্টল ঘুরে তাদেরকে পিঠা নিতেও দেখা যায়। এরই মাঝে মঞ্চে চলে গান। পুরো অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. শাহ আলম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজের চেয়ারম্যান ডা. মো. আবু সাঈদসহ চিকিৎসক ও তাদের পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি থাকা রোগী নবীনগর উপজেলার বড়াইলের এলু মিয়া ও সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছের আবু তালেব মৃধা বলেন, এমনিতেই ঘুমের সমস্যা। তার ওপর গানের ও বাজির আওয়াজে আমাদের আরো সমস্যা হয়। শিশু ওয়ার্ডে থাকা সুহিলপুরের মালব চাঁন বেগম জানান, বিকট শব্দের সময় তার নাতিকে কোলে নিয়ে বসে ছিলেন।

তবে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. শওকত হোসেন এ প্রসঙ্গে কালের কণ্ঠকে বলেন, চিকিৎসকদের রিফ্রেশের জন্য মূলত পিঠা উৎসব ও ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। গানের আয়োজনের কথা জানা ছিলো না। আমরা যখন উপরে যাই তখন কিছু সময় গান চললে আমরা বন্ধ করে দেই। আমাদের পরিবারের ছোট বাচ্চারা আতশ বাজি ফুটাতে চাইলে আমরা ‘না’ করে দেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, আয়োজনের বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। বিকট শব্দে গান ও পরে আতশ বাজি ফুটানোর শব্দ পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে বলা হয়।

আরও সংবাদ

মন্তব্য করুন

Back to top button