মুক্তমত

বঙ্গবন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ: এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত

এখনই সময়  :

ইসাহাক আলী মাস্টার

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কয়েকবার সরাসরি কয়েকটি প্রোগ্রামে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল। একদিন ১৯৫১ সালে বৃহত্তর যশোরে চাঁদ মঞ্জিলে যশোর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে মিটিংয়ে বঙ্গবন্ধুর সাথে সরাসরি কথা বলার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সাথে যশোর আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী এবং অ্যাডভোকেট মশিউর রহমানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা দেন এবং সাথে অন্যান্য সাংগঠনিক আলোচনাও হয়।

জীবন সায়াহ্নে এসেও আমার ভাবতেই আনন্দ লাগছে যে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ভাবে জাতির পিতার সম্মানার্থে মুজিব বর্ষ পালিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে সঠিক ধারায় সমুন্নত রাখতে এবং দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে বেগবান রাখতে বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা এবং তা অনুসরণ করা অতীব জরুরি।

আমার সমগ্র রাজনৈতিক জীবনে সবচেয়ে সুমধুর স্মৃতি এবং প্রাপ্তি ছিল বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শে আসা। ১৯৭০ এর নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে যখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কুষ্টিয়া এসেছিলেন তখন মধুপুরে আব্দালপুর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম এর বাড়ির পাশে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সে সময় সেখানে আমি আমার এলাকার সাধারণ জনগণের সাথে বঙ্গবন্ধুর আগমন উপলক্ষে একটি তোরণ নির্মাণ করি।

পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র- শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিকসহ সমস্ত শ্রেণি পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতি মুগ্ধ হয়ে কাছ থেকে এক নজর দেখার জন্য রাস্তার দুই ধারে তিন চার স্তরের লাইন দিয়ে পুরুষ-মহিলারা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন। আমার জীবনে একসাথে এত লোক কখনো দেখিনি। তখনই আমার মনে হয়েছিল শেখ সাহেব কোন সাধারণ নেতা নন!

উৎসুক উদ্বেলিত জনগণের ইচ্ছায় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবস্থা করা হয়। তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা শামসুল আলম দুদু একটি খোলা গাড়িতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে এখানে যাত্রা বিরতি করেন। তখন সেই খোলা গাড়িতে উঠে আমি বঙ্গবন্ধুর পাশে দাঁড়িয়ে একটি মানপত্র পাঠ করি। পাঠ শেষে তা বঙ্গবন্ধুর হাতে প্রদান করি যাতে লেখা ছিল “বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষ তোমার মুখপানে চেয়ে আছে দিকনির্দেশনার জন্য”।

মানপত্র পাঠ শেষে যখন বঙ্গবন্ধু আমার গায়ে হাত বুলিয়ে বলেছিলেন দেশের কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখবা সেই অনুভূতি, সেই অমৃত বাণী কখনো ভোলার নয়। আশির দশকে এরশাদ সরকারের আমলে যখন ঢাকা থেকে বুকে বোম্ নিয়ে কুষ্টিয়া এসেছিলাম তখনও এত ভালোলাগা অনুভূত হয় নাই। যাই হোক, বঙ্গবন্ধুর মুখ নিঃসৃত সেই অমৃত বাণী এখনও আমাকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে দল সুরক্ষায়, সমাজ গঠনে নিবিড়ভাবে নিয়োজিত আছি। এর থেকে পরমানন্দ আর কোনো কিছুতে বোধ হয় না।

তারপর বঙ্গবন্ধুর সাথে আমিও কুষ্টিয়ায় ডাকবাংলোতে আসি। সেখানে কুষ্টিয়ার এম এন এ আজিজুর রহমান আক্কাস সাহেব, মেহেরপুরের এম এন এ সহিউদ্দিন সাহেব, চুয়াডাঙ্গার এম এন এ হেবা জব্বার সাহেব, ঝিনাইদহে প্রাদেশিক সদস্য আজিজুর রহমান সাহেব, পাবনার এম এন এ আব্দুর রউফ সাহেব, এবং আহসানুল্লাহ প্রমুখ বঙ্গবন্ধুকে অভ্যর্থনা দেন।

জীবন সায়াহ্নে এসেও আমার ভাবতেই আনন্দ লাগছে যে বঙ্গবন্ধুর কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে জাতির পিতার সম্মানার্থে মুজিব বর্ষ পালিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে সঠিক ধারায় সমুন্নত রাখতে এবং দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে বেগবান রাখতে বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করা এবং তা অনুসরণ করা অতীব জরুরি।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল বলেই স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল। আর তারই কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে এক অনন্য মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে চলেছেন। ভালো লাগে মুজিবাদর্শের মিছিল এখনও তিন প্রজন্ম (আমি, ছেলেরা -নাতি) একসাথে করছি। মনের এক কোণো বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে কাছ থেকে মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করার ইচ্ছা অনুভব করি।

বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ উন্নত বাংলাদেশে রূপান্তর করার জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা এবং সুস্থ থাকা দেশের মানুষের জন্য এক অনন্য আশীর্বাদ।

লেখক : বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য প্রবীণ আওয়ামী লীগ কর্মী।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close