জাতীয়

ধাপে ধাপে রেল উঠবে উন্নয়নের অনন্য উচ্চতায়

এখনই সময় :বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো: শামছুজ্জামান বলেছেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে বদলে যাবে দ্রুত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে যমুনা সেতুর ওপর আলাদা রেলসেতুর কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় সবজি ও দুধসহ বিভিন্ন দরকারি পণ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ রেলসেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেলসেবা অ্যাপসে টিকিট পাওয়ার ভোগান্তি কমানো হয়েছে। রেলের ডিজি মনে করেন রেলওয়ে পাঁচ বছরে উন্নয়নের অনন্য উচ্চতায় যাবে। রেলের কোচ ও ইঞ্জিন সংকট দুর হবে যেমন তেমনি অবকাঠামোর উন্নয়নও দৃশ্যমান হবে। তবে রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা করা হয়েছে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত। ধাপে ধাপে রেল উঠবে উন্নয়নের অনন্য উচ্চতায়।

আজ ২৮ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠ লাইভে তিনি এসব তথ্য জানান। কালের কণ্ঠের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক পার্থ সারথি দাসের সঞ্চালনায় রেলের ডিজি বলেন, ‘৭৫টি রেলস্টেশনে কম্পিউটার ও ইন্টারনেটভিত্তিক টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে কাউন্টারের বাইরে অ্যাপস ও ইন্টারনেটে। আমরা এ সেবা আরো বাড়াব।’

রেলসেবা অ্যাপস নিয়ে গত ৪-৫ মাসে অভিযোগ কমই আসছে জানিয়ে রেলের ডিজি বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে, এই সময়েও রেলে টিকিটের চাহিদার চাপ রয়েছে। কুয়াশার কারণে বাস ছেড়ে লোকজন ট্রেনে চড়তে চাইছেন। যদিও কুয়াশার ফলে দেরিতে হলেও আমাদের ট্রেন চালাতে হচ্ছে। যাত্রীসেবা বাড়াতে রেলওয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে ও বাড়াতে হবে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছি। মাথা ঠিক হলে মেরুদণ্ড ও লেজ ঠিক থাকবে- এজন্য অনিয়মে যুক্ত কর্মকর্তাও রেহাই পাচ্ছেন না। তাদের বদলি করা হচ্ছে এক অঞ্চল থেকে রেলের অন্য অঞ্চলে। এ কারণে যারা কাজ করেন না তারা বার্তা পেয়েছেন। সতর্ক হচ্ছেন। আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি সকল কর্মচারীদের কর্মকাণ্ড।’

‘আমরা নতুন ট্রেন চালু করেছি। আরো নতুন ট্টেন চালু করা হবে। আগামী মাসেও একটি ট্টেন চালু করার পরিকল্পনা আছে। কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্টেনটি চালু করার একদিন পর দেখা গেল, ট্রেনের ভেতরে আসন ছিঁড়ে রেখেছে কোনো দুস্কৃতিকারী। রেলওয়ের ওই সব দুস্কৃতিকারীকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এভাবে আমরা আগে থেকে কার্যকর সব দুস্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিয়েছি।’

‘রেলে যেসব অনিয়ম হয়েছে সেগুলোর বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ও হচ্ছে। ট্রেন পরিচালনায় ত্রুটি চিহ্নিত করে গাফিলতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় জড়িত রেল কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মনুষ্যসৃষ্ট কারণে দুই একটি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। সেগুলোর বিষয়ে তদন্ত হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্রেন আগের চেয়ে নিরাপদ বলেই যাত্রী বাড়ছে। আমরা ট্টেনকে নিরাপদ করতে চাই। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মেগা প্রকল্প যেমন বাস্তবায়ন হবে তেমনি আসবে নতুন ইঞ্জিন ও কোচ।’

‘ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০০ এর মধ্যে ৭০টি ক্যারেজ এসেছে। আরো কিছু ট্টেন চালু করা হবে। পশ্চিম রেলের লালমনিরহাট বিভাগ ছিল সবচেয়ে অবহেলিত। এই বিভাগের রেল সেবার আধুনিকায়ন করা হয়েছে। সিলেটের উদয়ন ট্রেনের রেক পরিবর্তন করা হবে। আরো আন্তঃনগর ট্টেন চালু করা হবে রেলের পুর্ব অঞ্চলে। মেইল ট্রেনে আরো কোচ যোগ করা হবে। আগে যেখানে ১৩০০ কোচ ছিল সেখানে এখন রেলে ১৭০০ কোচ হয়েছে।

 

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close