সারাদেশ

ক্ষুদেবার্তায় অকৃতকার্য, রেজাল্ট শিটে কৃতকার্য

এখনই সময় :তাহিরা খান এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দেয় বরগুনা সরকারি কলেজ থেকে। এপ্রিল মাসে পরীক্ষার পর বিশ্ববিদালয়ে ভর্তি হওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা গিয়ে কোচিং ক্লাস করে তিন মাস। জুলাই মাসে ফলাফল প্রকাশ হলে টেলিটক ক্ষুদে বার্তায় অবগত হয় সে অকৃতকার্য তিন বিষয়ে।

এতে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। প্রস্তুতি নেয় আবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করার। ঠিক এই সময়ে জানা গেল সে অকৃতকার্য নয় বরং ৩.৮৩ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ। ফলাফল ভুলের জন্য বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যন প্রফেসর মো. ইউনুচ দূষলেন মোবাইল ফোন কম্পানি টেলিটককে।

বোর্ড চেয়ারম্যানের এ সংক্রান্ত বক্তব্যর একটি ভিডিও রেকর্ড কালের কণ্ঠ প্রতিনিধির কাছে সংরক্ষিত আছে। এ ছাড়া তিনি পরীক্ষার্থীকে দোষারোপ করেন ফল ভালো না হওয়ায় কেন বোর্ডে যোগাযোগ করেনি।

তাহিরা খান পাথরঘাটা পৌর শহরের তিন নম্বর ওয়ার্ডের মো. জাকির হোসেন খানের কন্যা। মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার খবর জেনে এক রকম মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ে। পরিবার তাকে সান্ত্বনা দেন আবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফল অর্জনের। এ জন্য এ মাসের ১৭ তারিখ বরগুনা সরকারি কলেজে পুনরায় ফরমপূরণের জন্য কাগজপত্র জমা দিতে গিয়ে বোর্ড থেকে সংগ্রহকরা রেজাল্ট শিটে দেখা যায় সে অকৃতকার্য নয়।

তাহিরা খান কালের কণ্ঠকে বলে, অস্বাভাবিক ফলাফল আমাকে আহত করে। চিন্তিত হই ভবিষ্যত নিয়ে। এ রেজাল্ট নিয়ে আমার কাঙ্ক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ ছিল।

মা সেলিনা খানম বলেন, পরীক্ষার পর মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। পরীক্ষায় মন্দ ফলাফল মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে লজ্জায় পড়তে হয়েছে। এমন মানুষিক নির্যাতন তাকে অস্বাভাবিক কিছু না ঘটে সেজন্য আমাদের সতর্ক থাকতে হয়েছে সারাক্ষণ।

তাহিরার বাবা মো. জাকির খান বলেন, ২০২০ সালে পরীক্ষা দিয়ে তাকে পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করতে হবে। মেয়ের শিক্ষা জীবন থেকে এক বছর ঝড়ে যাওয়ার দায় কে নেবে?

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close