সারাদেশ

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে কামালের জাল জন্ম সনদ বাণিজ্য রমরমা

চাঁদপুর প্রতিনিধি


হাজীগঞ্জ উপজেলার ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের তথ্যসেবা কর্মী কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জন্ম সনদ জাল করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কামালের বিরুদ্ধে আগেও অসংখ্য বার জন্ম সনদ জাল জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠলেও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা ছিলো নিরব!

কামালের বানানো ভূয়া জন্ম সনদ নিয়ে ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নে অসংখ্য অপ্রাপ্ত বয়স্ক স্কুল পড়ুয়া কন্যা শিশুকে জোর পূর্বক বিয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।স্থানীয় প্রশাসন বাল্য বিবাহ রোধে ঢাকঢোল পেটালেও ভুয়া জন্ম সনদ ব্যবসার নেপথ্যের নায়ক কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে অদৃশ্য কারনে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো তৎপরতাই পরিলক্ষিত হয়নি।


জাল জন্ম সনদ।

কামাল হোসেনের জন্ম সনদ জাল জালিয়াতি বাণিজ্যের নেপথ্যের খবর জানতে মাঠে নামে ক্রাইম রিপোর্ট এর অনুসন্ধানী দল।অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর নানান তথ্য।চেয়ারম্যানের সীল স্বাক্ষর জাল করে শত শত ভুয়া জন্ম সনদ বিক্রি করেছে কামাল হোসেন।অনলাইনে সে সব ভুয়া জন্ম সনদের কোনো পরিপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়নি।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,কামাল হোসেন প্রতিটি ভুয়া জন্ম সনদ এর জন্য সেবাগ্রহীতার নিকট থেকে ৫/১০ হাজার টাকা নিতো।মেয়ের বিয়ে দিতে কেউ জরুরী ভুয়া সনদ নিতে আসলে জন্ম সনদের দাম বেড়ে ১০ হাজারের ৩ গুন বেশি হয়ে যেত।জন্ম নিবন্ধন নম্বরও থাকতো ভুয়া।নিবন্ধন বহি নম্বরও ভুল।ইস্যুর তারিখও থাকতো ভুয়া।

অনুসন্ধানী দলের হাতে আসা কামাল হোসেনের বিক্রি করা ভুয়া জন্ম সনদের নানান তথ্য উপাত্তের সন্ধানে আবারো মাঠে নামে অনুসন্ধানী দল।বেরিয়ে আসে কামাল হোসেনের জন্ম সনদ জাল জালিয়াতি কারবারের চমকপ্রদ তথ্য।

আঁখি আক্তার ,পিতা আনোয়ার হোসেন গ্রাম বেলঘর।নিবন্ধন নম্বর (১৯৯৯১৩১৪৯৬৫০১৬৭৮১)নিবন্ধন বই নং ৪,নিবন্ধনের তারিখ-১০/০৬/২০০৮ ইং,ইস্যুর তারিখ-২৪/০৪/২০১৫ ইং।জন্ম সনদ ইস্যুর তারিখ -২২/০৪/২০১৫ ইং তারিখে জন্ম সনদে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা জলিলুর রহমান দুলালের সীলমোহর স্বাক্ষর তারিখ থাকলেও সে সময় তিনি চেয়ারম্যান ছিলেন না।সে সময়ে চেয়ারম্যান ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন মিয়াজী।

তানজিনা আক্তার পিতা জসিম উদ্দিন ,নিবন্ধন বই নং ১০,ইস্যুর তারিখ ২৫/০৮/২০১৯ ইং।নিবন্ধন নম্বর (২০১১৩১৪৯৬৫১০৯০৭৫)সনদ ইস্যুর তারিখ ২৫/০৮/২০১৯।সনদে সচিব রাবেয়া বশরীর
সীলমোহর ও স্বাক্ষর থাকলেও সে সময় সচিবের দায়িত্বে ছিলেন আবুল বাশার।চেয়ারম্যান মির্জা জলিলুর রহমান দুলালের স্বাক্ষরও জাল।

রিয়াদ হোসেন পিতা আব্দুল মান্নান ,গ্রাম হাটিলা, নিবন্ধন বই নম্বর ৩, নিবন্ধনের তারিখ ২৮/১২/২০১০ইং।ইস্যুর তারিখ ৩১/১০/২০১৬ ইং।নিবন্ধন নম্বর -(১৯৯৫১৩১৪৯৬৫০২০৩৫৪)।জন্ম সনদ ইস্যুর তারিখ ৩০/০১/২০১৬ ইং হলেও তৎকালীন চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন মিয়াজীর সীলমোহরকৃত স্বাক্ষর ও সীল ২৭/০২/২০১৪ সালের!

সোহান পিতা আবুল হোসেন, গ্রাম হাড়িয়াইন ,নিবন্ধন বই নম্বর -৮ ,নিবন্ধনের তারিখ ৩০/০৮/২০১৫ ইং।নিবন্ধন নম্বর -(১৯৯৮১৩১৪৯৬৫১০৩১৬৭)।জন্ম সনদে কোনো সীলমোহর নেই চেয়ারম্যান ও সচিবের স্বাক্ষর নকল।

এ ব্যাপারে ৮ নং হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মির্জা জলিলুর রহমান দুলাল মুঠোফোনে ক্রাইম রিপোর্টকে বলেন,”এসব ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের কামাল হোসেনের কাজ।সে অসংখ্য বার আমার সীল স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া জন্ম সনদ বিক্রি করে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো শেষ নেই। কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন জানতে চাইলে মোবাইলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

Related Articles

Leave a Reply

Back to top button
Close