রাজনীতি

আ’লীগের কাণ্ডারি কারা ছিলেন? ২১তম কে হচ্ছেন সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক? অরিন্দম হালদার

  1. বাংলাদেশের ইতিহাসে ৭০ বছরের পুরাতন  ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ।
    ৭০ বছরের ইতিহাসে আ’লীগের সভাপতি ছিলেন ৬ জন; এর মধ্যে দু’জন ছিলেন আলেম।

প্রতিষ্ঠাকালীন পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, সহ-সভাপতি হন আতাউর রহমান খান, শাখাওয়াত হোসেন ও আলী আহমদ।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম  দলটির। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী রোজ গার্ডেনে আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে এই দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

মৌলভী শামসুল হক হন সাধারণ সম্পাদক। শেখ মুজিবুর রহমান, খন্দকার মোশতাক আহমদ ও এ কে রফিকুল হোসেনকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইয়ার মোহাম্মদ খানকে করা হয় কোষাধ্যক্ষ।

অন্যদিকে, পুরো পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সংগঠনটির নাম রাখা হয় নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। এর সভাপতি হন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। সেক্রেটারি জেনারেল হন মাহমুদুল হক ওসমানী। নওয়াবজাদা নসরুল্লাহ খান হন পশ্চিম পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত ২০টি কাউন্সিলে আওয়ামী লীগ ছয়জনকে সভাপতি পদে পেয়েছে আর সাধারণ সম্পাদক পদে নয়জনকে। বর্তমানে আআওয়ামীলীগের ষষ্ঠ  সভাপতি শেখ হাসিনা  আর ওবায়দুল কাদের দলটির নবম সাধারণ সম্পাদক।

আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতির যারা দায়িত্ব পালন করেছেন:

দলের প্রথম সভাপতি ছিলেন মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী। তিনি ১৯৪৯ থেকে ১৯৫৭ সাল পর্যন্ত চারটি কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন।

তবে ১৯৫৭ সালে মতবিরোধের কারণে মাওলানা ভাসানী দল ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ওই বছর একটি বিশেষ কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন মাওলানা আবদুর রশিদ তর্কবাগীশ। ১৯৬৪ সালে দলের পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি পূর্ণরূপে সভাপতি নির্বাচিত হন।  ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত মাওলানা তর্কবাগীশ সভাপতি পদে ছিলেন।

১৯৬৬ সালে ষষ্ঠ কাউন্সিলে আওয়ামী লীগের সভাপতি হন শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সভাপতি পদে ছিলেন।

দশম কাউন্সিলে ১৯৭৪ সাল,  সভাপতি হন এ এইচ এম কামরুজ্জামান।

এরপর ১৯৭৮ সালে কাউন্সিলে সভাপতি হন আবদুল মালেক। তিনি ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ছিলেন।

১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারির ১৩ তম কাউন্সিলে সভাপতি হন বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। ১৯৮১ থেকে এখন পর্যন্ত ৩৮ বছর ধরে সফল ও সুনামের সাথে দলের সভাপতিত্ব করছেন সর্বকালের সেরা সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব দেশরত্ন শেখ হাসিনা। ১৩,১৪,১৫,১৬,১৭,১৮,১৯ ও সর্বশেষ ২০তম কাউন্সিলেও তিনি একই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

যারা গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন :
১৯৪৯ সালে দলের প্রথম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হন মৌলভী শামসুল হক।
পরবর্তী ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত দলের দ্বিতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমান।

তাজউদ্দীন আহমেদ ১৯৬৬ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তিন মেয়াদে দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ।

১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তী (১৯৭৬-১৯৮৭)দুই মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুর রাজ্জাক।

১৯৮৭ সালে সাধারণ সম্পাদক হন সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তাঁর মেয়াদকাল ছিল ১৯৯২ সাল পর্যন্ত।

জিল্লুর রহমান (১৯৯২-২০০২) আবারও দুই মেয়াদে ২০০২ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

২০০২ সালের কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক হন আবদুল জলিল। মেয়াদকাল ২০০২-২০০৯ সাল পর্যন্ত।

২০০৯ সালে দলের ১৮তম কাউন্সিলে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করেন ২০১৬ সাল পর্যন্ত।

২০১৬ সালে ২০ তম কাউন্সিলে নির্বাচিত হয়ে নবম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জনাব ওবায়দুল কাদের।

উল্লেখ্য ১৯৭৫ পরবর্তী জাতির পিতা ও তার সপরিবারকে ইতিহাসের নির্মম হত্যার পরের প্রেক্ষাপটে ১৯৭৬ সালে মহিউদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৭৭ সালে দলের ১১তম কাউন্সিলে সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনকে আহ্বায়ক করা হয়।

আগামী ২১ ডিসেম্বর ২১ তম কাউন্সিলে রচিত হবে নতুন ইতিহাস। বাঙালি ও আওয়ামী লীগের শেষ আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনা ৯ম বারের মত আওয়ামীলীগের সভাপতি হচ্ছেন, শতভাগ নেতাকর্মীর ইচ্ছাতেই।
তবে ২১ ডিসেম্বর ২০১৯ এর আগে জানা বা বলা সম্ভব নয়, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে কে আশিন হচ্ছেন?

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
সাবস্ক্রাইব করুন

সাবস্ক্রাইব করুন

এখনইসময় সাইটে এখন থেকে মিস হবেনা কোন সংবাদ, সাবস্ক্রাইব করলেই পেয়ে যাবেন তাজা খবর!

You have Successfully Subscribed!

Close