জাতীয়সারাদেশ

এতিম নুরনবী ভাঙ্গা হাতের চিকিৎসার জন্য রাস্তায় মাস্ক বিক্রী করছে

কুড়িগ্রাম  প্রতিনিধি :

করোনার এই দুঃসময়ে বুকের উপর ঝুলে থাকা কনুই পর্যন্ত প্লাস্টার জড়ানো ভাঙা বাম হাত আর ডান হাতে একটি পলিথিন ব্যাগে আকাশী রঙের কিছু মাস্ক নিয়ে মোড়ে মোড়ে ঘুরে বিক্রি করছেন দশ বছরের একটি এতিম শিশু। তার সমবয়সী শিশুরা যখন নিরাপদ সুন্দর আগামীর জন্য ঘরে অবস্থান করছে তখন ভাঙা হাতের চিকিৎসার টাকা যোগাতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মাস্ক বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছেন দশ বছর বয়সী নুরনবী বাবু। এই টাকা দিয়ে সে ভাঙা হাতের চিকিৎসা করাবে।

 

বুধবার (৭ জুলাই) দুপুরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কলেজ মোড়ের সড়কে নুরনবীকে এ অবস্থায় মাস্ক বিক্রি করতে দেখা যায়।

 

ব্যবসায় অনভিজ্ঞ নুরনবী পথচারীদেরকে তার কাছ থেকে মাস্ক কিনতে কাকুতি-মিনতি করছিল। মলিন চেহারার ছোট্ট এই শিশুর কাছ থেকে মাস্ক কিনতে অনীহা প্রকাশ করছিল পথচারীরা।

 

নুরনবী জানায়, পাঁচ দিন আগে জাম পাড়তে গিয়ে গাছের মগ ডাল থেকে পড়ে যাই। এতে বাম হাত ভেঙে যায়। নানী ডাক্তারের কাছে নিয়ে হাত প্লাস্টার করিয়ে এনেছেন। ঔষধ কেনার টাকা নাই। বাবা অছিম উদ্দিন মারা গেছেন বেশ কিছুদিন আগে। মা সোনাভান মানসিক ভারসাম্যহীন। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট আমি।

 

জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের বাগভান্ডার গ্রামে নানীর কাছে থাকে নুরনবী। সে বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। করোনার এই সময় স্কুল বন্ধ থাকায় সংসার চালাতে বড়দের যোগালি হিসেবে কাজ করে সে। পাশাপাশি গাছ থেকে জাম পেড়ে বাজারে বিক্রি করেও কিছু টাকা আয় করে সংসারে যোগান দেয়। হাত ভেঙে যাওয়ায় সেই সুযোগ আর নেই তাই ভাঙা হাতের চিকিৎসার টাকা জোগাতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে মাস্ক বিক্রি করছে সে। কোনো দিন দুই-চারটা মাস্ক বিক্রি করতে পারে আবার কোনোদিন একটাও বিক্রি হয় না।

 

বাগভান্ডার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মশিউল আলম জানান, নুরনবীর বাবা মারা গেছে, মা মানসিক ভারসাম্যহীন। নুরনবীরা দুই ভাই তার নানীর কাছে থাকে। নুরনবীর নানী বিবিজান অত্যন্ত গরিব। স্কুল বন্ধ থাকায় নুরনবীর হাত ভাঙার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। বিত্তবান ব্যক্তিরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে নুরনবী উপকৃত হবে।

 

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা জামাল হোসেন জানান, শিশু নুরনবীর বিষয়ে জানা ছিল না, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। তাকে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। আর তার মা যদি সরকারি ভাতা না পেয়ে থাকেন তাহলে তাকে বিধবা অথবা প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হবে।

আরও সংবাদ

Back to top button