মুক্তমত

এশিয়ার পরিচ্ছন্ন গ্রাম: মাওলিননং

মেঘালয়ের পূর্ব খাসি পাহাড় জেলার মাওলিননং গ্রাম এশিয়ার সবচেয়ে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন গ্রাম হিসেবে খ্যাঁত। পরপর দুবার আন্তর্জাতিক ট্রাভেল ম্যাগাজিনের থেকে স্বীকৃতি পেয়েছে গ্রামটি।
শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য যে পৃথিবীর সেরা গ্রাম তা নয়, গ্রামের মানুষের পোশাক পরিচ্ছদ বাড়িঘর সবকিছু একদম ঝকঝকে-তকতকে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য ভারতের এই মাওলিননং গ্রাম পৃথিবী বিখ্যাত।


এই গ্রামটি শ্রীলং থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর ৯০কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। ২০১৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গ্রামের জনসংখ্যা ৫০০ জন। এখানে প্রায় ৯৫ টি পরিবার বসবাস করে। সাক্ষরতার হার ৯০ শতাংশ। এখানকার মানুষের উপার্জনের প্রধান উৎস কৃষিকাজ এবং সুপারি তাদের প্রধান ফসল।ভারতবর্ষে এটি একমাত্র গ্রাম যেখানে প্রত্যেকটি বাড়িতে শৌচালয় আছে। এখানে বাড়ি তৈরীর পূর্বেই শৌচালয় নির্মাণ করা হয়। এ গ্রামের মানুষ অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব বলে এখানে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার লক্ষনীয়। । এই গ্রামটি সম্পূর্ণরূপে প্লাস্টিক ব্যাগ বর্জিত এবং এখানে ধূমপান নিষিদ্ধ।

আবর্জনা নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলার জন্য প্রতিটি রাস্তায় বাঁশের তৈরি ডাস্টবিন রয়েছে । এমনকি পচনশীল পদার্থ নির্দিষ্ট জায়গায় গর্ত করে ফেলা হয় এবং পরবর্তীতে তা জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। গ্রামকে পরিচ্ছন্ন রাখতে এখানে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হয়। কেউ যদি নিয়ম লঙ্ঘন করেন তাকে গ্রামপ্রধান শাস্তি দিয়ে থাকেন।


পরিচ্ছন্নতার জন্য এখানে রয়েছে বিশেষ নিয়ম। প্রত্যেককে বাধ্যতামূলক তার বাড়ির আশেপাশের কম্পাউন্ড এবং রাস্তা পরিষ্কার রাখতে হয়। এখানে শিশুদেরকে চার বছর বয়স থেকেই পরিচ্ছন্নতার শিক্ষা দেয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় পরপর শিশুদের নিয়ে হয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বৃক্ষরোপণ এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ।

পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার জন্য রয়েছে নির্দিষ্ট রুটিন এবং প্রত্যেককে তার দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়। ভলেন্টিয়ার এর মাধ্যমে এই সমস্ত বিষয় গ্রামপ্রধান নিজে তদারকি করে থাকেন।
এশিয়ার সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর হওয়ার কারণে, এটি টুরিস্টদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় একটি স্থান। টুরিস্টদেরকেও পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি বিশেষভাবে মাথায় রাখতে হয়। কেউ যদি আবর্জনা যেখানে সেখানে ফেলেন তার জন্য তাকে মোটা অংকের জরিমানা দিতে হয়।

এই গ্রামে আরেকটি বিশেষ স্থান হল “লিভিং রুট ব্রিজ” বা গাছের শিকড়ের তৈরি ব্রিজ। বৃহদাকার রাবার গাছের শিকড় দিয়ে তৈরি ব্রিজটি ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

কলাম লেখক  : মারিয়া তাওহিদ।

আরও সংবাদ

Back to top button