জাতীয়

স্পিডবোট যাত্রীরা মাথায় আঘাত পেয়ে সবাই নিহত

মাদারীপুর  প্রতিনিধি:

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ জন সবাই মাথায় আঘাত পেয়ে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আযহারুল ইসলাম। বুধবার দুপুরে শিবচরের কাঁঠালবাড়িতে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

এ সময় তিনি বলেন, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া ঘাটে প্রচুর অব্যবস্থাপনা রয়েছে। এতে দক্ষিনাঞ্চলের যাত্রীদের হয়রানী ও ভোগান্তি হয়। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত যাত্রীদের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। নানা ত্রুটি-বিচ্যুতি উঠে এসেছে। কোন প্রশিক্ষন ছাড়া এই নৌরুটে একটিও নৌযান চলতে পারবে না, প্রত্যেক চালককে রেজিষ্টেশনের আওতায় আনা হবে, এ ব্যাপের তদন্ত কমিটির সুপারিশ থাকবে। এই ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করার সুপারিশও থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসন বরাবর পেশ করা হবে।

এ সময় তদন্ত কমিটির বাকি সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, শিবচর থানার পরিদর্শক আমির হোসেন সেরনিয়াবাত, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌনিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাৎ হোসেন, কাঁঠালবাড়ি নৌপুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ কোষ্টগার্ড নারায়নগঞ্জের স্টেশন কমান্ডার লেফট্যানেন্ট আসমাদুল ইসলাম।

সোমবার ভোরে মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাট থেকে ৩২ জন যাত্রী নিয়ে মাদারীপুরের শিবচরের বাংলাবাজার ঘাটে ছেড়ে আসে একটি স্পিডবোট। কাছাকাছি কাঁঠালবাড়িতে আসলে ঘাটে নোঙর করে রাখা বালুবোঝাই বাল্কহেডের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে স্পিডবোটটি উল্টে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস, কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশ। এ সময় জীবিত উদ্ধার করা হয় ৫জনকে। পরে ঘটনার অনুসন্ধানে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি। যা তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। এদিকে এই ঘটনায় কাঁঠালবাড়ি ঘাটের নৌপুলিশের এসআই লোকমান হোসেন বাদী হয়ে শিবচর থানায় ঘাটের ইজারাদার শাহআলম খান, চালক শাহআলম, স্পিডবোটের দুই মালিক চান্দু মিয়া ও রেজাউলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

Related Articles

Back to top button
Close