মুক্তমত

দেশ এখন উন্নয়নশীল তবে- সেলিম রায়হান

আমরা আনন্দিত যে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের অবস্থান থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের সুপারিশ পেয়েছে। বাংলাদেশ প্রথম ২০১৮ সালে এবং দ্বিতীয় ২০২১ সালে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের জন্য তিনটিই মানদণ্ডই  সফলভাবে পূরণ করেছে। বাংলাদেশ ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে পরিচিত হবে।

 

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সুবিধার মধ্যে যে বিষয়গুলি বেশি আলোচনা করা হয় তার মধ্যে আছে দেশের ইমেজ বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সিগুলি দ্বারা দেশে বিনিয়োগের জন্য উচ্চতর রেটিং এর সম্ভাবনা বৃদ্ধি, এবং বৃহত্তর পরিসরে বিদেশী বিনিয়োগকে আকর্ষণ করতে পারা।

 

তবে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ কোনও “সর্বরোগ নিরাময়ের” বিষয় নয়। এই উত্তরণের সাথে বাংলাদেশের জন্য বেশ কয়েকটি ঝুঁকির কারণ রয়েছে। বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে যে সব দেশে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পায় সে সব দেশে বাংলাদেশের রফতানির বড়  ধরণের  হ্রাস হতে পারে। এছাড়াও, স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে নিজের দেশে আমদানি  শুল্ক ও কৃষি ও শিল্প খাতে ভর্তুকি দেয়ার বিষয়ে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার অনেক চুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ কিছু ছাড় উপভোগ করে।  এ ছাড়াও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার বাণিজ্য সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব আইন এর বেশ কিছু ছাড় বাংলাদেশ ঔষধশিপ্ল উপভোগ করে।  এই সকল ছাড় উত্তরণের শেষে আর পাওয়া যাবে না।

 

এটি উল্লেখ করাও গুরুত্বপূর্ণ যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরনের সম্ভাব্য সুবিধাগুলিগুলির অনেকগুলিই “স্বয়ংক্রিয়” নয় কারণ এই সুবিধাগুলি বাস্তবায়নে দেশকে অনেক বেশি কাজ করতে হবে। বিপরীতে, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার সাথে সাথে প্রায় সমস্ত ঝুঁকিই  হ’ল “স্বয়ংক্রিয়”। তাই এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশকে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পুনরুদ্ধারের জন্য কোভিড -১৯ এর বিরুদ্ধে লড়াই একটি কঠিন কাজ। দেশের বিনিয়োগ পরিবেশের বড় ধরণের উন্নয়ন প্রয়োজন।  এছাড়াও, পরিবর্তিত বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি অনেক বেশি প্রতিকুল। এসমস্তই নির্দেশ করে যে আগামী দিনগুলিতে বাংলাদেশকে তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় গনতানুগতিকতার বাইরে বেশকিছু ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টা করতে হবে।

 

We are delighted that Bangladesh gets the UN recommendation for graduating from LDC status. Bangladesh has successfully met all three criteria for LDC graduation both in the first (in 2018) and the second (in 2021) reviews. Bangladesh will graduate from the LDC status in 2026.

 

Benefits of graduation from the LDC status are cited to include an improved country-image and higher rating for investment by international rating agencies which may attract larger foreign direct investment.

 

However, LDC graduation is not a panacea. There are several risk factors for Bangladesh associated with its graduation from the LDC status. The loss of exports in the markets, where Bangladesh enjoys duty-free markets access as an LDC, can be sizeable. Also, many of the exemptions of WTO provisions, including the cut in tariff and subsidies and adherence to intellectual property rights (especially for the pharmaceuticals sector), which are currently enjoyed by Bangladesh as an LDC, will no longer be available after graduation.

 

It is also important to mention that many of the prospective benefits of LDC graduation are not “automatic” as the country has to work quite a lot to materialise those benefits. In contrast, almost all of the possible losses would be “automatic” as soon as the country graduates from the LDC status. Therefore, the country has to prepare itself over the next five years to counter these challenges. The fight against COVID-19 for economic and social recovery is a daunting task. The country’s investment environment needs major development. Also, the changing global and regional scenarios appear to be much more challenging. All these suggest that Bangladesh has to make some extraordinary efforts in its economic and social development process in the days to come.

আরও সংবাদ

Back to top button