জাতীয়স্বাস্থ্য

গাইবান্ধায় চিকিৎসা সেবা বন্ধ

গাইবান্ধা  প্রতিনিধি  : নার্সকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে বহি:বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ 

চিকিৎসক ও নার্সকে লাঞ্চিত করার প্রতিবাদে আজ বুধবার সকাল থেকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের বহি:বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মবিরতি পালন করছেন। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীরা ফিরে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রের মৃত্যু হলে ছাত্রের আত্মীয়-স্বজনরা ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ এনে চিকিৎসককে লাঞ্চিত ও দুই নার্সকে মারধর করে। এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ সকাল ৯টা থেকে হাসপাতালের বহি:বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা কাজ করছেন না।

চিকিৎসক ও নার্সদের দাবী, যতক্ষণ পর্যন্ত হামলাকারিদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা কর্মস্থলে ফিরবে না।

পুলিশ ও হাসপাতাল সুত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নের বেপারিপাড়া গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র হাসিব মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে রাত সাড়ে আটটটার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর ছাত্রের শরীরে ইনজেকশন পুশ করা হয়। এতে তার মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্দ হয়ে ছাত্রের আত্মীয়-স্বজনরা সেসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক সুজন পাল ও নার্স আরতি দেবী এবং স্বপ্না সরকারের ওপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে লাঞ্চিত ও মারধর করে।

এই ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার সকাল থেকে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের বহি:বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীরা ফিরে যাচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা গাইবান্ধা শহরের পলাশপাড়া এলাকার নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সকাল সাড়ে ১০টায় ছোট ছেলেকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু গিয়ে দেখি হাসপাতালের জরুরী বিভাগ বন্ধ। ছাত্রের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মেহেদী ইকবাল বলেন, যদি ভুল চিকিৎসায় কোনো রোগীর মৃত্যু হয় তাহলে রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা আমাকে অভিযোগ দিতে পারতো। আইনের আশ্রয় নিতে পারতো। কিন্তু তারা তা না করে চিকিৎসক ও নার্সের ওপর হামলা চালায় লাঞ্চিত করে। এটা বেআইনী। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি। তিনি বলেন, চিকিৎসক নার্সদের অনুরোধ করার পরও তারা বহি:বিভাগে চিকিৎসাসেবা বন্ধ রেখেছেন।

মৃত ছাত্রের আত্মীয়-স্বজনদের দাবী, ভুল চিকিৎসায় আমাদের রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর প্রতিবাদ করলে চিকিৎসক ও নার্সের লোকরা আমাদেরকে হাসপাতাল থেকে তাড়িয়ে দেয়।

আরও সংবাদ

Back to top button