আন্তর্জাতিক

ইরানের ওপড় আর্থিক চাপ লোঘবের উপায় খুজছেন বাইডেন

ইরানের উপর আর্থিক চাপ লাঘবের উপায় খুঁজছে বাইডেন l

মুহাম্মদ শোয়াইব :: আমেরিকান “ব্লুমবার্গ” সংস্থা জানিয়েছে, মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন প্রশাসন তেল নিষেধাজ্ঞাসহ বড় ধরনের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে না নিয়ে তেহরানের উপর আর্থিক চাপ কমিয়ে আনার উপায় নিয়ে ভাবছেন।

 

সংস্থাটি চারটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এই বিষয়ে মার্কিন সরকারের অন্যতম বিকল্প হলো ইরানকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল থেকে সহায়তা করা। এর মাধ্যমে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের অর্থনৈতিক মন্দার সাথে লড়াই করতে সক্ষম হবে দেশটি।

 

সূত্রমতে, বাইডেন প্রশাসন যে অপশনটি বিবেচনা করছে তা হলো নিষেধাজ্ঞাগুলো  শিথিল করা যাতে করোনার সাথে সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সাহায্যগুলো ইরানে পৌঁছতে পারে।

 

এজেন্সিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, “এই জাতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ মানবিক কারণে হতে পারে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানি তেল বিক্রিতে যে নিষেধাজ্ঞাগুলো রয়েছে তা মার্কিন সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেনি।”

 

লক্ষণীয় যে, গত বছরে তেহরান করোনার ভাইরাস মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কাছ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার সহায়তা চেয়েছিল।

 

ইরানের উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশেষত তেল রফতানির ক্ষেত্রে যে অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল সহায়তা পেলে তা লাঘবে কিছুটা কাজে আসবে। কারণ তেল রপ্তানি ইরানের প্রধান আয়ের উত্স।

 

২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে মোট লোকসানের পরিমাণ ছিল ১৫০ বিলিয়ন ডলার।

 

২০১৮ সালে মে মাসে পারমাণবিক চুক্তি থেকে একতরফা প্রত্যাহারের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তেলের রফতানি বন্ধ করার লক্ষ্যে একই বছরের ৫ নভেম্বর ইরানের উপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ ইরানি ব্যাংকগুলো এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করে। যার ফলে তেহরানের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ আর ঢেড় বেড়ে যায়।

 

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে অনেক দেশ ইরানের সাথে তাদের বাণিজ্যিক লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছে এবং তেহরান থেকে তেল কেনা বন্ধ করে দিয়েছে।

 

বাইডেন প্রশাসন এই চুক্তিতে ফিরে যেতে চায়। তবে একই সাথে ইরানকেও তা মেনে চলার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে তেহরান ওয়াশিংটনের এই চুক্তিতে প্রথমে ফিরে আসার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে।

 

তবে সৌদি আরবের নেতৃত্বে উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যে কোনও নতুন আলোচনায় অংশ নিতে চায়।

তথ্য সূত্র : আল খলীজ অনলাইন

আরও সংবাদ

Back to top button