জাতীয়

গণমানুষের বন্ধু অতিরিক্ত আইজিপি রুহুল আমিন সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত

দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেছে পরিবার

 

আরিফ আহমেদ মুন্নাপুলিশ সম্পর্কে জনগণের নেতিবাচক ধারণা সুদীর্ঘকালের। খাকি পোশাকে লাঠি হাতে শাসকের পরিবর্তে সেবক হওয়া এবং জনগণের আস্থা অর্জন করা খুব সহজ কাজ নয়। পুলিশ বাহিনীতে যে অল্প সংখ্যক কর্মবীর নিজের দক্ষতা ও মানবীয় গুণাবলীর দ্বারা আমজনতার হৃদয় জয় করে হয়ে উঠেছেন মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতীক, তাদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এস.এম রুহুল আমিন লিটু।

জনগণের সত্যিকারের বন্ধু সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশ পুলিশের সেই মহৎপ্রাণ অতিরিক্ত আইজিপি এস.এম রুহুল আমিন লিটু সস্ত্রীক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জ্বরের উপসর্গ নিয়ে গত ১০ নভেম্বর তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার (৫১) প্রথমে কোভিড-১৯ পজেটিভ হন। পরদিন জ্বর বেড়ে গিয়ে রক্তের অক্সিজেন মাত্রা কমে গেলে তাকে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে প্রথম কোনো উপসর্গ দেখা না গেলেও শরীরে হালকা জ্বর অনুভব করায় গত ১৬ নভেম্বর কোভিড-১৯ পরীক্ষায় অতিরিক্ত আইজিপি এস.এম রুহুল আমিন লিটুর শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরদিনই তাকে পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে এই দম্পতি ঢাকার কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এস.এম রুহুল আমিন লিটুর শারীরিক অবস্থা অনেকটা স্থিতিশীল থাকলেও রক্তে অক্সিজেন মাত্রা কমে গিয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন তার স্ত্রী নাসিমা আক্তার। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের আশু রোগমুক্তিতে বরিশালসহ দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পুলিশের আইকন এস. এম রুহুল আমিনের বাড়ি গোপালগঞ্জের সদর থানায়। তার ডাক নাম লিটু। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সুবেদার মেজর মরহুম এস.এম আব্দুল খালেকের সুযোগ্য সন্তান। শিক্ষা জীবনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে অনার্স এবং মাস্টার্স পাশ করেন। তিনি ১৯৯০ সালে ১২তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে ১৯৯১ সালের ২০ জানুয়ারি সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগদান করেন। নিজের মেধা, দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা ও মানবিকতায় অনন্য এস.এম রুহুল আমিন লিটু অল্পদিনের মধ্যেই মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনে সক্ষম হন। কর্মক্ষেত্রে তিনি হয়ে ওঠেন সকলের প্রিয়জন।

২০০৩ সালের ৩১ মার্চ তিনি রাজবাড়ী জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে ২ বছর দায়িত্ব পালনকালে রাজবাড়ী জেলার সন্ত্রাস দমন এবং মাদক উদ্ধারে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এরপরে তিনি ঝালকাঠির পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করে সেখানেও অপরাধীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কে পরিনত হন। অপরাধ দমনের পাশাপাশি তিনি মানবসেবার নতুন দিগন্তের সূচনা করেন। পুলিশি হয়রানি রোধ এবং বিভিন্ন মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে পুলিশকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করে নেন তিনি।

এরপরে তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার, সিলেট জেলার পুলিশ সুপার, ঢাকায় সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি এবং রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। বিগত ২০১৬ সালে তিনি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার হিসেবে যোগদান করে বরিশালে পুলিশি সেবার নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেন।

বরিশালে প্রায় আড়াই বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি নগরীর আইনশৃংখলার উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখেন। একদিকে কঠোর হাতে বিভিন্ন অপরাধ দমনের পাশাপাশি নিজের বিনয়ী আচরণ এবং মানবীয় গুণাবলীর দ্বারা নগরবাসীর কাছে হয়ে ওঠেন আস্থা ও ভালোবাসার শেষ ঠিকানা। দুষ্টের দমন এবং শিষ্টের পালন নীতিতে অনন্য সফলতা দেখিয়ে বরিশালবাসী হৃদয় জয় করে নেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের পাশাপাশি বরিশালের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।

বিএমপি কমিশনার থেকে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে পদোন্নতিজনিত বদলি হয়ে এইচআরএম বিভাগের দায়িত্ব নেন। পরবর্তীতে গত ৯ নভেম্বর অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (এডিশনাল আইজিপি) হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর গৌরব এই চৌকস আইকনিক হিরো এস.এম রুহুল আমিন লিটু। তার পদোন্নতির খবরে বরিশালবাসীর মতোই আনন্দে আপ্লূত হয়ে পড়ে চাকরিজীবনে দায়িত্ব পালন করা তার প্রতিটি কর্মএলাকার সর্বস্তরের অসংখ্য মানুষ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুলিশি সেবার পাশাপাশি প্রায় ৩০ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনে তিনি বাংলাদেশের হয়ে কাজ করেছেন জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আইভরিকোস্ট ও দক্ষিন সুদানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। নিজের অসাধারণ মেধা, দক্ষতা ও নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি বিদেশের মাটিতেও সুনাম অর্জন করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন।

আরও সংবাদ

Back to top button