মুক্তমতরাজনীতি

৪২ বছর পরে রাজনৈতিক শামসুল হকের মৃত্যু রহস্য

একজন ভাষা সৈনিক এর করুন মৃত্যু

 

এখনই সময়   :   শামসুল হক। আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্টাতা সাধারন সম্পাদক,একজন ভাষা সৈনিক, একজন সুবক্তা,রাজনীতিবিদ ।

 

১৯১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি টাংগাইল জেলার দেলদুয়ার থানার মাইঠান গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন।১৯৩৮ সালে মেট্রিক পাশ করেন।

১৯৪০ সালে টাংগাইল করটিয়া সাদত কলেজ থেকে আই এ পাশ করেন।

১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম এ পাশ করেন।

 

১৯৪৫ সালে হোসেন শহীদ সোহরা উয়ার্দী ও আবুল হাশিমের মুসলিমলীগের ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের জন্য ঢাকায় আঞ্চলিক অফিস খোলা হলে শামসুল হককে দপ্তর পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়।

 

১৯৪৭ সালের ৬ এবং ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্টিত পুর্ব বাংলা কর্মী সম্মেলনে মিলিত হয়ে ” গনতান্ত্রিক যুব লীগ” প্রতিষ্টা করেন। শামসুল হক সভাপতি নির্বাচিত হন।

 

১৯৪৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় দক্ষিন পুর্ব এশিয়ার যুব সম্মেলনে যোগ দেন।

 

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্টভাষা বাংলার দাবীতে শামসুল হক গ্রেফতার হন, পরে মুক্তি পান।

 

১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ সন্ধ্যায় শামসুল হক ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে ঢাকায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর সাথে সাক্ষাৎ করে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্টভাষা ঘোষনার প্রতিবাদ করেন।বাংলাকে রাষ্টভাষার যুক্তি তুলে ধরেন।

 

১৯৪৯ সালের ২৬ এপ্রিল টাংগাইলের নাগরপুর- মির্জাপুর- বাসাইল আসনের উপনির্বাচনে ওয়ার্কাস ক্যাম্পের প্রার্থী হিসেবে সরকার দলীয় মুসলিমলীগের প্রার্থী করটিয়ার জমিদার খুররম খান পন্নীকে পরাজিত করে সমগ্র পাকিস্তানে তাক লাগিয়ে দেন।

 

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকা রোজ গার্ডেনে ” পুর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ ” গঠন করা হলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারন সম্পাদক, শেখ মুজিবুর রহমান,  খন্দকার মোশতাক আহমেদ, একে রফিকুল আলম যুগ্ম সাধারন সম্পাদক, ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে ৪০ সদস্য কার্যকরি কমিটি গঠন করা হয়।

 

শামসুল হক  পুর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের কর্মী সম্মেলনে ” মুলবাদী” নামে একটি মুদ্রিত পুস্তিকায় লিপিবদ্ধ করে সম্মেলনে পাঠ করেন। এ মুলবাদীই প্রথম খসড়া ম্যানিফেস্টো রুপে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়।

 

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক আমতলায় ছাত্রদের সভা শুরুতে শামসুল হক উপস্থিতি হন এবং আন্দোলনে যোগ দেন।

 

১৯৫২ সালের ১৯ মার্চ ভাষা আন্দোলন করায় শামসুল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা জেলে পাঠানো হয়।

পাকিস্তান সরকারের অত্যাধিক অত্যাচার ও তার স্ত্রী অধ্যাপিকা আফিয়া খাতুনের উচ্চ বিলাসিতার  কারনে শামসুল হকের মস্তিস্ক বিকৃতি ঘটে।

 

১৯৫৩ সালে মানসিক অসুস্থতা নিয়ে জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন।

 

শামসুল হক বিয়ে করেন নরসিংদীর সিকান্দর মাষ্টারের কন্যা, ঢাকা ইডেন কলেজের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপিকা আফিয়া খাতুনকে। অধ্যাপিকা আফিয়া খাতুন ছোট দুই মেয়ে সন্তানকে নিয়ে স্বামীকে অসুস্থ অবস্থায় ফেলে রেখে  আমেরিকায় পাড়ি জমান। আমেরিকায় এক পাকিস্তানী নাগরিককে বিয়ে করে আফিয়া খাতুন থেকে আফিয়া দিল হয়ে যান।

 

১৯৫৩ সালে ঘরোয়া ষড়যন্ত্রের পরিনতিতে  শামসুল হককে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়,যার ফলশ্রুতিতে তিনি চিরকালের জন্য মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।

 

চিকিৎসা কোন উদ্যেগ  নেয়া হয় নাই। সারাদিন ঢাকা শহরের রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। কখনো বন্ধু- বান্ধবদের বাড়ীতে উপস্থিত হয়ে টাকা ধার চাইতেন,কেউ সমাদর করলে আহার করতেন। একটানা দশ বছর  পাগল অবস্থায় ঢাকা শহরের রাস্তায় রাস্তায়  ঘুরেছেন।

 

১৯৬৪ সালে হঠাৎ শামসুল হক নিখোঁজ হয়ে যান।

 

১৯৬৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে টাংগাইলের কালিহাতী থানার জোকারচর গ্রামের তৎকালীন সময়ের নামকরা কংগ্রেস নেতা মহিউদ্দিন আনসারী পাগল অবস্থায় শামসুল হককে নিজ বাড়ীতে নিয়ে আসেন। ৭ দিন থাকার পর হঠাৎ খুব জ্বর হয়। স্থানীয় হোমিও চিকিৎসক শুকলাল দাস তাঁর চিকিৎসা করেন।

 

১৯৬৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুর ২ টার সময় রাজনীতিবিদ শামসুল হক মৃত্যুবরন করেন।

 

কদিমহামজানি কবরস্থানে শামসুল হককে দাফন করা হয়। আওয়ামীলীগ ও কংগ্রেসের রাজনীতি বিপরীতমুখী অবস্থানের কারনেই বিতর্ক এড়াতে শামসুল হকের মৃত্যুর কারন গোপন রাখা হয়।

 

২০০৭ সালে অর্থাৎ দীর্ঘ ৪২ বছর পর ” শামসুল হক গবেষনা পরিষদ” টাংগাইল জেলার কালীহাতী থানার কদিমহামজানিতে শামসুল হকের কবর আবিষ্কার করেন।

 

শামসুল হকের বড় মেয়ে ডঃ উম্মেবতুল ফাতেমাজ জহুর শাহীন এবং ছোট মেয়ে ডঃ  উম্মেবতুল তাহেরা সোয়েফা আমেরিকায় গবেষনা প্রতিষ্টানে কর্মরত। দুজনই বিবাহিত।

 

পাকিস্তান সরকারের নির্যাতন,আওয়ামীলীগ থেকে বহিষ্কার, অধ্যাপিকা স্ত্রীর মানসিক নির্যাতন, মস্তিস্ক বিকৃতি, নিখোজ হওয়া,অকাল মৃত্যুর রহস্য দীর্ঘদিন ধরে উন্মোচিত হয়নি।

 

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদকের কী করুন পরিনতি!  মারা গেলেন পিপীলিকার মতো।

 

Courtesy : Khandaker Ashrafuzzaman

আরও সংবাদ

Back to top button