জাতীয়

করোনা উপসর্গ নিয়ে দেশে ১৮৭৪ জনের মৃত্যু

এখনই সময় :

দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে ১৮৭৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত দেশে করোনার উপসর্গ নিয়ে ১৬৯৬ জনের মৃত্যু হলেও সর্বশেষ দুই সপ্তাহে সেই সংখ্যা কিছুটা কমেছে। পাঁচ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৭৮ জনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ১১ থেকে ১৮ জুলাই সময়ের মধ্যে করোনা উপসর্গে দেশে ৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে বিপিও’র ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের (সিজিএস) গবেষণা প্রকল্প বিপিও দেশে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে প্রতি সপ্তাহে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে এই তথ্যচিত্র প্রকাশ করে আসছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে করোনা উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে। বিভাগটিতে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে মোট ৫৮৮ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা বিভাগে করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩৮০ জনের। ওই সময়ের মধ্যে করোনা উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যায় এরপর পর্যায়ক্রমে রয়েছে খুলনা বিভাগ (২৫১ জন), বরিশাল বিভাগ (২২৩ জন), রাজশাহী বিভাগ (১৯৪ জন), সিলেট বিভাগ (৯৭ জন), রংপুর বিভাগ (৮২ জন) এবং সবার শেষে ময়মনসিহংহ বিভাগ (৫৯ জন)। বাংলাদেশ পিস অবজারভেটরি-বিপিও-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

বিপিও’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনার কারণে অপমান ও সামাজিকভাবে হেয় করার ২৩৪টি ঘটনা ঘটেছে। করোনায় আক্রান্ত না হয়েও মেডিক্যাল পেশজীবীদের কাছ চিকিৎসা পাননি ৬৭ জন ব্যক্তি। করোনায় মৃত্যুর কারণে মৃতদেহ দাফন বা শেষকৃত্য করতে অস্বীকারের ঘটনা ঘটে ৬০টি। করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় বাড়ি থেকে বিতাড়িত করা হয় ১২ জনকে, পরিবারছাড়া হন ৪৬ জন এবং মেডিক্যাল পেশাজীবী সংক্রান্ত হয়ারানির ১৯টি ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া হয়রানি ও অপমানের শিকার হন ১৩ জন এবং আত্মহত্যা করেন দুজন।

এ পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসের কারণে ১১ জুলাই পর্যন্ত ১৩৭টি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৫৫৩ জন আহত এবং ২০ জন নিহত হয়। সর্বশেষ জুন মাসে করোনাজনিত কারণে সংঘটিত ১৬ সংঘর্ষের ঘটনায় ৯২ জন আহত এবং পাঁচজন নিহত হয়েছে।

করোনাকালীন ত্রাণ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির জন্য ১১ জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১১১ জন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এদিকে ত্রাণ আত্মসাৎ, মানহীন গ্লাভস, মাস্ক, পিপিই, অক্সিজেন সিলিন্ডার বিক্রি, খাদ্যে ভেজাল, দুর্নীতি এবং করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘনের মতো অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত মোট ৫৯১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে ১১ হাজার ৮৯৯ জনকে। করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর ৮৫টি ঘটনায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ৮৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সবচেয়ে বেশি ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ঢাকা বিভাগ থেকে আর সবচেয়ে কম ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে রাজশাহী বিভাগ থেকে।

করোনাভাইরাসের কারণে মস্তিষ্কবিকৃতি সংক্রান্ত ১৩৪টি ঘটনা ঘটেছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরমধ্যে করোনার উপসর্গ নিয়ে আইসোলেশনে থাকা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া কিংবা করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আত্মহত্যা করা, করোনায় আক্রান্ত এলাকা থেকে অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হওয়া, করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় পুরো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনা মহামারির প্রতিবন্ধকতা ভেঙে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে আসার প্রবণতা আগের চেয়ে বাড়লেও ৪ থেকে ১১ জুলাইয়ের চেয়ে পরবর্তী সাত দিনে (১১-১৮ জুলাই পর্যন্ত) ২০ শতাংশ কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ২০৫৫টি ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে করোনার সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ২৩৬টি বিক্ষোভ হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৪ শতাংশ বিক্ষোভ হয়েছে বকেয়া বেতনে ও ঈদ বোনাসের দাবিতে। এ ছাড়া ত্রাণসামগ্রী ও খাদ্য সহায়তার দাবিতে প্রতিবাদ হয়েছে ২২ শতাংশ। ১২ শতাংশ করে প্রতিবাদ হয়েছে লকডাউনের নিয়মের প্রতিবাদে, বাড়িভাড়া-টিউশন ফি কমানো, কর্ম থেকে ছাঁটাই, কারখানা বন্ধ ও বেতন কমানো এবং পর্যাপ্ত ও মানসম্পন্ন চিকিৎসাসামগ্রীর দাবিতে। চার শতাংশ করে বিক্ষোভ হয়েছে অনিয়মিতভাবে ত্রাণ বিতরণ এবং গণপরিবহনের ভাড়া কমানোর দাবিতে।

আরও সংবাদ

Back to top button