সারাদেশ

টাঙ্গাইলে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যা, মূল হোতা গ্রেপ্তার

এখনই সময় :

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার চাঞ্চল্যকর চার খুনের প্রধান আসামিকে মো. সাগর আলীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১২। আজ রবিবার তার নিজ বাড়ি থেকে র‌্যাব সদস্যরা তাকে আটক করে।

র‌্যাবের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টাঙ্গাইলের মধূপুর উপজেলার মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল গনিসহ তার পরিবারের আরো তিনজন সদস্যকে ১৫ জুলাই ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে করে হত্যা করা হয়।

১৭ জুলাই সকাল বেলা আব্দুল গনির বাসা থেকে দুর্গন্ধ বের হলে তার শাশুড়ি এলাকার লোকজনের মাধ্যমে দরজা ভেঙে ভেতরে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড দেখতে পায়।

নিহতরা হলেন- আব্দুল গনি (৪৫), তার স্ত্রী তাজিরন বেগম (৩৮), পুত্র তাজেল (১৭) ও ছোট কন্যা সাদিয়া (৮)।

ঘটনার পর থেকে র‌্যাব-১২ সকল প্রকার গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৮টায় হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি মধূপুর উপজেলার ব্রাক্ষণবাড়ি গ্রামের মগবর আলীর ছেলে মো. সাগর আলীকে (২৭) নিজ বসতবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে সে হত্যাকাণ্ডের সত্যতার কথা স্বীকার করে জানায়, নিহত আব্দুল গনি সুদের ব্যবসা করত। আসামি সাগর আলীর সঙ্গে পূর্ব থেকেই সুদের লেনদেন ছিল।আসামি বেশ কয়েকবার সুদের টাকা দিতে ব্যর্থ হয়। গত মঙ্গলবার আব্দুল গনির কাছে পুনরায় ২০০ টাকা জন্য গেলে তাকে অনেক বকাঝকা করে তাড়িয়ে দেয়। এতে সাগর অপমান বোধ করলে তার অপর এক সহযোগীকে নিয়ে হত্যা এবং টাকা-পয়সা ও সম্পদ লুণ্ঠনের পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী সাগর তার সহযোগীকে নিয়ে ওই দিন দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভুক্তভোগী গনির বাসায় যায়। যাওয়ার পূর্বে সাগরের সহোযোগী বাজার থেকে চেতনানাশক নিয়ে যায়।

আসামি ভুক্তভোগীর পূর্বপরিচিত হওয়ায় খুব স্বাভাবিকভাবে বাসায় ঢোকার অনুমতি পায়। আকস্মিকভাবে চেতনানাশক ব্যবহার করে খুনিরা গনিকে অচেতন করে। পরিবারে সবাই ঘুমে থাকায় অচেতন করতে সহজ হয়। সবাইকে ঠান্ডা মাথায় ভুক্তভোগীর বাসায় ব্যবহৃত কুড়াল ও আসামিদের ব্যবহৃত ধারাল অস্ত্র দিয়ে প্রত্যেককে কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

গৃহ ত্যাগ করার পূর্বে বাসার মূল্যমান জিনিসপত্র নিয়ে খুনিরা পলায়ন করে এবং বাসার বাহির থেকে তালা মেরে দিয়ে যায়। আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আসামির বোনের বাড়ি মধূপুর উপজেলার ব্রাক্ষণবাড়ি (মজিদ চালা) থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারাল চাকু ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। অপর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করতে র‌্যাব-১২ এর অভিযান চলমান রয়েছে।

আরও সংবাদ

Back to top button