রাজনীতি

মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে জামায়াত নেতা আজহারের রিভিউ আবেদন

এখনই সময় :

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দাখিল করেছেন।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আজহারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এ আবেদন দাখিল করেন।

অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ২৩ পৃষ্ঠার রিভিউ আবেদনে ফাঁসির দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে ১৪টি যুক্তি দেখানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৫ মার্চ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহালের রায় প্রকাশ করেন আপিল বিভাগ। রায় প্রকাশের পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামিরা রিভিউ করার জন্য ১৫ দিন সময় পেয়ে থাকেন। কিন্তু করোনার কারণে নিয়মিত আদালত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এতদিন রিভিউ করতে পারেননি আজহার। রোববার থেকে ভার্চুয়ালি আপিল বেঞ্চে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কাশিমপুর-২ কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন আজহার।

বিশিষ্ট ফৌজদারি বিশেষজ্ঞ সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, এটিএম আজহারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আরও দুটি ধাপ রয়েছে। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে ট্রাইব্যুনালের রায় বহাল থাকায় এখন রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) ও রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষাই একমাত্র পথ। এখানে বিফল হলে তাকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতেই হবে।

সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের বিশেষ অধিকার রয়েছে। সেই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে কোনো দণ্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করার এবং যে কোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকবে।’

আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করার পর যদি নামঞ্জুর হয়, তাহলে কারা কর্তৃপক্ষ জেলকোড অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবেন।

গত বছরের ৩১ অক্টোবর আজহারুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে দুই নম্বর, তিন নম্বর এবং চার নম্বর অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পেয়েছেন আজহার। এছাড়া পাঁচ নম্বর অভিযোগে অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণসহ অমানবিক অপরাধের দায়ে ২৫ বছর ও ছয় নম্বর অভিযোগে নির্যাতনের দায়ে ৫ বছর কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয় ।

আপিল বিভাগের রায়ে ২, ৩, ৪ (সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে) ও ৬ নম্বর অভিযোগের দণ্ড বহাল রাখেন। আর ৫ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়। পরে এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আজহারুল।

আরও সংবাদ

Back to top button