সারাদেশ

ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে, রেলের বগীতেই পেতেছেন সংসার

এখনই সময় :

ছবি দেখে মনে হবে ছোট বাচ্চাটি মায়ের কাছে কোনো কিছুর জন্য আবদার করছে। হয়তো বা ক্ষুধা লেগেছে তাই এই আকুতি মাখা মুখ। আসলে বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেলে কোথাও কোনো নিরাপদ আশ্রয় না পেয়ে এই পুরনো রেলের পরিত্যক্ত বগীতে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ নিয়েছে এই বানভাসি পরিবার।

দেওয়ানগঞ্জ রেল স্টেশনের মালবাহী ট্রেনের বগীতে চলছে তাদের সংসার। সেখানে গিয়ে দেখা গেল বগীর নিচে থই থই পানি তিন সন্তান নিয়ে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এক মাঝ বয়সী নারী। তিন সন্তানের আহাজারি, কান্নাকাটি আর চুলা ধরানোর প্রস্তুতি চলছিল। দুপুর গড়িয়ে যাচ্ছে। ৩ বছর বয়সী ছেলে ক্ষুধার জন্য কান্না করছিল।

এ মাসের ১৪ তারিখে বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরুপায় হয়ে এখানেই এসে কিছুটা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পেয়েছিলেন উপজেলার গুজিমারি থেকে আসা অসহায় পরিবারটি। তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে জানা যায়, খাদ্য আর পানির সংকট। ছোটখাটো এই জায়গায় থাকতে তাদের চরম কষ্ট হচ্ছে। তার ওপর বাড়িঘর ছেড়ে এখানে এসেছেন সেই বাড়িঘরের চিন্তায় প্রতিমুহূর্তে অস্থির থাকতে হয়।

এদিকে গত দুদিনে বন্যার পানি অনেকটা কমতে শুরু করেছে। শনিবার বিকেল নাগাদ বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বন্যার পানি বিপদসীমার ১১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ডুবে যাওয়া বিভিন্ন সড়ক এবং উঁচু উপস্থাপনা থেকে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়া কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ত্রাণ তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আজ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের উপস্থিতিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানের দুর্গত অঞ্চলে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয় এবং কোনো দুস্থ মানুষ যেন ত্রাণসামগ্রী থেকে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আরও সংবাদ

Back to top button