সারাদেশ

রাজশাহীতে এলাকাবাসীকে নিয়ে সীমান্ত পাহারায় বিজিবি

এখনই সময় :

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিহ্রাস এবং দেশীয় প্রাণিসম্পদ ও খামারিদের বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সীমান্ত পথে ভারতীয় গবাদিপশুর চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ভারতীয় গবাদিপশু আমদানি ঠেকাতে এলাকাবাসীকে নিয়ে সীমান্তে পাহারা দিচ্ছে বিজিবি।

রাজশাহীস্থ-১ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফেরসৌস জিয়াউদ্দিন আহমেদ বলেন, ঈদের আগে ভারতীয় গরু মহিষ আসলে খামারি ও গবাদিপশু পালনকারী হাজার হাজার মানুষ গরু-মহিষের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হবেন। পাশাপাশি গরু আনতে বা নিতে গিয়ে সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে নিরীহ রাখালদের প্রাণ যাচ্ছে। এছাড়া করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি তো রয়েছেই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গবাদিপশু আমদানির আড়ালে ভারত থেকে অনেকেই মাদক ও আগ্নেয়াস্ত্রের চালানও নিয়ে আসে। এ কারণে বিজিবি সীমান্তে চলাচল আগের চেয়ে কঠোর করেছে। কারণ চোরাচালানের কারণেই সীমান্তে অধিকাংশ বিশৃঙ্খলা ঘটে। সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সহায়তায় ভারতীয় গরু চোরাচালান বন্ধে রাজশাহীর সকল সীমান্তে পাহারা বসিয়েছে বিজিবি।

সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাজশাহীসহ উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তে ভারতীয় গরু-মহিষ আমদানির জন্য বিট/খাটাল অনুমোদন দেয়। দেশীয় প্রাণিসম্পদ বিকাশে চলতি বছর প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সীমান্তে বিট/খাটাল অনুমোদন না দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনা মোতাবেক রাজশাহী ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনারসহ সীমান্ত এলাকার সকল জেলা প্রশাসককেও চিঠি দেওয়া হয়। তাই এবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সীমান্তে বিট/খাটাল অনুমোদন দেয়নি। তারপরও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে কোনো কোনো সীমান্ত পথে সীমিত পরিসরে ভারতীয় গরু-মহিষের চোরাচালান চলছিল।

রাজশাহীর চরখিদিরপুর সীমান্তের বাসিন্দারা জানান, নদী ভাঙন এলাকা হওয়ায় এই অঞ্চলে কাঁটাতারের বেড়া দিতে পারেনি ভারতীয় সরকার। বর্তমানে পদ্মায় পানি থাকায় ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে বিজিরি চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীপথে ভারতীয় গরু-মহিষ আমদানির চেষ্টা করছিল চোরাচালান সিন্ডিকেট। এ কারণে বিজিবি রাত জেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে।

বিজিবি সূত্রে জানায়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁর সীমান্তে বিজিবি’র সমন্বয়ে স্থানীয়দের ১৬ সদস্যের চোরাচালান প্রতিরোধ ও সীমান্ত পাহারা কমিটি করা হয়েছে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত কমিটির সদস্যরা সীমান্ত পাহারায় বিজিবিকে সহযোগিতা করবে।

আরও সংবাদ

Back to top button