আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে আর কোনো সুযোগ দেবে না উত্তর কোরিয়া

এখনই সময় :

শত্রুতাপূর্ণ নীতি থেকে সরে না আসলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের কথিত সুসম্পর্ক আর ধরে রাখার প্রয়োজন দেখছে না পিয়ংইয়ং। ওয়াশিংটনের থেকে যথেষ্ট সাড়া না পাওয়ায় এ সম্পর্ক এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে বলে জানিয়েছেন উত্তর কোরীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি সন-গুয়োন।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ’কে তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে উন্নত সম্পর্কের যে আশা বাতাসে উড়েছিল তা এখন হতাশায় পরিবর্তিত হয়েছে। এমনকি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি-সমৃদ্ধির জন্য আশার একটা সূক্ষ্ম রশ্মিও অন্ধকার দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে।’

এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রি সন গুয়োন বলেন, আর কখনো মার্কিন প্রধান নির্বাহীর কাছ থেকে কোনো কিছু ফেরত না নিয়ে তাকে আরেকটি কৃতিত্ব অর্জনের প্যাকেজ দেয়া হবে না। শূণ্য প্রতিজ্ঞার চেয়ে ভণ্ডামির আর কিছু হতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ঠেকাতে উত্তর কোরিয়া সেনাবাহিনীকে আরো শক্তিশালী করা হবে বলেও বিবৃতিতে বলেন রি সন গুয়োন। তবে উত্তর কোরিয়া সরকারের পক্ষ থেকে বিবৃতি দেয়ার পর এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নকে বরাবরই নিজের অন্যতম অর্জন বলে প্রচার করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আগামী নভেম্বরেই ফের নির্বাচনে লড়তে যাচ্ছেন তিনি।

তবে এবার বিনিময়ে কিছু না পেলে অর্জনের দাবিযোগ্য আর কোনও কিছু ট্রাম্পকে দেয়া হবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন কোরীয় মন্ত্রী।

বছর দুয়েক আগে সিঙ্গাপুরে যে হাত ধরাধরি শুরু করেছিলেন ট্রাম্প-কিম, তা এখনও ধরে রাখার দরকার আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এ নেতা।

২০১৮ সালে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে উত্তর কোরিয়ার নেতার সঙ্গে সিঙ্গাপুরে বৈঠকে বসেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরের বছর হ্যানয়ে আবারও বসেন তারা। এর মধ্যে বেশ কয়েকবার চিঠি চালাচালি, ‘বন্ধু, বন্ধু’ বলে মুখে ফেনা তুললেও কাজের কাজ হয়নি কোনোটাই।

যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার ওপর থেকে কোনও নিষেধাজ্ঞা তোলেনি। কোরিয়াও তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধি থামায়নি। ফলে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রচারণা ছাড়া একপ্রকার বিফলেই গেছে এ সম্পর্ক।

এবার পুনর্নিবাচনের আগে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এমন কড়া বার্তায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর বেশ চাপ তৈরি হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আরও সংবাদ

Back to top button