সারাদেশ

করোনায় টালমাটাল কুমিল্লা

এখনই সময় :

নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণে টালমাটাল হয়ে পড়েছে কুমিল্লা। জেলায় প্রতিদিনই লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, ঘটছে প্রাণহানি। এরই মধ্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকাসহ জেলার ১৭টি উপজেলায় কভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬০৪ জনে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকা মৃত্যুও ছাড়িয়ে গেছে অর্ধশত (অন্তত ৬০ জন)।

এ ছাড়া প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে একাধিক মৃত্যুর তথ্য মিলছে কুমিল্লায়। সবশেষ বুধবার (১০ জুন) কুমিল্লায় ৮৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এ দিন জেলায় করোনার সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে মারা যায় চারজন। তার আগের দিন মঙ্গলবার কুমিল্লায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৮। সংক্রমণ-উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মূলত গেলো ১০ দিন যাবৎ কুমিল্লায় লাফিয়ে বাড়ছে কভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে ঘটছে প্রাণহানিও। জেলা সিভিল কার্যালয়ের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী বুধবার পর্যন্ত কুমিল্লা জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬০৪ জন। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৪৯ জন। অবশ্য জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রদত্ত মৃত্যুর এ তালিকা ছাড়াও আরো অন্তত ১২ থেকে ১৫ জনের মৃত্যুর তথ্য মিলেছে এ জেলায়। যাদের অনেকে কুমিল্লায় আক্রান্ত হয়ে জেলার বাইরে মারা গেছেন; আবার অনেকে জেলার বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লায় এসে মারা গেছে। মারা যাওয়া এসব ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করে না জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সে হিসেবে কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৬০ জন।

এ ছাড়াও প্রতিদিনই করোনায় আক্রান্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে কুমিল্লায়। গেল ৫ দিনে (শনিবার সকাল থেকে বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত) কুমিল্লায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে করোনার সংক্রমণ ছিল অন্তত ১৮ জনের শরীরে। সবশেষ বুধবার (১০ জুন) মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা মেডিক্যালের আইসোলেশনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন দুজন এবং উপসর্গ নিয়ে আরো দুজন মারা গেছে। তার আগের দিন মঙ্গলবার করোনায় দুজন, উপসর্গ নিয়ে মারা যান আরো চারজন। এ ছাড়াও কুমিল্লায় সোমবার ছয়জন, রবিবার পাঁচজন এবং শনিবার অন্তত ১৫ জন করোনাভাইরাসের লক্ষণ-উপসর্গ নিয়ে মারা যান। এ দিন (৬ জুন শনিবার) মারা যাওয়া ১৫ জনের মধ্যে সাতজনই ছিলেন করোনা আক্রান্ত। গত ৫ দিনে কুমিল্লায় মারা যাওয়া ৩৬ জনের মধ্যে ২২ জনই কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সাজেদা খাতুন। এ ২২ জনের মধ্যে ১২ জন কভিড আক্রান্ত ছিলেন বলে জানান তিনি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লায় প্রথমন করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৯ এপ্রিল। পরদিন ১০ এপ্রিল থেকে কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। আর সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক সে লকডাউন তুলে নেওয়া হয় ৩১ মে। মূলত এ দিন থেকেই কুমিল্লায় কভিড সংক্রমণ লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। ৩১ মে কুমিল্লায় প্রথম একদিনে শতাধিক করোনা রোগী (১০৪) শনাক্ত হয়। এরপর আরো দুই দিন এক শ’র অধিক (৪ জুন ১০৫ এবং ৫ জুন ১১৬ জন) করোনা রোগী শনাক্তের তথ্য দেয় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। সবশেষ বুধবার আক্রান্ত হন আরো ৮৯ জন। আর এভাবে বাড়তে বাড়তে কুমিল্লায় ১০ জুন পর্যন্ত কডিভ-১৯ আক্রান্ত রোগী সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ১৬০৪ জনে। এর মধ্যে জেলা ও জেলার বাইরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন অন্তত ৬০ জন।

কুমিল্লাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনার সংক্রমণ ও সেই সাথে বাড়তে থাকা মৃত্যু প্রসঙ্গে কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন মো. সাহাদাত হোসেন বলেন, কুমিল্লা জেলায় যত রোগী শনাক্ত হচ্ছে, অনেক বিভাগেও এত রোগী নেই। এই জেলায় হু হু করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কমিউনিটিতে এটি সংক্রমিত হওয়ার কারণে শনাক্তের সংখ্যাও বাড়ছে।

আক্রান্ত রোগী ও মৃতের সংখ্যা প্রসঙ্গে ডা. সাহাদাত হোসেন বলেন, কুমিল্লার বাসিন্দা যারা ঢাকায় কিংবা অন্যা জেলায় থাকেন এবং সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান, তাদের সংখ্যা কুমিল্লা জেলার তথ্যে আসে না। এটা ঢাকায় হিসাব রাখা হয়। আমরা কেবল কুমিল্লায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর তথ্যই সংগ্রহ করি।

আরও সংবাদ

Back to top button