সারাদেশ

চাল ডিলারের পরিবারতন্ত্র, আত্মীয়দের নামেই ৫০ রেশন কার্ড!

এখনই সময় :

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা দর কেজির চাল বিতরণতালিকায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ফেয়ার প্রাইসের ডিলারের বিরুদ্ধে নিকট আত্মীয়দের নামে ৫০টি রেশন কার্ড অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডিলার জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠে।

বুধবার (১৩ মে) সকালে ডিলারের এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন জাবেদ আলী, ছক্কু মিয়া ও রাজ্জাক নামের তিন ভুক্তভোগী। এতে আরো দরিদ্র আটজনের নাম থাকলেও তাদের সেই কার্ড না দিয়ে ডিলার নিজেই চাল তুলে আত্মসাৎ করেন।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ডিলার জাহিদুল ইসলাম গত তিন বছর ধরে তার নিকটতম আত্মীয়-স্বজনের নামে ৩০টি রেশন কার্ড অন্তর্ভুক্ত করেন। এসব কার্ডের চাল তুলে তা কালো বাজারে বিক্রি করতেন। এ ছাড়াও তালিকায় আরো আটজন দরিদ্র মানুষের নাম থাকলেও তাদের কাছে রেশন কার্ড হস্তান্তর করেনি। সে সব নামে চাল তুলে নিজেই আত্মসাৎ করতেন ওই ডিলার। বিষয়টি জানাজানি হলে সুবিধাভোগীদের কাছে রেশন কার্ড পৌঁছে দেন তিনি। এরপর স্থানীয়রা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার আরো ৩০ জন নিকট আত্মীয়-স্বজনসহ মোট ৫০ জনের রেশন কার্ডে নাম আছে। পরে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে ওই ডিলারের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের নামের তালিকা সংযুক্ত করা হয়। এতে ডিলার জাহিদুলের মা-বাবা, ভাই-বোন, চাচা-চাচি, ভাতিজা-ভাতিজি ও তায়োই-মায়োইয়ের নাম রয়েছে। এমন ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দোষী ডিলারের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ডিলার জাহিদুল ইসলাম দীর্ঘ দিন থেকেই তার আত্মীয়-স্বজনের নামে রেশন কার্ড করে চাল তুলে আত্মসাৎ করেন। এমনকি অনেকের নাম থাকলেও তাদের সেই কার্ড না দিয়ে নিজেই চাল তুলে কালো বাজারে বিক্রি করেন। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। তাদের দাবি দ্রুত ওই ডিলারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী লুতফুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ওই ডিলারের অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button
Close