আন্তর্জাতিক

‘কাশ্মীরে জঙ্গিবাদ বিস্তারে লস্কর বাহিনী আবারো সংঘবদ্ধ’

এখনই সময় :

গত বছরের অক্টোবরে কাশ্মীরের শ্রীনগরে একটি বাজারে গ্রেনেড বিস্ফোরণে কয়েকজন বিক্রেতা আহত হয়েছিল। এ হামলার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দেয়ে অজ্ঞাত এক জঙ্গি সংগঠন দ্যা রেজিস্টান্ট ফ্রন্ট (টিআরএফ)। সেসময় সিকিউরিটি এজেন্সিগুলো এটাকে ‘দুর্বৃত্তদের কাজ’ বলে চিহ্নিত করে শহরে অবরুদ্ধ জোরদার করে।

এ ঘটনার ছয় মাস পরে, কাশ্মীরকে জঙ্গিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করে নতুন এই দলটি। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে এদের সঙ্গে লড়াইয়ে ভারতের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, এই জঙ্গি সংগঠনটি লস্কর-ই-তৈয়বার সম্মুখভাগ। এরা অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে একত্রে কাজ করছে। শুধুমাত্র এদের নামটি নতুন।

জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী বিরোধী অভিযানের এক বিশেষজ্ঞ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর, কাশ্মীরের নির্বাচনী এলাকা থেকে কিছু করার জন্য চাপ ছিল পাকিস্তানের। আর এর মাধ্যমেই কাশ্মীরে জঙ্গিদের আধিপত্য বিস্তার হয়।’

এই পুলিশ কর্মকর্তা দাবি করেন, টিআরএফ হলো মূলত লস্কর-ই-তৈয়বাকে দেওয়া পাকিস্তানের নতুন নাম।

তিনি বলেন, ‘লস্কর ও জয়েশ-ই-মোহাম্মদের ধর্মীয় ভাবনা ছিল। যেটা পাকিস্তান চায়নি। পাকিস্তান চেয়েছিলো কাশ্মীরে জঙ্গিবাদকে ধর্মনিরপেক্ষ করতে এবং এটিকে আদিবাসী হিসেবে চিহ্নিত করতে। তাই তারা ‘প্রতিরোধের’ পক্ষ বেছে নিয়েছিলো। যার নামে বৈশ্বিক রাজনীতিতে কিছু মুদ্রা রয়েছে।’

টিআরএফের শক্তিশালী জঙ্গি গোষ্ঠী হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রথম লক্ষণ তখনই দেখা যায়, যখন কাশ্মীরের সোপোর জেলায় জঙ্গিদের আস্তানা খুঁজে পায় পুলিশ। তখন কেরানের নিয়ন্ত্রণ রেখায় জঙ্গিদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে পুলিশ। সেসময় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া জঙ্গি সদস্যরা বলে, নতুন দলের জন্য তারা যুবকদের সংগ্রহ করছিলো। হিজব ও জাইশের অবস্থান নেওয়ার আগে শহরের এই উপত্যকাটি লস্করের ঘাঁটি ছিল।

এর দুই সপ্তাহ পরে, জম্মু-কাশ্মীরে কুপওয়ারা জেলার কেরানে জঙ্গিদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে সেনাবাহিনীর কর্নেল ও মেজরসহ নিরাপত্তা বাহিনীর পাঁচ সদস্য নিহত হন। যা ছিলো বেশ কয়েক বছর পর কেরানে বড় কোনো বন্দুকযুদ্ধ। এ ঘটনায় পাঁচজন টিআরএফ জঙ্গিও মারা যায়।

এর এক সপ্তাহ পরে, টিআরএফ জঙ্গিরা সোপোরে একটি আধাসামরিক বাহিনীকে টার্গেট করে। এরপর কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) তিন সদস্যকে হত্যা এবং দুজনকে আহত করে। পরে এ হামলার দায় স্বীকার করে টিআরএফ।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এই দলের জঙ্গি সদস্যরা স্থানীয় জঙ্গিদের মত নয়। তারা কঠোর প্রশিক্ষণ পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যতদূর আমরা জানি, তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করার আগে কমপক্ষে ছয় মাস প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আশ্চর্যের বিষয় হলো স্থানীয় জঙ্গিরাও পাকিস্তানে বেশ প্রশিক্ষিত।’

সূত্র জানায়, টিআরএফের সঙ্গে যুক্ত বেশিরভাগ স্থানীয় জঙ্গি প্রশিক্ষণের জন্য বৈধ ভিসায় ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে পাকিস্তান পার হয়ে গেছে। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

Related Articles

Back to top button
Close