সারাদেশ

চট্টগ্রামে আটকে আছে ৯০০ নমুনা রিপোর্ট!

এখনই সময় :

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশনে থাকা ২৮ রোগীর মধ্যে ২৪ জনের করোনাভাইরাস পজেটিভ পাওয়া গেছে। করোনাসন্দেহে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন অপর ৪ জনের নমুনা সংগ্রহ কয়েকদিন আগে হলেও এখনো পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ‘ফ’ কর্ণার অ্যান্ড অবজারভেশন সেন্টারে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও গত ৫ থেকে ৬ দিন ধরে ৯ জন রোগী রিপোর্টের অপেক্ষায়। সর্বশেষ আজ শনিবার ওই সেন্টারে চিকিৎসাধীন আরও ৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

সবমিলে আজ বিকেল পর্যন্ত সেখানে (চমেক হাসপাতাল) নমুনা পরীক্ষা করা মোট ১৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে এসব রোগী ও তাদের স্বজনরা জানতে পারছেন না করোনা পজেটিভ নাকি নেগেভিট।

শুধু সরকারি এই দুইটি হাসপাতালই নয়, চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে ৯ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অনেকেই করোনাভাইরাস পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগর ও জেলাসহ বিভাগের বিভিন্ন জেলার অন্তত ৯০০ জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আটকে আছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসে (বিআইটিআইডি)। চট্টগ্রামে করোনার একমাত্র এ পরীক্ষাকেন্দ্রে চিকিৎসকসহ লোকবল সংকট ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে এসব রিপোর্ট বিলম্বিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ঠরা জানান।

এদিকে সর্বশেষ গত ৪৮ ঘণ্টার (গত শুক্রবার রাত পর্যন্ত) মধ্যে চট্টগ্রামে এক পুলিশ কর্মকর্তার করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক জানান, এ তথ্যে অনেকের মনে হতে পারে চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও সেভাবে রিপোর্ট পাওয়া যাচ্ছে না। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশন, চমেক হাসপাতালের ফ্লু কর্ণার অ্যান্ড অবজারভেশন সেন্টার, বিআইটিআইডিসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে আসা অনেক নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে বিলম্ব হচ্ছে। এতে করে রোগীর ও তাঁদের স্বজনদের যেমন অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে তেমনি, হাসপাতালের চিকিৎসকসহ কর্মকর্তারা চিন্তিত বলে জানা গেছে।

রিপোর্ট আটকে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিআইটিআইডির মাইক্রোবায়োলজী বিভাগের প্রধান ডা. শাকিল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের এখানে করোনার পরীক্ষা শুরুর পর থেকে গতকাল (শুক্রবার) পর্যন্ত এক মাসে প্রায় ৩২০০ মতো নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে প্রায় ২৩০০ রিপোর্ট আমরা সম্পন্ন করলেও প্রায় ৯০০ মতো রিপোর্ট করা যায়নি। প্রতিদিনই বিভাগের ব্রাক্ষণবাড়িয়া ও কুমিল্লা ছাড়া অপর ৯টি জেলা থেকে নমুনা আসছে। আগে (করোনার পরিস্থিতির আগে) আমাদের ল্যাবে টিবিসহ বিভিন্ন রোগের গড়ে দৈনিক ২৫-৩০টি পরীক্ষা করা হতো। কিন্তু একই ল্যাবে এখন দৈনিক প্রায় ২০০ পরীক্ষা করা হচ্ছে। লোকবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৯০০ রিপোর্ট করার অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সীমিত সংখ্যাক লোকবল দিয়ে সর্বোচ্চ দৈনিক ২৫০টি পর্যন্ত রিপোর্ট করতে পারবো। এরবেশি করতে হলে লোকবল বাড়ানোর পাশাপাশি আরও ইক্যুপমেন্ট জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। এখন আমরা দুই শিফটে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করছি। তারপরও এসব রিপোর্ট পেণ্ডিং আছে।

জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. অসীম কুমার নাথ কালের কণ্ঠকে বলেন, আমাদের এখানে আইসোলেশনে থাকা ২৮ জনের মধ্যে ২৪ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। অপর ৪ জনের রিপোর্ট এখনো না পাওয়ায় আজকে আমি বিআইটিআইডিতে আলাপ করেছি। তারা জানিয়েছেন পেণ্ডিং রিপোর্টগুলো দ্রুত দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন চট্টগ্রাম নগর ও জেলা, তিন পার্বত্য জেলা, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুরে, কক্সবাজার ও চাঁদপুর জেলা থেকে বিআইটিআইডিতে (চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটস্থ) করোনা (কভিড-১৯) পরীক্ষার জন্য নমুনা আসছে। গত ২৫ মার্চ তিনজনের নমুনা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে ৯ জেলার একমাত্র ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। সর্বশেষ গত কয়েকদিন ধরে দৈনিক গড়ে সাড়ে তিনশ পর্ষন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহ দিনে দিন বাড়ছে কিন্তু নানা সংকট ও সীমাবদ্ধতায় পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ঠরা জানান।

এদিকে গত ২৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্ষন্ত মোট ৩১ দিনে প্রায় ৩২০০ নমুনা সংগ্রহের পর রিপোর্ট করা হয়েছে প্রায় ২৩০০। এরমধ্যে ৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়। আবার তাদের ৪৪ জনই চট্টগ্রাম নগর ও জেলার রোগী।

Related Articles

Back to top button
Close