ব্যবসা

দেশের প্রায় ৫৪ লাখ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী পথে বসবেন, করণীয় কী?

এখনই সময় :

করোনার এই মহামারীতে ব্যবসা-বাণিজ্য ধসের মুখে পড়েছে। ছোট থেকে বড় শিল্প- সবই হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা এই বিপর্যয় থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে হিমশিম খাবেন বলে মনে করছেন অনেকে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা না পাওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। করোনার প্রভাবে সারা দেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১৬টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী। প্রণোদনার টাকা রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক প্রতিষ্ঠান-পিকেএসএফের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে দেয়ার দাবিও জানিয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন জানান, সারা দেশের ৫৩ লাখ ৭২ হাজার ৭১৬টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদ্র, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা একেবারে শেষ হয়ে যাবেন। তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পাবেন না। কারণ প্রণোদনার শর্তে বলা হয়েছে- ব্যাংকে যাদের ঋণ আছে, তারা সেই ঋণের ৩০ শতাংশ পাবেন। কিন্তু ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের পছন্দ না করলে ঋণ দেবে না। ব্যাংকগুলো সবসময় বড় ব্যবসায়ীদের পছন্দ করে। তাদের শত শত কোটি টাকা দিলেও খুচরা ব্যবসায়ীদের কয়েক লাখ টাকা দিতে আগ্রহী নয়। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দেবে না ব্যাংক। কাজেই তাদের হাতে প্রণোদনাও পৌঁছবে না। তিনি এসব শিল্পের জন্যে একটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। বলেন, এসব শিল্পে কর্মরত প্রতি কর্মচারীর গড় মাসিক বেতন ১৫ হাজার টাকা হিসাবে, তাদের আংশিক বেতন হিসেবে সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা প্রদানের জন্য ওই ঋণ তহবিল গঠনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করছি। এই তহবিল থেকে ক্ষুদ্র, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা বিনা সুদে ঋণ পাবেন। প্রাপ্ত ঋণ থেকে কর্মচারীদের জীবিকানির্বাহের ব্যবস্থা করা হবে।

উইমেন এন্টারপ্রেনিয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ওয়েব সভাপতি নাসরিন আউয়াল মিন্টু জানান, কয়েক লাখ নারী উদ্যোক্তাকে বাঁচাতে কমপক্ষে এক বছরের জন্য ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করতে হবে। গ্রামীণ জনপদে অতি ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তারা ত্রাণও পাচ্ছেন না। এমন পরিস্থিতিতে সারা দেশের নারী উদ্যোক্তারা সহায়তা না পেলে বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনায় সব ক্ষতিগ্রস্ত নারী উদ্যোক্তার অধিকার আছে। কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয় এখনো নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠনগুলো নিয়ে কোনো বৈঠক করেনি। সরকার যে প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তার প্রাপ্তি সব নারী উদ্যোক্তার জন্য নিশ্চিত করতে হবে। নারী উদ্যোক্তারা এখন সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদ মনে করেন, ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে কমপক্ষে ছয় মাসের ব্যাংক ঋণের সুদ, কর, বিদ্যুৎ বিল, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলোর দোকান ভাড়া মওকুফ করতে হবে। তিনি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঋণ দিতে চায় না। তাই রাষ্ট্রীয় ব্যাংক ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন-পিকেএসএফের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে সরকার ঘোষিত প্রণোদনার টাকা প্রকৃত ক্ষুদ্র, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের প্রদান করা হোক। সরকারের প্রদান করা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা সত্ত্বেও কুটির, এমএসএমই খাতের ব্যবসায়ীদের ঋণ প্রাপ্তি সহজতর নাও হতে পারে। বেশির ভাগ কুটির, এসএমই, এমএসএমই এবং নগদ লেনদেননির্ভর ব্যবসাসমূহ ঋণ প্রাপ্তির আবশ্যকীয়তা পূরণের অভাবে অথবা বৃহৎ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো ব্যাংকের সঙ্গে খুব একটা ভালো সুসম্পর্ক থাকে না। ফলে প্রণোদনার টাকা থেকে ঋণ প্রাপ্তিতে সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন ব্যবসায়ীরা। নতুন উদ্যোক্তা, যাদের ব্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ দুই বছর বা তারও কম, তাদের ব্যবসার পুনর্নিবন্ধন ফি, গ্যাস, বিদুৎ ও পানির বিল, ব্যাংক সংক্রান্ত অন্যান্য চার্জ এবং আমদানি, রপ্তানি সংক্রান্ত বন্দরের চার্জসমূহ মওকুফ করা হোক। এই ব্যবসায়ীদের দুই বছরের জন্য পুনরর্থায়ন স্কিমের আওতায় এক শতাংশ সুদে চলতি মূলধন হিসেবে ‘ব্যবসায় পুনরুদ্ধার তহবিল’ প্রদান করা হোক।

Related Articles

Back to top button
Close