ব্যবসালিড নিউজ

কারখানা খোলার অনুমতি

সচল হোক অর্থনীতি

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সাধারণ ছুটি ৫ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে ৬ মে বুদ্ধপূর্ণিমার সরকারি ছুটি থাকায় কার্যত ৬ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি থাকবে। সাধারণ ছুটির সময় ওষুধ ও রপ্তানিমুখী শিল্পের কারখানা শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার শর্তে চালু রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ছুটির প্রজ্ঞাপনে শিল্পকারখানা খোলার বিষয়ে যে ছাড় দেওয়া হয়েছে তা সুবিবেচনাপ্রসূত ও অভিনন্দনযোগ্য। স্মর্তব্য, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে সারা দেশে সরকার-ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলছে। প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর আরও তিন দফায় এ ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয় ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পঞ্চম দফায় আরও ১০ দিন সাধারণ ছুটির মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার। এবারের ছুটির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনা করে পরবর্তীতে শিল্পকারখানা, কৃষিসহ উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলো এবং পরিবহন পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করা হবে। এর আগে সোমবার জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে এক ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী রোজার মাসের মধ্যে সীমিত আকারে গার্মেন্টসহ কিছু শিল্পকারখানা চালুর আভাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের তিন দিনের মাথায় সীমিত আকারে ও শর্তসাপেক্ষে ওষুধ ও রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানা চালু রাখার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। করোনাভাইরাস রোধে সঙ্গনিরোধ বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই। তবে দেশের উৎপাদনব্যবস্থা যাতে ভেঙে না পড়ে, সাধারণ মানুষের জীবিকার পথ যাতে রুদ্ধ না হয় সেদিকেও নজর রাখা জরুরি। গত এক দশকে বাংলাদেশ দরিদ্র থেকে নিম্নমধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। করোনার অভিশাপ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের জিডিপি প্রবৃদ্ধির দেশ হিসেবে দুনিয়াজুড়ে নন্দিত হয়েছে। কিন্তু এক মাসের সাধারণ ছুটিকালে দেশের অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে তার পরিমাণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। উৎপাদনব্যবস্থা দ্রুত শুরু করা না গেলে দরিদ্রতা করোনাভাইরাসের চেয়েও বড় অভিশাপ হয়ে নেমে আসবে। এ প্রেক্ষাপটে ওষুধ ও রপ্তানিমুখী শিল্প শর্ত মেনে চালু রাখার সিদ্ধান্ত খুবই যৌক্তিক। আমরা আশা করব, অন্যান্য দেশের অনুকরণে কীভাবে করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি অর্থনীতি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল রাখার কৌশল অবলম্বন করা যায় সেদিকেও নজর দেওয়া হবে।

Related Articles

Back to top button
Close