সারাদেশ

অবশেষে ‘পা বিচ্ছিন্ন’-খুনের ঘটনায় মামলা, আসামি ১৫২

এখনই সময় :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের থানাকান্দি গ্রামে প্রতিপক্ষের নৃশংস হামলায় (পা বিচ্ছিন্ন) নিহত রিকশাচালক মোবারক মিয়া (৪৫) খুনের ঘটনায় অবশেষে ১৫২ জনকে আসামি করে নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনার ছয় দিন পর শুক্রবার রাতে নিহতের চাচাতো ভাই চাঁন মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

তবে এ হত্যা মামলায় পার্শ্ববর্তী বীরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কবির আহমেদকে ‘প্রধান আসামি’ করা হলেও আলোচিত এ মামলায় বিবাদমান দুই গ্রুপের একটি গ্রুপের দলনতো কাউছার মোল্লাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় একটি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবু কাউছারকেও এ মামলায় ৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনাম আরো ১৫০ জনকে মামলায় আসামি দেখানো হয়।

এদিকে ঘটনার ছয় দিন পর দায়ের হওয়া বহুল আলোচিত এ মামলায় অন্য একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ‘প্রধান আসামি’ করায় এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনার ঝড় ওঠেছে।

এ বিষয়ে প্রধান আসামি পাশ্ববর্তী বীরগাঁও ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান কবির আহমেদ আজ কালের কণ্ঠকে বলেন, এটি একটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলা। মূলত আমি আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি বাদল ভাইয়ের আদর্শের রাজনীতি করি বিধায় বর্তমান এমপি বুলবুল সাহেব আমাকে হয়রানি করতেই পার্শ্ববর্তী একটি ইউনিয়নে সংঘটিত একটি খুনের ঘটনায় সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্র করে আমাকে মামলায় প্রধান আসামি করিয়েছেন। আর এসব ষড়যন্ত্রের মূলে আছে গত ইউপি নির্বাচনে আমার সাথে নৌকা প্রতীক নিয়ে পরাজিত হওয়া স্থানীয় এমপির ঘনিষ্ঠজন সাংবাদিক জহির রায়হান।

তবে গাজী টিভির ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক জহির রায়হান অভিযোগ অস্বীকার করে কালের কণ্ঠকে বলেন, চেয়ারম্যান কবিরই এর মূল নায়ক। সে দীর্ঘদিন ধরে পাশের ইউনিয়নে বসে পরিকল্পিতভাবে ব্যক্তিস্বার্থে এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা জিইয়ে রেখে নানা ফায়দা লুটে আসছে। মূলত সে ছিল কৃষকদল নেতা। সে এলাকায় আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করতেই মূলত আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। তার বাবা এখনও বিএনপির বড় নেতা।

স্থানীয় সংসদ সদস্য এবাদুল করিম বুলবুল কালের কণ্ঠকে আজ সন্ধ্যায় বলেন, বাদী মামলায় কাকে আসামি করবে, সেটিতো সম্পূর্ণ বাদীর এখতিয়ার। এ ছাড়া মামলায় আসামি হলেই যে তিনি দোষী হবেন, তদন্তে সেটি প্রমাণিত না-ওতো হতে পারে। আমি পুলিশকে সাফ বলে দিয়েছি, এ মামলায় যেন কোনো নির্দোষ লোক অযথা হয়রানির শিকার না হয়। তবে এ ঘটনার সাথে যেসব রাঘব-বোয়ালরা জড়িত আছে, তাদেরকে খুঁজে বের করতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন বলেন, ১৫২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা হলেও তদন্তে এজাহারভুক্ত কারো সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে, কাউকেই ন্যূনতম হয়রানি করা হবে না। তিনি জানান, এর মধ্যে ২ নম্বর আসামিসহ এ মামলার এজাহারভুক্ত ৯ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।

প্রসঙ্গত, এলাকায় গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও এলাকার সর্দার আবু কাউছার মোল্লার সশস্ত্র লোকজনের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জের ধরে গত ১২ এপ্রিল দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে প্রায় অর্ধশত লোক আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে কাউছার মোল্লার পক্ষের লোকজন পৈশাচিকভাবে প্রতিপক্ষের রিকশাচালক মোবারক মিয়ার (৪৫) একটি পা কেটে কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে। পরে ওই পা হাতে নিয়ে গ্রামে ‘আনন্দ মিছিল’ করে দাঙ্গাবাজরা। গুরুতর আহত মোবারক চার দিন পর গত ১৫ এপ্রিল মারা যান।

Related Articles

Back to top button
Close