লাইফষ্টাইললিড নিউজ

মানুষের খাবারের কষ্টের কথা শুনলে চোঁখে পানি চলে আসে!

অসহায় মানুষের পাশে দাড়ান

অনলাইন ডেক্সঃ প্রতিদিন কমপক্ষে ৫-৬ জন পরিবার আমার কাছে খাবারের ব্যবস্থা করে দেয়ার কথা বলে। একটা এনজিওর ত্রান সামগ্রী বিতরন করার জন্য গ্রামে গ্রামে গিয়ে তালিকা সংগ্রহ করতে গিয়েছিলাম। কেউ কেউ খাবারের জন্য কান্না করে দিছেন। আবার কেউ কেউ চালের ড্রামের কাছে নিয়ে গেছে। আবার কেউ রুটি বানিয়ে খায় তাও দেখিয়েছেন। অসহায় বিধবা সন্তান আছে স্বামী নেই মানুষের বাসায় কাজ করতেন বর্তমানে কাজও নেই সেই মানুষগুলোর চাওয়াটা কেমন হতে পারে বলুন?

সত্যি গত দুই দিন পর্যন্ত আমার কিছু ভালো লাগেনা। কেমন যেন অসহায় পৃথিবীর রূপের ছবি ভাসছে চোঁখে।

দেখুন কাদের খাদ্যের তালিকা করলাম।।
১। বিধবা, (সন্তান আছে) মানুষের বাসায় কাজ করতো, বর্তমানে বেকার।
২। ভ্যান চালক। বর্তমান বেকার।
৩। রিক্সা চালক। বর্তমান বেকার।
৪। অটো চালক। বর্তমান বেকার।
৫। ভিখারি। বাসা থেকে বের হতে পারছেনা।
৬। দিন মজুর। বাসা থেকে বের হতে পারছেনা।
৭। খড়ি কাটা। বাসা থেকে বের হতে পারছেনা।
৮। চায়ের দোকান। দোকান বন্ধ।
৯। গার্মেন্টস শ্রমিক (এখন পর্যন্ত বেতন পাননি)। তাও ফ্যাক্টরি বন্ধ।
১০। মাটি কাটা গাড়ির হেলপার। তারাও একি অবস্থায়।
আপনারাই বলুন এদের চাওয়া কেমন হতে পারে?

আমার কিছু মানবিক কাজ দেখে অনেকে অনেক মন্তব্য করেছে কিন্তু তারা শুধু মন্তব্যই করছেন কারো পাশে দাড়াতে পারেনি।

আরে ভাই অমানুষিকতা না করে মানবিক কাজ দেখে নিজেও কিছু করুন যদি তাও না পারেন তাহলে উৎসাহিত করুন।

কি বলবেন আমি কি করেছি?
১। মহামারির শুরুতেই ৫শত এর বেশি মাস্ক বিতরন করেছি। (আমি নিজে যা পরি তা)।
২। হাত পরিষ্কার করার দুটি পানির ড্রাম সাবান বসিয়েছি তাও হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত পথে।
৩। একজন পরিবারকে ১হাজার টাকা দিয়েছি। পরিবারটির একটা মেয়ে বর্তমানে গর্ভবতী কিছুদিনের মধ্যে ডেলিভারি হবে।
৪। ১শত মাথার ক্যাপ বিতরন করেছি। (যারা আপনাদের সেবা দেয়ার জন্য ঐযে মৃত্যুর মুখে ফার্মেসীতে বসে আছে। যারা কাঁচা বাজার না আনলে আপনারাও দরকার ছাড়া ভাত খাবেন। যারা বসে আছে আপনাদের পেটে খাবার দেয়ার জন্য মুদিন দোকানী ভাইদের।
৫। অফিসের ৩৫ জন স্টাফ নিয়ে একবেলা ভালো খাবারের আয়োজন করেছি। তারা ঝুঁকি নিয়ে মানুষের সেবা দিচ্ছেন তাই বলে। সবাই বাবা-মা ছেড়ে এখানে ডিউটি করছেন কেউ কি বলতে পারেন সে আর তার বাবা-মায়ের কাছে যেতে পারবেন জীবিত আর।
৬। পাশের রুমের ১২ জন অসহায় মানুষকে একবেলা নিজ হাতে ভুনা খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ালাম। বেতন পেয়ে নিজের চলার মতন এখন একটা টাকা নেই।

৭। শেষ বিকাশে থাকা ৮শত টাকা তাও একজন বৃত্তবান মানুষকে দিয়েছি। একসময়ে সে চলতো রাজার মতন কিন্তু তার অবস্থা এখন খুব করুন। কোনদিন আমার কাছে চায়নি আজ কতটা অসহায় হয়ে আমার কাছে চোখ লজ্জা ফেলে তার কথা বলল।

যারা ঘরে বসে সমালোচনা করেন আপনাদের বলছি বিপদ আপনারও খুব নিটকে বেশীদিন বাকি নেই। তবে আমি চাইনা আপনারা কষ্টে দিন কাটান। আপনাদের জন্য মন দিয়ে দোয়া রইলো আল্লাহ যেন সবাইকে ভালো রাখেন। আপনাদের যেন হেদায়েত দান করেন। আমি নিজেও মধ্যে বৃত্ত। আমার একার রোজগারে আমার মা-বাবা, একটা এতিম ভাগিনার দেখাশোনা নিজের পড়াশোনা, নিজের চলাফেরা করতে হয়। তারমধ্যে আমার যতটুকু সম্ভব করি। এখন পর্যন্ত কারো কাছ থেকে কোন অনুদান আমি নেইনি। হ্যাঁ অনেকে আমার মানবিক কাজ দেখে টাকা দেয়ার কথা বলছে আমি সবাইকেই বলছি যদি প্রয়োজন হয় আমি বলব।

যদি কেউ এখন ঐসব অসহায় মানুষের পাশে দাড়াতে চান তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন। আমি প্রত্যেকটা পরিবারের নাম্বার আপনাদের কাছে দিয়ে দিবো। ঠিকানা মোবাইল নাম্বারসহ। তারা অনেক খারাপ অবস্থায় আছে। আপনারা আপনার আশ পাশের গ্রামের মধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ করে দেখবেন তাদের চাওয়া মাত্র আপনার চোখে পানি চলে আসবে।

মোঃ ফেরদাউছ সিকদার
০১৯১১-৪৫৩০৭২

Related Articles

Back to top button
Close